বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। ছবির কপিরাইট MUNIRZZAMAN
Image caption বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া।

বাংলাদেশে কারাবন্দী বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল বা সিএমএইচেও চিকিৎসা নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের একথা জানিয়েছেন।

বিএনপি এবং খালেদা জিয়ার পরিবার বেসরকারি হাসপাতালে তার চিকিৎসার দাবি করে আসছে।

দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কোন হাসপাতালে চিকিৎসা হবে, সে ব্যাপারে এখন তাদের দলের নেত্রী নিজে সিদ্ধান্ত নেবেন।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা কোন হাসপাতালে করানো হবে, তা নিয়ে অচলাবস্থা কাটছে না।

সরকার বলেছে, খালেদা জিয়াকে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানোর সুযোগ আইনে নেই।

কিন্তু এবার অসুস্থতার প্রেক্ষাপটে সরকার প্রথমে খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসার প্রস্তাব দিলে তিনি তা নাকচ করে দেন।

এরপর সরকার তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসার প্রস্তাব দেয়।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, খালেদা জিয়া সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে বা সিএমএইচেও চিকিৎসা করাতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

“আইজি প্রিজন ব্যক্তিগতভাবে তার সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তিনি অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন।”

ছবির কপিরাইট UNITED HOSPITAL
Image caption ইউনাইটেড হাসপাতাল

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেছেন,”বঙ্গবন্ধু হাসপাতালকে আমরা তৈরি রেখেছি। উনি যখনই ইচ্ছা প্রকাশ করবেন আমরা তখনই তাকে নিয়ে আসব।”

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বিএনপি নেত্রী প্রায় চারমাস ধরে জেলে রয়েছেন।

এর আগে একবার তাকে জেল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছিল।

তখনও তাকে বেসরকারি হাসপাতালে নেয়ার দাবি করা হয়েছিল।

কয়েকদিন আগে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের একটি দল কারাগারে তার সাথে দেখার পর এসে জানিয়েছিলেন,গত ৫ই জুন খালেদা জিয়া অজ্ঞান হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন।

এবার এমন প্রেক্ষাপটে তার আত্মীয় স্বজন এবং বিএনপি, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার বিষয়কে জোর দিয়েছে।

দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাদের আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যন্ত পৌঁছানো হয়েছে। এখন খালেদা জিয়া নিজে বিষয়টাতে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

“এটি পুরোপুরি আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার উপর নির্ভর করবে। তিনি যেখানে কমফোর্ট ফিল করবেন,সেখানেই তার চিকিৎসা হবে। উনি যেখানে আস্থাবান, সেই আস্থার জায়গাটা হলো ইউনাইটেড হাসপাতাল।”

মি: আলমগীর আরও বলেছেন, “ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর দাবির পিছনে কারণ আছে। সেটি হলো, উনার দুই হাঁটুতে মেটাল আছে। সেই মেটাল থাকলে এমআরআই বা সিটি স্ক্যান সব জায়গায় হয় না। এই ব্যবস্থা ইউনাইটেড হাসপাতালে আছে। এই জিনিসটাকে কেউ আপনারা লক্ষ্যেই আনছেন না। এটা নিয়ে সরকার কেন তালবাহানা করছে, আমাদের মনে হয়, এর পিছনে কোনো দুরভিসন্ধি থাকতে পারে।”

ইস্যুটি নিয়ে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিতর্ক চলছে। সিএমএইচ-এ চিকিৎসা না করানোর বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

“চিকিৎসা নিয়েও কী তারা রাজনীতির ইস্যু খুঁতে চান, এটা হলো আমার প্রশ্ন। সিএমএইচে চিকিৎসা কেন করাতে চান না? এখানে সামরিক বাহিনীকে বেগম জিয়া কি বিশ্বাস করেন না?” প্রশ্ন ওবায়দুল কাদেরের।

ছবির কপিরাইট BSMMU
Image caption বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

আরো পড়তে পারেন:

একটি ফ্রিজের আগুন যেভাবে সারা বিশ্বের ট্র্যাজেডি

বিশ্বকাপ ২০১৮: ইতিহাসের বিচারে কে চ্যাম্পিয়ন হতে পারে

বাংলাদেশে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা উন্মাদনা কবে থেকে?

রক্ত দেয়ার আগেই জেনে নিন কিছু জরুরি তথ্য

খালেদা জিয়ার একজন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন তার মক্কেলকে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করানো সহজ বলে মনে করেন। তিনি সেই দাবি জানিয়েছেন।

বিএনপি নেত্রীর আরেকজন আইনজীবী জয়নাল আবেদীন এর সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন।

বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্যারোলে মুক্তির দাবি কারও ব্যক্তিগত হতে পারে। এটা তাদের দলের বিবেচ্য বিষয় নয়।

সিএমএইচ এবং সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে আপত্তির ব্যাপারে মি: আলমগীর বলেছেন, “পিজিতে নিঃসন্দেহে খুব ভাল চিকিৎসা হয়। কিন্তু আমাদের বিরোধী দলের চিকিৎসার অভিজ্ঞতা সেখানে সুখকর নয়। আর সিএমএইচে উনি বহুদিন ধরে যান না। সিএমএইচ-এর কি অবস্থা,আমরা জানি না।”

এদিকে বিএনপির সিনিয়র নেতারা ঈদের দিনে কারাগারে খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করার জন্য অনুমতি চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন।

Source from: http://www.bbc.com/bengali/news-44485123

Advertisements