ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবর রহমান নিক্সন চৌধুরীর সঙ্গে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন সুলতানার (ইউএনও) কথোপকথনের রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার ঘটনায় সংবিধান লঙ্ঘন হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার আইনজীবী শাহদীন মালিক।
নির্বাচন কমিশনের করা মামলায় জামিন আদেশের পর মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) অনলাইন গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন ওই আইনজীবী।
নির্বাচন কমিশনের দায়ের করা মামলা প্রসঙ্গে শাহদীন মালিক বলেন, সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে শপথ ভঙ্গের যদি কোনও অভিযোগ থেকে থাকে তাহলে তার সুরাহা করার দায়িত্ব স্পিকারের। তাই কোনও সংসদ সদস্য আইন ভঙ্গ করলে বা আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তার দায়িত্ব স্পিকারের।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিক্সন চৌধুরীর কথোপকথনের রেকর্ড ফাঁসের বিষয়ে শাহদীন মালিক বলেন, সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদে চিঠিপত্র এবং সকল নাগরিকের যোগাযোগের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০১ এ বলা হয়েছে, সরকার জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার স্বার্থে টেলিফোন কোম্পানিকে রেকর্ড (কোনও ব্যক্তির কথোপকথন) করতে আদেশ দিতে পারে। সেক্ষেত্রে রেকর্ড করার আদেশটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর আদেশক্রমে হবে। কিন্তু নিক্সন চৌধুরীর রেকর্ডের ক্ষেত্রে সে ধরণের আদেশ দেওয়া হয়নি। তাই নিক্সন চৌধুরীর কল রেকর্ড প্রকাশ করার ঘটনায় সংবিধানের লঙ্ঘন হয়েছে বলেও জানিয়েছেন অন্যতম সংবিধান বিশেষজ্ঞ আইনজীবী শাহদীন মালিক।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৫ অক্টোবর ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনের বিরুদ্ধে মামলা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চরভদ্রাসন থানায় জেলার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নওয়াবুল ইসলাম এ মামলা দায়ের করেন।
মামলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা ২০১৩ ও উপজেলা পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা ২০১৬ বিধি অনুযায়ী নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
গত ১০ অক্টোবর চরভদ্রাসন উপজেলার উপ-নির্বাচনে কেন্দ্রভিত্তিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত করায় জেলা প্রশাসক অতুল সরকারকে ফোন করে কৈফিয়ত তলব ও সমর্থিত প্রার্থী পরাজিত হলে মহাসড়ক অবরোধসহ নানা প্রকার ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অশোভন আচরণ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। একইসঙ্গে নির্বাচনের দিনে একটি ভোট কেন্দ্রের বুথের সামনে জাল ভোট দেয়া ও ধূমপান করার সময় একজন পোলিং এজেন্টকে আটকের পর চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ভাঙ্গার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদেরকে সুস্থ মানসিকতাসম্পন্ন মানুষের পক্ষে উচ্চারণ অনুপযোগী অত্যন্ত অশালীন ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়। পরে ওই মামলায় জামিন চাইতে তিনি হাইকোর্টে আবেদন জানান।