স্বয়ংক্রিয় ভিসা ও আকামার মেয়াদ বৃদ্ধি এবং সৌদি এয়ারলাইন্সের টিকিটের টোকেনের দাবিতে আজও রাস্তায় নেমেছেন সৌদি প্রবাসী শ্রমিকরা। তারা রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।

আজ মঙ্গলবার (২৯ শে সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সোনারগাঁ হোটেল থেকে মিছিল শুরু হয়। এর আগে সৌদি প্রবাসী শ্রমিকরা কারওয়ান বাজারের হোটেল সোনারগাঁর সামনের রাস্তায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।

এসময় সৌদি প্রবাসী শ্রমিকরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসার মেয়াদ ও ইকামা বৃদ্ধির দাবিতে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন।
সৌদি প্রবাসীদের বিক্ষোভ মিছিলের ফলে সোনারগাঁ হোটেলের সামনের রাস্তা দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সৌদি প্রবাসী শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিলসহ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন।
প্রবাসীকর্মীরা বলছেন, তাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। অনেকেরই ভিসার মেয়াদ আগামীকাল (৩০ সেপ্টেম্বর) শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি বা বিমান টিকিট রিকনফার্ম করার জন্য তারা এখনো টোকেনই পাননি।

ইমতিয়াজ হোসেন নামের এক প্রবাসী বলেন, আমি সৌদিতে একটি প্রতিষ্ঠানের ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করি। আমি কুয়েত এয়ারওয়েজের টিকিট নিয়ে দেশে ফিরেছিলাম ফেব্রুয়ারিতে। জুনে আমার ফেরার কথা ছিল। কুয়েত এয়ারওয়েজ এখনো কার্যক্রম শুরু না করায় সাউদিয়ার টিকিট নিতে এসেছি। আমার টোকেন নম্বর তিন হাজারের পরে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে আমাকে ডাকা হয়েছে। তবে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আশঙ্কায় চারদিন ধরেই আমি এখানে অবস্থান করছি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ২৪ দিন ভিসা ও আকামার মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য নির্ধারিত এজেন্সির মাধ্যমে মেয়াদ বৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে। এদিকে এজেন্সিগুলোর কাছে গেলে তারা বলছেন, এ-সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা এখনো তারা পাননি। ফলে তাদের চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে।
তারা নিরুপায় হয়ে পথে নেমেছেন। সরকারের কাছ থেকে ভিসা ও আকামার মেয়াদ বৃদ্ধি তথা তাদের সৌদি আরব ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা না পেলে রাজপথ ছাড়বেন না বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকর্মীরা।
এদিকে প্রবাসীদের ভিসা ও আকামার মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদনের জন্য ইতোমধ্যে সৌদি সরকার ১৮টি ট্রাভেল এজেন্সি নির্ধারণ করে দিয়েছে। তবে প্রবাসীরা বলছেন, এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সবার ভিসা ও আকামার মেয়াদ বৃদ্ধি করতে হবে। প্রবাসীদের ফেরাতে ইতোমধ্যে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সাউদিয়া ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ফ্লাইট সংখ্যা বাড়িয়েছে উভয় এয়ারলাইন্স। এছাড়াও বিমান প্রবাসীদের ফেরাতে সৌদির তিন শহরে মোট ১২টি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে।