নিউজিল্যান্ডের লড়াই ছাপিয়ে বাংলাদেশের জয়

0
3

ডেস্ক নিউজ:কঠিন পিচে বাংলাদেশ তুলনামূলক ভালো সংগ্রহ পেল। কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করল নিউজিল্যান্ডও।

তবে শেষে আর পেরে উঠল না সফরকারীরা। পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয়টিতে ৪ রানে জয় তুলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা।

টস জিতে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৪১ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা। জবাবে সিরিজে সমতা ফেরাতে ব্যর্থ হয় নিউজিল্যান্ড। নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৩৭ রান তুলতে সক্ষম হয় কিউইরা।

শুক্রবার মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

শুরুতেই ভাগ্যের সহায়তা পেয়েছেন লিটন দাস। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে উদ্বোধনী জুটি জড়ো করে ৫৯ রান। সবার আগে সাজঘরে ফেরেন লিটনই। তবে যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন, ছড়িয়েছেন মুগ্ধতা। উইকেট বিচারে তার ব্যাটিং ছিল সাবলীল।

৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৯ বলে ৩৩ রান করে রাচিন রবীন্দ্রর বলে আউট হন লিটন। তার বিদায়ের পরের বলে সাজঘরে ফেরেন ওয়ান ডাউনে নামা মুশফিকুর রহিম।

সাকিব আল হাসান চারে নেমে রাচিনকে হ্যাটট্রিকের সুযোগ দেননি বটে, তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি। ৬ বলে ১২ রান করে ফিরে যান সাকিব। এরপরও ওপেনার নাঈম শেখ একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলতে থাকেন।

রাচিন রবীন্দ্রকে একপা বাড়িয়ে মারতে গিয়ে লং অনে ধরা পড়েন মোহাম্মদ নাঈম। বিদায়ের আগে নাঈম তিনটি চারে ৩৯ বলে সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন।

শেষদিকে মারমুখো হয়ে ওঠেন রিয়াদ। শেষপর্যন্ত ৩২ বলে ৫টি চার হাঁকিয়ে ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৪১ রান।

নুরুল হাসান সোহান শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ৮ বলে ১৩ রান করেন। কিউইদের পক্ষে রাচিন রবীন্দ্র একাই শিকার করেন তিনটি উইকেট।

জয়ের জন্য ব্যাট করতে নেমে ভাল সূচনা করেন নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার। বাংলাদেশ দলের প্রথম সাফল্য এনে দেন সাকিব আল হাসান। ম্যাচের তৃতীয় ওভারে বোলিংয়ে এসে রাচিন রবীন্দ্রকে বোল্ড করেন সাকিব।

সাকিবের পর উইকেটের দেখা পেলেন মেহেদীও। নিজের ব্যক্তিগত দ্বিতীয় ওভারে এসেই টম ব্লান্ডেলকে বোকা বানিয়ে সোহানের স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন। ব্লান্ডেল ৮ বলে খেলে করেছেন ৬ রান। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ২৮ রান তোলে সফরকারীরা।

৭ম ওভারে আক্রমণে এসেই ছন্নছাড়া মুস্তাফিজকে দেখা গেল। অস্ট্রেলিয়া সিরিজে দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর কিউইদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে কিছুটা খরুচে হলেও দুই উইকেট তুলে নিয়ে নামের প্রতি সুবিচার করেছিলেন। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম ওভারেই দিলেন ৯ রান।

দুই উইকেট হারানোর পর কিউই অধিনায়ক টম লাথাম ও উইল ইয়াংয়ের ব্যাটে ভর করে ঘুরে দাঁড়ায় সফরকারীরা। এদিকে, পার্টনারশীপ ভেঙে বিপদ কমাতে চাইছিলেন মাহমুদউল্লাহ বাহিনীও। আর তাই ফিরিয়ে আনেন বিশ্বসেরা সাকিবকে। আস্থাও রাখলেন তিনি। জুটি ভাঙলেন সাকিব।

টম ল্যাথামের সঙ্গে উইল ইয়াংয়ের জুটি টানছিল নিউজিল্যান্ডকে। ইয়াংকে ফিরিয়ে ৪৩ রানের জুটি ভাঙলেন সাকিব। অফস্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাট চালিয়ে থার্ডম্যানে ধরা পড়েছেন ইয়াং। আউট হওয়ার আগে ২৮ বলে ২২ রান করেন। ৬১ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড।

১৩ তম ওভারে মুস্তাফিজের বলে এলবিডব্লিউর শিকার হন কলি ডি গ্র্যান্ডহোম। জোরালো আবেদনের মুখে আম্পায়ার আউটও দিয়ে দেন। কিন্তু শেষমেশ রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান এই কিউই ব্যাটসম্যান।

এদিকে, নিজের আগের ওভারে দিয়েছিলেন ১২ রান, ১৪তম ওভারে এসে আবার সাইফউদ্দিন দিলেন ১১ রান। ওভারের শেষ বলে হাঁটু গেড়ে বসে মিডউইকেটে বিশাল ছক্কা হাঁকালেন লাথাম।

সাকিবের পর ব্রেকথ্রু এনে দিলেন নাসুম আহমেদও। ২৪ রানের জুটি ভেঙে ফেরালেন কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমকে। সাবধানী ক্রিকেট খেলে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছিলেন লাথাম-গ্র্যান্ডহোম জুটি।

বাজে বলে উচিত শাস্তি আর ভালো বলে সিঙ্গেল আদায় করে ধীরে ধীরে ব্যবধান কমাচ্ছিলেন তারা। কিন্তু এদিন উইকেট শূন্য থাকা নাসুম যেন উইকেট ভাঙার পণ করেই আক্রমণে এলেন। আউট হওয়ার আগে ১০ বলে ৮ করেছেন গ্র্যান্ডহোম।

এদিকে, নাসুমের পর নিজের দ্বিতীয় শিকারের দেখা পেলেন মেহেদীও। ৫ বলে ৬ করা হ্যানরি নিকোলসকে মুশফিকের হাত ক্যাচ দিয়ে ফিরিয়েছেন। পুরো ইনিংসজুড়েই বাংলাদেশের বোলারদের সামনে বড় বাধা হয়েছিলেন কিউই কাপ্তান টম লাথাম।

অন্য পাশে সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলে একপাশ আগলে রেখেছিলেন। তবে ১৯ তম ওভারে এসে রান আউটের শিকার শিকার হতে গিয়েও সোহানের ভুলে জীবন ফিরে পেয়েছেন।

তবে লাথাম শেষ পর্যন্ত থেকেও দলকে জেতাতে পারেননি। নির্ধারিত ২০ ওভার খেলে ৫ উইকেটে ১৩৭ রান করে। লাথাম অপরাজিত ছিলেন ৪৯ বলে ৬৫ রান করে। অন্যদিকে, আরেক ব্যাটসম্যান কোল ম্যাককঞ্চি ১২ বলে করেছেন ১৫ রান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here