বর্তমান সময়ে নারী নির্যাতন বিশেষত ধর্ষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সমাজে নেমে এসেছে এক গভীর অন্ধকার। জনজীবনে বিরাজ করছে নিরাপত্তাহীনতা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা, গণমাধ্যমে তুমুল আলোচনা ও সচেতনতা এবং অতি সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ শাস্তি তথা মৃত্যুদণ্ডের বিধান ঘোষনার পরেও বিজ্ঞজনেরা মনে করছেন ‘সংকট উত্তরণ না-ও ঘটতে পারে।’ ইতোমধ্যে ধর্ষণের অপরাধে অনেকগুলো দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি প্রদান করা হয়েছে এবং হচ্ছে।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। সেটা তাঁর বক্তব্য এবং আইন প্রণয়নের মাধ্যমে প্রমান করেছেন।

সামাজিক এই ব্যাধিকে শুধুমাত্র আইন দিয়ে প্রতিহত করা সম্ভব হলে তা দেশ ও জনগণের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আদৃত হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।কিন্তু একই সাথে আমরা গুরুত্ব দিতে চাই-সম্ভাব্য ভিকটিমদের আর একটু শক্তি যোগানোর।

নারীকে নির্যাতন বা ধর্ষন; যা-ই আমরা রুখতে চাই আমাদের দরকার হবে অন্ততঃ প্রতিরোধ করবার সাহস ও শক্তিকে উজ্জীবিত করবার প্রয়াস গ্রহন করা।

সামাজিক ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা না গেলে এটাকে প্রতিহত করা সম্ভব না।সমগ্র বাংলাদেশে নারী পুরুষ সবাইকে এই বিষয়ে সচেতন করতে হবে এবং নির্যাতিতা নারীর যে মানসিক ও সামাজিক বিপর্ষয় ঘটে সে ব্যাপারেও নানা সরকারী ও বেসরকারি কার্ষক্রমের মাধ্যমে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। নারীরাও এই ক্ষেত্রে নির্যাতনকারীর ভয়ে বোবা বা নিষ্ক্রিয় না থেকে তাকেও নির্যাতনে উদ্ধত পুরুষকে প্রতিরোধ করতে হবে।আমরা নারীদের যদি সাহস ও শক্তি যোগাই তাহলে অবশ্যই তারা তা করতে পারবে।প্রতিরোধের দৃষ্টান্ত যদি গড়ে উঠতে থাকে তাহলে নির্যাতন কারীরা পিছিয়ে যেতে বাধ্য। এই ব্যাপারে মৌখিক প্রতিরোধ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না। প্রয়োজন শারিরিক প্রতিরোধ।
প্রতিরোধের কিছু শারিরিক কলাকৌশল নারীকে সুরক্ষা দিতে পারে।তাই আমরা প্রাথমিক ভাবে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্তরের নারীদের শারিরিক কলাকৌশলে প্রশিক্ষিত করতে চাই। আমাদের সংগঠন Inspire Chattogram নারীদের সেল্ফ ডিফেন্স সারভাইভাল আর্ট শিরোনামে প্রশিক্ষণ কর্মসূচী চূড়ান্ত করেছে। আশা করছি -আপনাদের স্মরণে আছে : ইতোপূর্বে চট্টগ্রামে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য করোনা আইসোলেশন সেন্টার গড়ে তুলেছিলাম এবং সেখানে আমরা বিনামূল্যে ব্যাপক সংখ্যক রোগীকে সেবা প্রদান করেছি।

সম্প্রতি ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পরা ধর্ষণ ও একটি মানবিকতার সংকট প্রতীয়মান হওয়ায় আমরা করোনা মহামারী মোকাবেলা থেকে সঞ্চিত অভিজ্ঞতা ও সাহস থেকে উজ্জীবিত হয়ে এই উদ্যোগটি গ্রহন করেছি।

উল্লেখ্য এই সেল্ফ ডিফেন্স সারভাইভাল আর্ট কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী নারীদের বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

এতে প্রশিক্ষক হিসেবে থাকবেন এক্স আর্মি প্রশিক্ষক জয়জিৎ চৌধুরী ও ফাতেমা সুমাইয়া নাম্নী। সপ্তাহে দুদিন ( শুক্রবার ও শনিবার) এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। দামপাড়াস্থ বাওয়া স্কুল সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা। হালিশহর বিডিআর মাঠ সংলগ্ন রাবেয়া বসরি বালিকা বিদ্যালয়ে বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত। আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে ৩ মাসব্যাপী এই প্রশিক্ষণ শুরু হবে। যেকোন বয়সী আগ্রহী নারীরা এই প্রশিক্ষণ নিতে নিবন্ধন করতে হবে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের করা যাবে আগ্রাবাদস্থ আক্তারুজ্জামান সেন্টারের ৩য় তলায় ডায়মন্ড হেভেন, নাসিরাবাদস্থ আফমি প্লাজার ৩য় তলা ডায়মন্ড হেভেন শোরুম,চকবাজারস্থ গুলজার টাওয়ারের ৫ম তলায় আওয়ার ট্রেড, চেরাগী পাহাড়ের নন্দন বই ঘর,এপোলো শপিং সেন্টারের ২য় তলা কিং মেটালিক ও হালিশহর বিডিআর মাঠ সংলগ্ন ক্যাফে স্পাইস এ। আরো বিস্তারিত জানার থাকলে(০১৭৩৩১৫৭৭৪৮,০১৯১৪০০২২৫৬) নাম্বারে ফোন করা যাবে।

চট্টগ্রামের যে কোন মানবিক বিপর্যয়ে আমাদের সংগঠন Inspire Chattogram মানুষের পাশে দাড়াঁতে মানবিক আদর্শের কাছে দায়বদ্ধ।

চট্টগ্রামের যেকোন স্কুল কলেজ এবং সামাজিক সংগঠন তাদের নিজস্ব উদ্যোগে যদি এইধরনের আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণ কার্ষক্রম নিতে উদ্যোগী হলে Inspire Chattogram তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। আসুন আমরা চট্টগ্রামের শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষরা নারীদের সম্মান ও মর্যাদা সুরক্ষিত করি।

লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাজ্জাত হোসেন। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন,সংগঠনের পরিচালক প্রফেসর রেজাউল করিম,মোহাম্মদ সাইফ সাইফু, জাওইদ আলী চৌধুরী, একরামুল চৌধুরী, এম শাহাদাত নবী খোকা,গোলাম সামদানি জনি,সাদ শাহরিয়ার, কামরুল হাসান চৌধুরী, সোনিয়া আজাদ,প্রশিক্ষক জয়জিৎ চৌধুরী ও ফাতেমা সুমাইয়া নাম্নী।