এনামুল হক রাশেদী, বাঁশখালী(চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারা ইউনিয়নের পূর্ববড়ঘোনা গ্রামের ৭ নং ওয়ার্ডে প্রায় ৬/৭ একর আয়তনের একটি মাছের ঘোনায় দুর্বৃত্তরা সংগোপনে কীটনাশক প্রয়োগ করে প্রায় ৮ লক্ষাধিক টাকার মাছ মেরে ফেলেছে। নির্মম অমানবিক এ ঘটনায় ঘোনার ইজারাদার গ্রামের সহজ সরল দরিদ্র যুবক মোঃ ছাদেক হতবিহ্বল হয়ে দোষীদের সুষ্ঠ তদন্তপুর্বক দৃষ্ঠান্তমুলক শাস্তি ও ক্ষতিপুরন দাবী করেছে। হতভাগ্য ঘোনার ইজারাদার মোঃ ছাদেক স্থানীয় ছমদ আলী সিকদার বাড়ীর নুরুল ইসলামের ছেলে।
১৮ জুন’২২ ইং শনিবার দিবাগত রাত ১ টার দিকে দুর্বৃত্তরা ছাদেকের মাছের ঘোনায় কীটনাশক প্রয়োগ করেছে বলে জানায় ক্ষতিগ্রস্থ ছাদেক। এ ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ীর পুলিশ পরিদর্শক মামুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন এসআই মামুন।
ঘটনার বিবরনে প্রকাশঃ ঘোনার ইজারাদার যুবক ছাদেক হামিদ উল্লাহ টেকের পুর্বপাশে জলকদরের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন প্রায় ৬/৭ একরের জমিতে প্রতিবছর ইজারা নিয়ে মাছের ঘোনা করে চিংড়ি, ট্যাংরা, কোরাল, বাটা, চিরিং মাছের চাষ করে। এ বছরও ঘোনার শুরুতে ধার কর্জ করে প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকার বিভিন্ন মাছের পোনা ছাড়ে। এ পোনা বড় মাছ হয়ে প্রায় ৭/৮ লক্ষ টাকার মাছ হবে। ঘোনাটি ছাদেকের প্রতিবেশীরা নেওয়ার জন্য বিগত বেশ কয়েকবছর থেকে চেস্টা করে ব্যার্থ হলে বেশ কয়েকবার ছাদেকের উপর হামলাও করেছে বলে জানায় ছাদেক। এ নিয়ে কোর্টে মামলাও চলমান আছে। প্রতিপক্ষ প্রতিবেশীরা এ এলাকায় ছাদেক কিভাবে মাছের ঘোনা করে দেখে নেবে বলে চ্যালেঞ্জও দিয়ে রেখেছিল বলে জানায় ছাদেক। প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে প্রতিপক্ষের দুর্বৃত্তরা অমানবিক এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে সন্দেহ করছে ছাদেক।
বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল উদ্দিনের কাঁছে জানতে চাইলে তিনি জানান, মাছের ঘোনায় কীটনাশক প্রয়োগে মাছ মেরে ফেলার মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। ক্ষতিগ্রস্থ ঘোনার মালিকরা মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে জানিয়েছেন ওসি কামাল উদ্দিন।
এদিকে ঘোনায় বিষপ্রয়োগে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ মেরে ফেলার ঘটনায় এলাকার সাধারন জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। ঘোনা এলাকায় সমেবেত শত শত জনতা অবিলম্বে অমানবিক এ নির্মমতার দৃষ্ঠান্তমুলক শাস্তি দাবী করেছে।