বহুল প্রতিক্ষিত কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ফলাফলে বেসরকারী ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকের ফারুক চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান পদে দিদারুল ইসলাম চৌধুরী
ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বানাজা বেগম নিশি।
রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ শেষ হলে পরে ভোট গননা শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মনির হোসাইন খান। এতে করে কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের প্রথম কর্ণধার হতে যাচ্ছেন নৌকা প্রতীকের তিন প্রার্থী।
নির্বাচনের ফলাফলে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের ফারুক চৌধুরী নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৯৮৬ ভোট ও বিএনপির এসএম ফোরকান ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬হাজার ৬৯৬ ভোট ও ইসলামিক ফ্রন্টের জাহাঙ্গীর কবির রিজভী চেয়ার প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ২৫১ ভোট। ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের দিদারুল ইসলাম চৌধুরী পেয়েছেন ৪০ হাজার ৫২৭ ভোট, বিএনপির হাজী মুহাম্মদ উসমান ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬হাজার ৩১০ ভোট, ইসলামী ফ্রন্টের মাওলানা মুছা মোমবাতি প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৫৭ ভোট ও ইসলামিক ফ্রন্টের নাছির আহমদ চেয়ার প্রতীকে পেয়েছেন ৮৪১ ভোট। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বানাজা বেগম নিশি নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৪২ হাজার ৫০১ ভোট, বিএনপির উম্মে মিরজান শামীম ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৩৯ ভোট ও জাতীয় পার্টির মুন্নি বেগম লাঙল প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৭৭ ভোট।
কর্ণফুলী উপজেলা পরিষধ নির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং অফিসার সৈয়দ আবু ছাঈদ জানান, রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলে শুরু হয় গননা। ভোট গননা শেষ হলে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ফলাফলে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকের ফারুক চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকের দিদারুল ইসলাম চৌধুরী ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকের বানাজা বেগম নিশি বেসরকারী ভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনে মোট ৫১ শতাংশ ভোট পড়েছে।
বিজয়ী ঘোষণার পর কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ফারুক চৌধুরী বলেছেন, রাস্তাঘাটা সংস্কার, কর্ণফুলী নদীর ভাঙ্গন রোধ, আদালত স্থাপন, ভূমি অফিস স্থাপন, থানা ভবন, উপজেলা পরিষদ ভবন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, খেলার মাঠ ও বিনোদন কেন্দ্র, সরকারী স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করাসহ অবকাঠামো স্থাপন করাই প্রধান কাজ। জনগনের মৌলিক চাহিদা পূরন করে আধুনিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রেখে গ্রীন উপজেলা গড়ে তুলতে কাজ করবো।
তিনি বলেন, মানবতা ও মনুষ্যত্বের জন্য রাজনীতি করা। আর রাজনীতির শেষ নি:শ্বাস হলো নির্বাচন। ছোটকাল থেকে মানবতার ও বিবেকের ডাকে সাড়া দিয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়। ধাপে ধাপে পটিয়া সরকারী কলেজে তৎকালীন ছাত্রলীগের পাঠাগার সম্পাদক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শাহ আমানত হলে ছাত্রলীগের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক, বড়উঠান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক, কর্ণফুলী থানা আওয়ামীলীগের সদস্য এবং সর্বশেষ দক্ষিন জেলা আওয়ামীলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
তিনি বলেন, কর্ণফুলী এলাকায় দীর্ঘ বছর ধরে নানা সংকটে জর্জরিত। এ সংকট থেকে উত্তরনের জন্য ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতা ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জবেদের অক্লান্ত পরিশ্রমে নতুন উপজেলা গঠিত হয়েছে। নবসৃষ্ঠ উপজেলার সৃষ্ঠির পেছনে অফিসিয়াল কর্মকান্ডে নিজেও যুক্ত ছিলেন। নবসৃষ্ঠ কর্ণফুলী উপজেলার জনগনের বঞ্চনা ও লাঞ্চনার ইতিহাস থেকে মুক্ত করার জন্য এবং আধুনিক ও উন্নত উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাব।