ঠিক এক বছর আগে এই দিনে লন্ডনের এক বহুতল ভবনে আগুনে পুড়ে মারা গিয়েছিলেন ৭২ জন মানুষ। এই আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল আরও বহু মানুষের জীবন, সাজানো সংসার। গ্রেনফেল টাওয়ারের পাঁচতলার একটি ছোট্ট ফ্রিজ থেকে যে আগুনের সূত্রপাত, তা পরের কয়েক ঘন্টার মধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটেনের সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পরিণত হলো। আর এই অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষকে স্পর্শ করতে শুরু করলো।

শীঘ্রই এটা স্পষ্ট হয়ে গেল যে এটি কোন সাধারণ অগ্নিকাণ্ড নয়। শুধু নিহতের সংখ্যার কারণে নয়, এই টাওয়ার ব্লকের বাসিন্দারা এত বিভিন্ন দেশ ও জাতি থেকে এসেছেন যে, গ্রেনফেল অগ্নিকাণ্ড হয়ে উঠলো একটি সত্যিকারের আন্তর্জাতিক দুর্যোগ।­­­

গ্রেনফেলের বাসিন্দাদের আত্মীয়-পরিজনরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন সারা বিশ্বে। আফগানিস্তান থেকে অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ থেকে গাম্বিয়া। ঐ একটি টাওয়ারে থাকতেন আরও বিচিত্র সব দেশের মানুষ- কলম্বিয়া, ডোমিনিকা, মিশর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ইটালি, ইরান, আয়ারল্যান্ড, লেবানন, মরক্কো, নাইজেরিয়া, ফিলিপাইন, পর্তুগাল, সিয়েরা লিওন, স্পেন, সুদান, সিরিয়া এবং ত্রিনিদাদ।

নিহতদের কয়েকজনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিবিসির এই প্রতিবেদন।

কমরু মিয়া- বাংলাদেশ

family

কমরু মিয়ার বয়স ছিল ৭৯ বছর। ১৯৬৩ সালে তিনি ব্রিটেনে এসেছিলেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ২৬ বছর। ব্রিটেনে প্রথম তিনি কাজ নিয়েছিলেন একটি বেকারিতে। এরপর তিনি হয়ে উঠেন একজন প্রতিভাবান শেফ।

গ্রেনফেল টাওয়ারে যখন আগুন লাগলো, কমরু মিয়া তখন সেই ভবনের আঠারো তলায় নিজের ফ্ল্যাটে। সাথে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী রাবেয়া বেগম, ছেলে মোহাম্মদ হামিদ ও মোহাম্মদ হানিফ এবং মেয়ে হুসনা তানিমা বেগম।

কমরু মিয়া, রাবেয়া বেগম, দুই দেশের মোহাম্মদ হামিদ ও মোহাম্মদ হানিফ এবং কন্যা হুসনা বেগম

বড় ছেলে মোহাম্মদ হাকিম সেই ফ্ল্যাটে থাকতেন না। তার কিছুদিন আগে তিনি অন্য জায়গায় চলে যান।

কমরু মিয়া এবং পরিবারের সদস্যরা যখন আগুনে পুড়তে থাকা ভবনটি থেকে বাঁচার জন্য আকুল হয়ে চারিদিকে ফোন করছেন, তখন একটি ফোন কল গিয়েছিল পাঁচ হাজার মাইল দূরে বাংলাদেশের এক প্রত্যন্ত গ্রামে। কমরু মিয়ার প্রথম স্ত্রী জুলিকা বিবি সন্তানদের নিয়ে থাকেন মৌলভীবাজারের সেই খইলশাউরা গ্রামে।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

নিহত কমরু মিয়ার পরিবার, বাংলাদেশে

জুলিকা বিবি তখন ঘরেই ছিলেন ছেলে সুজনকে নিয়ে। সুজন মাত্র মসজিদ থেকে ফিরেছেন। ঘুমানোর জন্য বিছানায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। লন্ডন থেকে তাঁর চাচাতো ভাই আবদুর রহিমের একটি ফোন কল এলো তখন।

