চট্টগ্রামের চকবাজারে পণ্য বদলানোকে কেন্দ্র করে এক নারী ক্রেতাকে হেনস্থার প্রতিবাদ করতে গিয়ে কারাগারে গেছে তুহিন নামের এক যুবক।আর হেনস্থার অভিযোগে পুলিশ যাদের আটক করে তাদের ২৪ ঘন্টার বেশি সময় থানা হাজতে রাখার পর মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি হেনস্থার শিকার ওই নারী ইভটিজিংয়ের শিকার হয়েছেন দাবি করে মামলা করতে চাইলেও তা নেয়নি চকবাজার থানা পুলিশ।মামলা করতে হলে আটককৃতদের নাম এজাহারে দেয়া যাবে না বলে শর্ত জুড়ে দেন সেকেন্ড অফিসার মুহিত।

গত বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটার দিকে নগরীর চকবাজার থানার মতি কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় নাফিজা ফ্যাশন নামে একটি বুটিকস হাউজে ইতোপূর্বে ক্রয়কৃত একটি জামা পরিবর্তন করতে যান ওই নারী। কিন্তু দোকান মালিক নিটু চক্রবর্তী ও কর্মচারীরা পরিবর্তন করতে রাজি হননি। এরপরও অনুরোধ করার এক পর্যায়ে দোকান মালিক ও কর্মচারীরা তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। এক পর্যায়ে পাশের দোকানিদের ডেকে এনে শারমিনের সাথে অশ্লীল ভাষায় টিজ করে,দুর্ব্যবহার করে ও তাকে চোর বলে হেনস্থা করার চেষ্টা চালায়।এতে তার ভাইকে ফোন করে বিষয়টি জানায়।

চকবাজার থানার এসআই পল্টু বড়ুয়া সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ওই নারীর সঙ্গে নাফিজা ফ্যাশনের মালিকের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে ওই নারীকে ব্যবসায়ীরা চোর বলে হেনস্থা করে। পরে সে তার ভাইকে ফোন করলে সে আরো কয়েকজন নিয়ে এসে হামলা চালায়। এতে একজন ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছে। এ ঘটনায় চকবাজারের ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ করে।

যদিও এ বিষয়ে ওই নারীর অভিযোগ, তার ভাই সেখানে গিয়ে দোকান মালিকের কাছে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে ব্যবসায়ীরা তার ভাইয়ের সাথেও দুর্ব্যবহার করে। এক পর্যায়ে তারা তার ভাইকে রড দিয়ে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়। এরপর তার ভাই রক্তাক্ত মাথা নিয়ে ব্যবসায়ী সমিতির কাছে গিয়ে বিষয়টি জানালে তারাও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। পরে তার ভাই রক্তাক্ত মাথা নিয়ে থানায় গেলে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।এরমধ্যে তার ভাইয়ের আরো কয়েকজন বন্ধু সেখানে গেলে ব্যবসায়ীরা কিছু সন্ত্রাসীকে সঙ্গে নিয়ে রড লাঠি দিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। তারা প্রাণে বাঁচতে সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করে। এরপরও তাদের গায়ের উপর ছুটে আসলে আত্মরক্ষায় তারাও দু’একজনের উপর হামলা করতে বাধ্য হন।

এ সময় বাকীরা কোনোমতে পালিয়ে গেলেও তার ভাইয়ের বন্ধু মো. তুহিনকে ব্যবসায়ীরা ধরে নিয়ে বেদম প্রহার করতে থাকে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করতে গেলে একজন উপ-পরিদর্শকের উপরও ব্যবসায়ীরা হামলা চালায়।এ সময় হামলার সাথে জড়িত মন্জু, মুসলিম, রুহেল ও রুবেল নামে চারজনকে আটক করে থানা পুলিশ। তাদের সবাইকে গতকাল বিকেল থেকে চকবাজার থানা হাজতে আটকে রাখা হয়। এরমধ্যে ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষের লোকজন মামলা করলে তুহিনকে বিকেলের দিকে আদালতে চালান করে দেয়া হয়। বাকী চারজন শুক্রবার রাত ৮টা পর্যন্ত থানা হাজতে ছিলো। কিন্তু ওই নারী মামলা করতে চাইলেও পুলিশ মামলা নেয়নি।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, বৃহস্পতিবার বিকেলের ঘটনার পর রাতে তার পক্ষের লোকজন অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) আব্দুর রউফের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি অবহিত করেন। ওই পুলিশ কর্মকর্তা দুই পক্ষকেই মামলা দিতে বলেন। কিন্তু চকবাজার থানা পুলিশ শুধু ব্যবসায়ীদের পক্ষের মামলা নেয়। ওই নারীর সঙ্গে ইভটিজিং, তার ভাই ও বন্ধুদের উপর হামলার ঘটনায় পুলিশ মামলা নিচ্ছে না। ২ লাখ টাকার বিনিময়ে পুলিশ আটক চারজনকে ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ তার। গতরাত ৮টার পর আবারো থানায় গেলে পুলিশ জানায়, ‘মামলা করা যাবে। তবে আটককৃত নাম এজাহারে দেয়া যাবে না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চকবাজার থানার ওসি মীর মো. নুরুল হুদা বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ওরা দুইপক্ষ আপস করতে চাইছিলো। কিন্তু উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাপ ছিলো, আমরাই ওদের মামলা করিয়েছি। প্রথমপক্ষ মামলা করার পর দ্বিতীয় পক্ষও মামলা করতে আসে। দুটোই রেকর্ড হয়েছে। যদিও রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ওই নারী অভিযোগ করেন, পুলিশ মামলা রেকর্ড করেনি। আটককৃতদের নাম বাদ দিয়ে মামলা রেকর্ড করতে চাইছে পুলিশ।

বাকী চারজনকে ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন,ওদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিলো। আজকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
সূত্রঃইত্তেফাক