বাংলাদেশের কাছে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা পাওনার যে দাবি পাকিস্তান করেছে, তা ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বুধবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত নিউজিল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত গ্রাহাম মর্টনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ওরা আমাদের কাছে কী টাকা পাবে, আমরাই তো ওদের কাছে টাকা পাই। একাত্তরের আগে আমাদের দেশের রফতানি ও বাণিজ্যের টাকা ওরা নিয়ে গেছে। যেহেতু আমরা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আমাদের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছি, এটিকে কাউন্টার দেওয়ার জন্যই ওরা এ টাকা দাবি করেছে।

তিনি বলেন, মূলত পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের পাওনা ব্যহত করার জন্যই এমন দাবি করা হচ্ছে।

বৈঠক সম্পর্কে তোফায়েল আহমেদ বলেন, নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশের ভালো বাণিজ্যিক বন্ধু। নিউজিল্যান্ডের বাজারে বাংলাদেশের সব পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পায়। সেখানে আরো বাণিজ্যের সুযোগ আছে।

মন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের বহুমুখীকরণ বৃদ্ধি করা হবে। শুধু পোশাক খাত নিয়ে বসে থাকলেই হবে না। যেসব দেশে শুল্ক সুবিধা পাই না, তবে রফতানির সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব দেশের সঙ্গে এফটিআই চুক্তি করা হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের কাছে ৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি বা ৬০০ কোটি ৯২ লাখ বাংলাদেশি টাকা পাওনা আছে দাবি করে তা ফেরত চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। মঙ্গলবার পাকিস্তানি একটি সংবাদমাধ্যম এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৭১ পূর্ববর্তী সময়ে পূর্ব পাকিস্তানের কাছে পশ্চিম পাকিস্তানের যে অর্থ পাওনা ছিল, তা বর্তমানে সাতশো কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। যা ৯.২১ বিলিয়ন পাকিস্তানি রূপি এবং ৬.৯২ বিলিয়ন বাংলাদেশি টাকা।