টেলিফোনের অপর প্রান্ত থেকে আবদুর রহিম বললেন, ‘চাচার ঘরে আগুন লেগেছে। উনার জন্য দোয়া করেন।’

একটু পরে আবার ফোন বাজলো। এবার এলো সেই ভয়ংকর দুঃসংবাদ।

“আমি চাচাকে একটা খোলা জানালার কাছে দেখেছি। তিনি চিৎকার করে আমাকে বলছেন, আবদুর রহিম, আমাকে বাঁচাও। কিন্তু আমি চাচাকে বাঁচানোর জন্য কিছুই করতে পারছি না।”

“তোমার বাবার জন্য দোয়া করে। উনাকে বাঁচানোর কোন আশা আর নাই”, লন্ডন থেকে আবদুর রহিম জানালেন বাংলাদেশের গ্রামে তার চাচাতো ভাই সুজনকে।

সেদিনের ঘটনার আরও অনেক ভয়ংকর বর্ণনা দিয়েছিলেন আবদুর রহিম। জানিয়েছিলেন, সুজনের সৎ বোন কিভাবে তার মাকে নিয়ে গ্রেনফেল টাওয়ারের সেই ফ্ল্যাটের এক বাথরুমে আটকে পড়েছিলেন। তারা বুঝতে পারছিলেন তাদের বাঁচার আশা নেই। তাই সবার দোয়া চাইছিলেন তারা।

হুসনা বেগম বলেছিলেন, “এটা আমাদের কন্ঠ, আমাদের কথা আর শুনতে পাবেন না।”

তারপর সব আশা ফুরিয়ে গেল।

কমরু মিয়ার মৃত্যার পর প্রথম স্ত্রী জুলিকা বিবির শরীরও ভেঙ্গে পড়েছে। মানসিক আঘাত তো আছেই, পরিবারের ওপর ঐ ট্র্যাজেডির আরও নানা প্রভাব পড়েছে।

“উনি আমাদের জন্য টাকা পাঠাতেন। এখন তো আমরা খুব অসহায় অবস্থায় আছি। আমি বৃদ্ধা মহিলা। আমার ঔষধ দরকার। আমার ছেলে আমার জন্য ঔষধ কিনে দেয়। কিন্তু আমি জানি ওর উপর অনেক বোঝা এটা।”

“আমার স্বামী আমাকে হজ্বে নিয়ে যাবে বলেছিল এখন তো আর সেটা হচ্ছে না।”

Son and wife
Image caption সুজন এবং তাঁর মা জুলিকা বিবি

কমরু মিয়ার বড় মেয়ে মিনা মৌলভীবাজারে তার পৈতৃক বাড়ির কাছেই থাকেন।

বাবা-মেয়ের মধ্যে সম্পর্কটা ছিল খুব ঘনিষ্ঠ। বাবার কথা স্মরণ করতে গিয়ে কাঁদতে শুরু করলেন মিনা।

আমি ছিলাম বাবার সবচেয়ে আদরের মেয়ে। আমিই ছিলাম তার গোটা জগত। যখন শেষ বার বাংলাদেশে আসলেন, আমাকে নিজের হাতে ভাত খাইয়েছিলেন। এমনটা আর ঘটবে না এ জীবনে।”

“সেবার আমরা একসঙ্গে কিছু ছবি তুলেছিলাম। আমি জানতাম না, সেটাই আমাদের শেষ দেখা হতে যাচ্ছে। যদি জানতাম, আমি তার প্রতিটি পদক্ষেপেরই হয়তো ছবি তুলে রাখতাম।”

Kamru (centre) with family in Bangladesh

কমরু মিয়ার মৃত্যুর পর পুরো পরিবারের ভার এখন এসে পড়েছে বড় ছেলের ওপর।

“আমার বাবা প্রতি বছর বাংলাদেশে আসতেন। আমাদের জন্য কাপড়-চোপড় নিয়ে আসতেন। নাতি-নাতনিদের জন্য চকোলেট নিয়ে আসতেন।”

