বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় আজও বাস চলাচল বন্ধ আছে। শহরের অধিকাংশ জায়গায় শিক্ষার্থীরা আজও সড়কে থেকে চালকদের লাইসেন্স পরীক্ষা করেছে। বেলা দু’টায় দেখা যায় শহরের বেইলি রোড এলাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশের সদর দপ্তরের সামনে থেকে শুরু করে মগবাজার, সাতরাস্তা মোড়, নাবিস্কো মোড়, মহাখালী হয়েছে বনানী কাকলী পর্যন্ত দীর্ঘ সড়কে যানবাহনের কাগজ পরীক্ষা, লেন মেনে চলার নির্দেশনা দিচ্ছিলো শিক্ষার্থীরাই।

মিরপুর স্টেডিয়াম থেকে ১৪ নম্বর পুলিশ স্মৃতি স্কুল পর্যন্ত সড়কের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ভূমিকায় তিনি শিক্ষার্থীদের কাজ করতে দেখেছেন। তাছাড়া ওই সড়কে বাস চলাচল বন্ধ আছে এবং শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে আছে মিরপুর দশ নম্বর, আইডিয়াল স্কুলের সামনেসহ কয়েকটি জায়গায়।

এছাড়াও ফার্মগেট, শান্তিনগর এলাকায় বেশ কিছু ছাত্র ছাত্রীকে রাস্তায় দেখেছেন গাড়ি চালকদের লাইসেন্স পরীক্ষা করতে। জিগাতলা- সায়েন্স ল্যাবরেটরীতে হামলা, শাহবাগে সংহতি চকলেট। এদিকে ঢাকার জিগাতলা ও সায়েন্স ল্যাবরেটরী এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সায়েন্স ল্যাবরেটরীতে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার পাশাপাশি পুলিশ কাদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে।

এর আগে জিগাতলায় হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানিয়েছেন দুপুরে একদল যুবক হেলমেট পড়ে এ হামলা চালায় এবং এ সময় সেখানে ধাওয়া -পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে একজন শিক্ষার্থীকে রক্তাক্ত অবস্থায় রিকশা করে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। জিগাতলা বাসস্ট্যান্ডের কাছে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনেও শিক্ষার্থীদের একটি দল গেলে ধাওয়ার মুখে পড়ে। অন্যদিকে শাহবাগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে তাদের সাথে সংহতি প্রকাশ করেছে ছাত্রলীগ।

সকাল থেকেই নগরীর কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থীরা শাহবাগে অবস্থান নেয় ও যানবাহনের কাগজপত্র পরীক্ষা করতে শুরু করে। পরে ছাত্রলীগের একটি দল সেখানে গিয়ে এবং শিক্ষার্থীরা যেনো অন্যদের প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হন সে অনুরোধ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র সাহা শিক্ষার্থীদের বলেন প্রধানমন্ত্রী সব দাবি মেনে নিয়েছেন তিনি শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার জন্যও অনুরোধ করেন। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের চকলেট দেন এবং বিনিময়ে দুএকজন শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের কর্মীদের হাতে চিপসের প্যাকেট দিচ্ছেন এমন ছবি অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।

ওদিকে বেলা তিনটার দিকে শাহবাগে জমায়েত শেষে আগামীকাল আবারো সেখানে অবস্থান নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। ট্রাফিক সপ্তাহ পালন করবে পুলিশ। পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিঞা ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন রোববার থেকে তারা ঢাকায় ট্রাফিক সপ্তাহ পালন করবেন।

তিনি একই সাথে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বন্ধ করে ঘরে ফেরার অনুরোধ করেছেন। তার দাবি একটি পক্ষ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নিতে নাশকতার তৎপরতা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, ” একটি পক্ষ চায় দুর্ঘটনা ঘটুক ও ও সরকার যেনো বেকায়দায় পড়ে। কিন্তু পুলিশ তা হতে দেবেনা”।

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের শান্ত থেকে ঘরে ফিরে যেতে অনুরোধ করেছেন। বিএনপি নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর একটি ফোনালাপ প্রকাশ হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “তারা নেত্রীর জন্য আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে, সেই ব্যর্থতা ঢাকতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অনুপ্রবেশ ঘটাতে চাইছে”।

মিস্টার কাদের বলেন, “আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কুমিল্লার নেতাদেরকে কিভাবে বলেছেন ঢাকা দখল করতে হবে। তিনি তাদের বলেছেন কুমিল্লায় না থেকে পাঁচশ ঢাকার দিকে চলে এসো। কোন কোনো মিডিয়ায় এটি প্রকাশিত হয়েছে”। তিনি বলেন, “সহিংসতা ছড়াতে তিনি (আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী) ছাত্রদলের ক্যাডারদের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা আশংকা করছি তারা কোনো অপকর্ম করে তার দায় সরকার ও আমাদের দলের ওপর চাপাতে পারে”।

ওবায়দুল কাদের বলেন তারা ধৈর্য ধরছেন ও সহনশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছেন। তিনি বলেন, “অশান্তি দুর করতে বিএনপি নেতাদের টপ টু বটম পদত্যাগ করা উচিত। এরা না সরলে দেশ শান্ত হবেনা। সব অশান্তির মূল এই দলটি”। তার দাবি অনেক চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইউনিফর্ম পরে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করেছে এবং নানা ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে, নাশকতার পরিকল্পনা আছে।

দুপুরে জিগাতলায় হামলার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা করেছে বিএনপি জামায়াতের প্রশিক্ষিত ক্যাডাররা। উস্কানি দিয়ে রক্তপাত ঘটাতে তারা তৎপরতা চালাচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, “তিনি বলেন, “আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন। আন্দোলনকারী সব ছাত্রদের অনুরোধ জানাবো তোমরা শান্ত থাকো- ঘরে ফিরে যাও। সব দাবি প্রধানমন্ত্রী মেনে নিয়েছেন ও দ্রুত বাস্তবায়নে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে”।