প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীভিত্তিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা হবে। চলচ্চিত্রটি নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ সরকার ভারতের প্রখ্যাত পরিচালক শ্যাম বেনেগালকে চূড়ান্ত করেছে। এখনো প্রস্তাবিত পর্যায়ে থাকলেও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে চলচ্চিত্রটির নির্মাণকাজ শেষ করার ইচ্ছা উদ্যোক্তাদের।

এর আগে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র এবং বঙ্গবন্ধুর জীবনীভিত্তিক একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। চলচ্চিত্রটি নির্মাণের জন্য বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল গত জুলাই মাসে ভারত সফর করে। ওই সময় ভারত তিনজন পরিচালকের নাম প্রস্তাব করে। তাঁরা হলেন শ্যাম বেনেগাল, গৌতম ঘোষ ও কৌশিক গাঙ্গুলি। তাঁদের মধ্যে শ্যাম বেনেগালকেই চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ। তাঁর নাম বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। শ্যাম বেনেগাল প্রস্তাব গ্রহণ করলে আলোচনা করে বিস্তারিত পরিকল্পনা করা হবে।

তারানা হালিম বলেন, ‘এখন স্ক্রিপ্ট হবে, গবেষণা হবে। চলচ্চিত্রের নাম, চিত্রনাট্য অবশ্যই বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যরা দেখবেন। তার আগে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট থেকে অনুমতি নিতে হবে। এ চলচ্চিত্র নির্মাণের সময় বাংলাদেশ থেকে তিন সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল ঠিক করে দেওয়া হবে, যেখানে একজন ইতিহাসবিদ থাকবেন, যিনি বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিজীবন সম্পর্কে পুরোপুরি জানেন। আরেকজন থাকবেন বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের ঘনিষ্ঠ সহচর। চলচ্চিত্র বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আরেকজন ব্যক্তিত্ব রাখা হবে সেই দলে, যাঁদের কাছে চলচ্চিত্র নির্মাতা বা তাঁর প্রতিনিধি যেকোনো সময় সাহায্য-সহযোগিতা নিতে পারবেন।’

তারানা হালিম আরও বলেন, ‘একটি বিশ্বমানের চলচ্চিত্র হওয়ার জন্য যত রকম সহযোগিতা লাগে, তা আমরা করব। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর পরও হয়তো বেশি সময় লেগে যেতে পারে ছবিটি নির্মাণে, সে সময় আমরা দেব। আমরা মানের ব্যাপারে কোনো ছাড় দেব না।’

তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবুয়াল হোসেন প্রথম আলোকে জানান, চুক্তি অনুযায়ী যৌথ প্রযোজনায় ছবিটি নির্মাণ করা হলেও বাংলাদেশ অর্ধেকের বেশি অর্থ বিনিয়োগ করবে।