“আমাদের জন্য টাকা পাঠাতেন। উনার পাঠানো টাকা ছাড়া এই বাড়ি আমরা তৈরি করতে পারতাম না।”

সুজন জানালেন, ঘর-গেরস্থালি থেকে যে আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে তার কাছে সবচেয়ে কষ্টের হচ্ছে, নিজের বাবাকে শেষ বিদায় জানাতে পারেন নি।

“আমি আমার বাবার কবর দেখতে চাই। যেখানে তিনি মারা গেছেন, সেই জায়গাটা দেখতে চাই। এতে হয়তো মনে কিছুটা শান্তি পাবো। উনার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা গ্রামের মসজিদে একটা দোয়া পড়াচ্ছি। সেখানে গরীব লোকজনকে খাওয়ানো হবে।”

walk
Grenfell banner graphic

রানিয়া ইব্রাহীম- মিশর

মিশরে রানিয়ার বোন রানডা।
Image caption মিশরে রানিয়ার বোন রানডা।

২০১৭ সালের ১৪ই জুন মধ্যরাত পৌনে দুটার সময় রানিয়া ইব্রাহীম তার গ্রেনফেল টাওয়ারের ২৩ তলা ভবন থেকে যা দেখছিলেন তা ফেসবুকে লাইভ স্ট্রীম করছিলেন। সেই রাতে গ্রেনফেল টাওয়ারের ভেতর থেকে পাওয়া এটাই একমাত্র ভিডিও।

সেই রাতে তার ঘরে জড়ো হয়েছিলেন অনেকে। কয়েক ঘন্টা পর এরা সবাই মারা যায়।

নিহতদের মধ্যে ছিলেন রানিয়ার অল্প বয়সী কন্যা ফাতহিয়া এবং হানিয়া। প্রথম জনের বয়স পাঁচ, দ্বিতীয় জনের তিন বছর।

Rania and her daughters Fathia, 5, and Hania, 3
Image caption দুই কন্যার সঙ্গে রানিয়া

রানিয়া যখন ফেসবুকে তার জীবনের শেষ মূহুর্তগুলো ফেসবুক লাইভে দেখাচ্ছেন, তখন তা দক্ষিণ মিশরে বসে আতংকের সঙ্গে দেখছেন বোন রানডা।

“আমি যখন প্রথম গ্রেনফেল টাওয়ারের আগুন দেখলাম, আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। আমার জন্য এটি ছিল একটা বিরাট ধাক্কা। ঐ দৃশ্যটা ছিল ভয়ংকর। আমি কান্নায় ভেঙ্গে পড়লাম। পাগলের মতো চিৎকার করছিলাম।”

“আমি জানতাম আমার বোন সবচেয়ে উপরের তলায় থাকেন। আমার ভাই আমাকে জানিয়েছিল রানিয়া ওর সঙ্গে শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত কথা বলছিল। আগুন ওর অ্যাপার্টমেন্টে না পৌঁছানো পর্যন্ত। সেটাই ছিল তার শেষ কথা।”

রানিয়া যখন মারা যান, তখন তার বয়স ছিল ৩০ বছর। তিনি ২০০৯ সালে ব্রিটেনে আসেন।

গ্রেনফেল টাওয়ারে যেদিন আগুন লাগে, রানিয়ার স্বামী হাসান আওয়াদ সেদিন কায়রোতে। এই আগুনে তিনি সব হারিয়েছেন। স্ত্রী, দুই কন্যা, তার সংসার।

রানডা বলেন, রানিয়া তাদের জীবনে যেন একটা বিরাট শূন্যতা তৈরি করে দিয়ে গেছেন।

“ও প্রতি বছর আমাদের এখানে বেড়াতে আসতো। রানিয়া আসলে পুরো পরিবার একসঙ্গে হতো। ও ছিল খুবই উদার। প্রতিবার আমাদের জন্য উপহার নিয়ে আসতো।”

