পানি এবং কাদামাটিতে একাকার হয়ে গেছে ক্যাম্পের কোন কোন জায়গা। ছবির কপিরাইট OBIDUL HOQUE CHOWDHURY
Image caption পানি এবং কাদামাটিতে একাকার হয়ে গেছে ক্যাম্পের কোন কোন জায়গা।

টানা বৃষ্টি এবং ছোট-খাটো ভূমিধসের কারণে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এখন বেহাল দশা। পানি এবং কাদামাটিতে একাকার হয়ে গেছে ক্যাম্পের কোন কোন জায়গা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, বিভিন্ন সংস্থার ত্রাণ কর্মীরা হাঁটু পর্যন্ত পানির ভেতর দিয়ে হেঁটে ক্যাম্পে ঢুকছেন এবং তাদের ত্রাণ কাজ পরিচালনা করছেন। অনেক জায়গায় রোহিঙ্গারা হাঁটু সমান উচ্চতার পানিতে দাঁড়িয়ে ত্রাণের জন্য অপেক্ষা করছেন।

বর্ষা মওসুম শুরুর আগেই স্থানীয় প্রশাসন প্রায় ৫০ হাজার রোহিঙ্গাকে চিহ্নিত করেছিল যারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করছেন।

সে তালিকার উপর ভিত্তি করে গত ১০ই জুন পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানালেন শরণার্থী ত্রাণ এবং প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনার আবুল কালাম। তিনি জানান বাকিদের সেখান থেকে সরিয়ে নেবার কাজ চলছে।

প্রশাসনের হিসেবে ৫০ হাজার মানুষের মধ্যে প্রায় অর্ধেক তীব্র ভূমিধসের ঝুঁকিতে এবং বাকি অর্ধেক বন্যার ঝুঁকিতে ছিল বলে উল্লেখ করেন শরণার্থী বিষয়ক কমিশনার। ভূমিধস এবং অতিবৃষ্টির কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোন প্রাণহানি হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ছবির কপিরাইট OBIDUL HOQUE CHOWDHURY
Image caption এর মধ্যেই ত্রাণ নিয়ে ছুটছে শরণার্থীরা।

আরো পড়তে পারেন:

প্রিয়াঙ্কার পর এবার এক মুসলিম লেখককে আক্রমণ

সৌদি নারীরা এখনও যে ৫টি কাজ করতে পারে না

চাঁদ দেখার বিষয়টি চূড়ান্ত হয় কীভাবে?

বিশ্বকাপে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন যারা

বর্ষা মওসুম শুরুর তিনমাস আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সারা বছর কক্সবাজার অঞ্চলে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়, গত তিনদিনে সেটির এক তৃতীয়াংশ হয়ে গেছে। এ থেকে বোঝা যায় বৃষ্টিপাতের মাত্রা কতটা প্রবল ছিল।

স্থানীয় সাংবাদিক ওবাইদুল হক চৌধুরী বলেছেন, বৃষ্টি এবং কাদার জন্য রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে হাঁটার কোন অবস্থা নেই। তিনি জানিয়েছেন, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাদের কর্মীদের ঈদের ছুটিও বাতিল করেছে।

গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে প্রায় পাঁচ হাজার রোহিঙ্গার বাসস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কর্মকর্তারা বলছেন।

বেসরকারি সংস্থা কোস্ট ট্রাস্ট-এর জান্নাতুল ফেরদৌস মঙ্গলবার উখিয়া ক্যাম্পের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দেখেছেন। তার বর্ণনা অনুযায়ী ক্যাম্পে ঢুকতে মূল সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে। রাস্তার দু’পাশে শরণার্থীদের অধিকাংশ ঘরে পানি ঢুকেছে।

যাদের ঘর পাহাড়ের পাদদেশে, ঢালে কিংবা উপরে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে ক্যাম্প এলাকার মধ্যে অবস্থিত ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানান জান্নাতুল ফেরদৌস।

যাদের ঘরে পানি উঠেছে তারা উঁচু জায়গায় অবস্থিত অন্য শরণার্থীদের ঘরে আশ্রয় নিয়েছে। “শিশু এবং বয়স্করা সবচেয়ে খারাপ অবস্থার মধ্যে আছে,” বলছিলেন জান্নাতুল ফেরদৌস।

গত দু’দিন যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে সেটি আরো কয়েকদিন অব্যাহত থাকলে প্রচুর ভূমিধসের আশংকা আছে বলে তিনি মনে করেন।

২০১৬ সালের অক্টোবর মাসের পরে এবং ২০১৭ সালের অগাস্ট মাসে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার পর আট লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। নতুন এবং পুরনো – সব মিলিয়ে দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গা এখন বসবাস করছে কক্সবাজারের উখিয়া এবং টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে।

ছবির কপিরাইট OBIDUL HOQUE CHOWDHURY
Image caption অনেক ঘর এমন জায়গায় তৈরি হয়েছে যা যেকোনো সময়ে পড়ে যেতে পারে।

পুরো জেলায় ৫ হাজার ৮শ একর ভূমি এখন রোহিঙ্গাদের দখলে। কৃষিজমি, পাহাড় বন উজাড় করে নির্মিত এই বসতি বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্যই এখন বিরাট ঝুঁকি তৈরি করেছে।

বর্ষা শুরুর বেশ আগে থেকেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা সতর্ক করে দিয়েছে লাখ-লাখ রোহিঙ্গা ভূমিধস, ঝড় এবং বন্যার ঝুঁকিতে আছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনার আবুল কালাম বলেন,পূর্ব প্রস্তুতি থাকার কারণে বড় ধরনের কোন বিপর্যয় ঘটেনি।

উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসরত একজন বাসিন্দা দিল মোহাম্মদ জানালেন, তিনি যেখানে বসবাস করছেন সেখানে পাঁচ শতাংশ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গারা অন্য রোহিঙ্গাদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে বলে তিনি জানান।

দিল মোহাম্মদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভূমিধস নিয়ে নানা আশংকা এবং প্রচারণা থাকার কারণে রোহিঙ্গাদের অনেকেই বৃষ্টি শুরুর সাথে সাথে সতর্ক হয়ে গেছে। তবে এখনো অনেকে ঝুঁকি-পূর্ণভাবে বসবাস করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Source from: http://www.bbc.com/bengali/news-44466635

Advertisements