“ও ছিল প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর। সারাক্ষণ হাসতো। এতটা আদরণীয় ছিল। সাংঘাতিক দয়ালু। ও ছিল খুবই সুন্দর মনের একজন মানুষ।”

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

রানডা ইব্রাহীম স্মরণ করছেন তার নিহত বোন রানিয়াকে

রানিয়া তার বড় বোন সাইদাকে নিয়ে ব্রিটেনে এসেছিল আইন পড়তে। লন্ডনের মতো নগরীতে এরকম একটা বিপর্যয় যে ঘটতে পারে, সেটা পরিবার এখনো মেনে নিতে পারছে না।

“ও বাঁচতে চেয়েছিল। ফেসবুকে ও একটি ভিডিও আপলোড করেছিল বাঁচার আকুতি জানিয়ে। কেন তাকে উদ্ধার করা হলো না। কিভাবে ব্রিটেনের মতো এক বড় একটি দেশ এভাবে তাকে মরতে দিতে পারলো। তাদের কি হেলিকপ্টার বা অন্য কিছু নেই এরকম টাওয়ার থেকে লোকজনকে উদ্ধারের জন্য।”

রানিয়ার দেহাবশেষ চিহ্নিত করতে সময় লেগেছিল তিন মাস। এই তিন মাস তার পরিবার একটা আশা নিয়েই অপেক্ষায় ছিল, হয়তো রানিয়া বেঁচে আছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের নিরাশ হতে হয়েছে।

“আমি জানি একটা বছর চলে গেছে। কিন্তু আমি এখনো বিশ্বাস করি না, রানিয়া চলে গেছে। আমি কল্পনা করি, তাকে ফোন করেছি বা এখনি হয়তো তার সুন্দর হাসি নিয়ে সে হাজির হবে। বলবে এই যে আমি ফিরে এসেছি। যেটা সে সবসময় করতো।”

Rania's sister in Egypt
Image caption রানিয়ার বোন রানডা।
Grenfell banner graphic

চুকাইর পরিবার-লেবানন

Parents outside house

বাসেম চুকাইর যখন গ্রেনফেল টাওয়ারের আগুনে পুড়ে মারা যান, তখন তার বয়স ৪০। তার সঙ্গে একই দিন এক সঙ্গে মারা যান স্ত্রী নাদিয়া (৩৩), নাদিয়ার মা সিরিরা (৬০), তিন কন্যা মিয়েরনা (১৩), ফাতিমা (১১) এবং জয়নাব (৩)।

এক রাতেই শেষ হয়ে যায় একই পরিবারের তিন প্রজন্ম।

Choucair family

বাসেমের বাবা-মা থাকেন লেবাননে। তাদের জন্য এই ঘটনা এত বড় একটা আঘাত, যার ধাক্কা সামলানো ছিল সত্যিই কঠিন।

বাসেমের বাবা টান বলেন, এই বেদনার ভার বহন করা যায় না।

“ও যদি আল্লাহর ইচ্ছায় মারা যেত, আমি বলতে পারতাম, আল্লাহ ওকে নিয়ে গেছে। কিন্তু আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া? এই মৃত্যুতো চাপিয়ে দেয়া। তাকে তো তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে পুড়িয়ে মারা হয়েছে”, বললেন তিনি।

১৭ বছর আগে লেবানন থেকে লন্ডনে আসেন বাসেম। তিনি বিয়ে করেন নাদিয়াকে। তার স্বপ্ন ছিল নিজের মেয়েদের ভালোভাবে জীবন শুরুর সুযোগ করে দেয়া।

নিজের বাড়িতে বসে ছেলের কথা বলতে গিয়ে মা বাদেরও কেবল শূন্যতা আর শোকের কথা বলেন।

“আমার ছেলে ছিল গোটা দুনিয়ার সবচেয়ে মিস্টি একটা ছেলে। সে আমাদের জন্য খুবই ভাবতো। ও ছিল সেরা। প্রতি গ্রীস্মে আমাদের দেখতে আসতো। আমাদের কি লাগবে খোঁজ-খবর নিত।”

“ও আমার রান্না খুব পছন্দ করতো। বলতো আমার জন্য এটা রাধোঁ, ওটা রাধোঁ। আমি বলতাম, তোমার জন্য আমি আছি সবসময়। এখন আমার ছেলে চলে গেছে।”

যখন গ্রেনফেল টাওয়ারে আগুন জ্বলছিল, বাদের টেলিভিশনে তা দেখছিলেন। তার ধারণা ছিলনা যে এই টাওয়ারের ভেতরে তার ছেলে আর পুরো পরিবার।

“আমরা জানতাম না। আমি সকালে উঠে টিভি অন করে খবর দেখছিলাম। ওরা বলছিল লন্ডনের একটা টাওয়ারে আগুন লেগেছে। এই আগুন কতটা ভয়ংকর তা ছবি দেখেই বোঝা যাচ্ছিল। কিন্তু আমি ভাবিনি যে আমার ছেলে আছে ঐ একই ভবনে।”

“দুই ঘন্টা পর আমি জানতে পারি আমার ছেলে ঐ টাওয়ারেই থাকতো। তখন আমি যেন চিন্তা করার শক্তি হারিয়ে ফেললাম।”

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

লেবাননে বাসেমের বাবা-মা ভুলতে পারেন না তাদের ছেলেকে

বাসেমের বোন এবং তার স্বামী লন্ডনে থাকেন। তারা চারদিন ধরে পুরো পরিবারকে খুঁজে বেরিয়েছেন। হাসপাতালে, এখানে-ওখানে। আশা ছাড়তে চাননি। পুরো সময়টা জুড়ে বাদের যোগাযোগ রাখছিলেন তাদের সঙ্গে।

“আমার মেয়ের জামাই জানতো যে, ওরা মারা গেছে। ওরা বেঁচে নেই। কিন্তু ও আমাকে বলতো, আমি ওরা মারা গেছে এটা বলতে চাই না। ও বলতো, ওরা এখনো বেঁচে আছে। ও শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত একাটা আশা পুষে রেখেছিল যে ওরা বেঁচে আছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর কোন আশা রইলো না।”

বাসেমের বাবা টান এখনো ছেলে হারানোর ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি।

“আমি সারাক্ষণ তার কথা মনে করতে থাকি। যতবার নামাজ পড়ি, তার কথা ভাবি। কান্নাকাটি করি। কিন্তু আমি কি করতে পারি? ওর বদলে যদি আমার মরণ হতো!”

বাসেম এবং তার পরিবারের সদস্যদের দেহাবশেষ লেবাননে নিয়ে আসা হয়। বাড়ির কাছেই তাদের কবর দেয়া হয়েছে। প্রতি শুক্রবার বাদের সেখানে গিয়ে প্রার্থনা করেন।

“আমি কবরের কাছে গিয়ে বসে থাকি। আমি কাঁদি, চিৎকার করি। কেউ আমার কথার উত্তর দেয় না…..সব কিছুই পাল্টে গেছে। জীবনের আর কোন অর্থ নেই এখন। এমন একটা দিন যায় না যেদিন আমি ওদের কথা ভাবি না, ওদের স্মরণ করি না।”

“আমি ওর সঙ্গে হোয়াটস অ্যাপে যোগাযোগ রাখতাম। প্রতি রাতে, প্রতি রাতে আমি ওর সঙ্গে কথা বলতাম। এখন আমার সঙ্গে কথা বলার আর কেউ নেই।”

Parents inside house
Grenfell banner graphic

প্রযোজক: এফ্রেম গেব্রিব এবং লুইস আডামু

ভিডিও প্রযোজক: মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ, জয়া বারবেরি, এলেইন আলখুরি এবং সারাহ মাগদি

ক্যামেরামেন: শেরিফ ফলি

পিকচার এডিটর: সামেহ মাহের

গ্রাফিক ডিজাইনার: জেরি ফ্লেচার

অনলাইন প্রোডাকশন: ডোমিনিক বেইলি

Source from: http://www.bbc.com/bengali/news-44480878