পেকুয়ায় ৬৭ একর সম্পদ থাকার পরও ৯৩ বছরের পুরানো মসজিদটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ

0
7

এম.জুবাইদ
পেকুয়া(কক্সবাজার)প্রতিনিধিঃ

কক্সবাজারের পেকুয়ায় মরহুম মকবুল আহমদ চৌধুরী জামে মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২৮ সালে। সদর চৌমুহনীস্থ এলাকায় স্থানীয় মুসল্লীদের সুবিধার্তে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করার পর নিজে দেখভাল করতেন। একই সাথে মসজিদটি সুষ্ঠুভাবে ওনার ওয়ারিশগণ যাতে দেখভাল করতে পারেন তার জন্য ১৩২৯ রেজিস্ট্রি দলিলমূলে ৬৭ একর জমি মসজিদের নামে ওয়াকফ্ করে দেন। তার মৃত্যুর পর পুত্র মৌলভী নুরুল হক চৌধুরী ও তার মৃত্যুর পর তার পুত্র বর্তমান সরফরাজ আল নেওয়াজ চৌধুরী মতোয়াল্লীর দায়িত্ব দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে পালন করছেন। এত সম্পদ থাকার পরও বর্তমানে মসজিদটি পড়ে আছে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়।

বর্তমান মতোয়াল্লী সরফরাজ আল নেওয়াজ চৌধুরী মসজিদ সম্প্রসারণ না করায় বৃষ্টি হলে নামাজ পড়া দায় হয়ে পড়েছে। এছাড়াও এত সম্পদের হিসাব না দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা ও মতোয়াল্লী পরিবর্তন করার জন্য মরহুম মকবুল আহমদ চৌধুরীর অপর ওয়ারিশ জাকের হোসেন চৌধুরী গং জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। জেলা প্রশাসক এ অভিযোগ আমলে নিয়ে বাংলাদেশ ওয়াকফ্ প্রশাসক বরাবর প্রেরণ করেন।

৮ ফেরুয়ারী সোমবার সকালে বাংলাদেশ ওয়াকফ্ প্রশাসক এর অধিন কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিদর্শক ডি.এম খালেদ হোসেন সরেজমিন পরিদর্শন করে মসজিদ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে কথা বলেন।

মরহুম মকবুল আহমদ চৌধুরীর নাতি মরহুম আহমুদুল হক চৌধুরীর সন্তান সাহাব উদ্দিন চৌধুরী হিরু মিয়া বলেন, দাদা মারা যাওয়ার পর ওনার সন্তান নুরুল হক চৌধুরী মতোয়াল্লী হওয়ার সুযোগে ওয়াকফ্কৃত অনেক জমি নিজ নামে এমআরআর করিয়া তাৎমতে ৮৬৭ নং বিএস খতিয়ান করে রক্ষিত করে রাখেন। চাচা নুরুল হক চৌধুরীর মৃত্যুর পর আমরা ওয়ারিশদের সাথে কোন ধরণের পরামর্শ না করে ওনার সন্তান সরফরাজ আল নেওয়াজ চৌধুরী স্বঘোষিত মতোয়াল্লী হয়ে যান। ওই সময় নুরুল হকের অন্যান্য ওয়ারিশগণ সরফরাজের কাছ থেকে জমি দাবী করিলে ৮৬৭ খতিয়ানের জমি ওয়াকফে্র জমি দাবী করিয়া একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা চলমান থাকা অবস্থায় বেশ কিছু জমি স্টাম্পসহ অন্যান্যভাবে বিক্রি করে দখল ছাড়া করেন। এছাড়াও তার ভাই রিদুয়ান আল নেওয়াজ দুই ফর্দ কবলার মাধ্যমে ওয়াকফে্র জমি হস্তান্তর করেন। যার কারণে উক্ত দূর্নীতিবাজ মতোয়াল্লীর বিরুদ্ধে গত ৭ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। অভিযোগে আমরা মতোয়াল্লীর কার্যক্রম স্থগিত করে সরকারি প্রশাসক অথবা কমিটি প্রদানের জন্য আবেদন করি। বর্তমানে তা তদন্ত করছে ওয়াকফ্ প্রশাসক পরিদর্শক কক্সবাজার। গতকাল সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে তদন্ত করতে আসলে দেখতে পায় মতোয়াল্লীর পদটি ধরে রাখতে তিনি একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন। যেখানে বেশ কয়েকজনের সাক্ষর দেখালেও সাক্ষরকারীরা এ সাক্ষর তাদের নয় বলে দাবী করে পরিদর্শনকারী জানান। এমনকি বেশ কয়েকজন উপস্থিতও ছিলেন না। আমাদের পক্ষের সমস্ত লোকজন উপস্থিত থেকে এত সম্পদ থাকার পরও মসজিদটি যে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে তা দেখিয়েছি। একই সাথে মসজিদ মার্কেট যেটা করেছে তা দোকান বরাদ্ধের সালামী নিয়ে যে করেছে তার প্রমাণ তিনি সরেজমিন কথা বলে জানতে পেরেছেন। স্থানীয় শতশত মুসল্লীদের যাতে নামাজ পড়তে কষ্ট না হয় সেই জন্য আমরা ওয়ারিশগণ নিজ অর্থায়নে সংস্কার করার জন্য আবেদন করলেও সরফরাজ তা করতে দিচ্ছেনা।

জাকের হোসেন চৌধুরী বলেন, এত বছর সরফরাজ আমাদের কোন হিসাব দেয়াতো দূরের কথা অতিহ্যবাহি মসজিদটি পর্যন্ত সংস্কার করেনি। মসজিদের বেশিরভাগ জমি তিনি নিজেই জবর দখল করে রেখেছেন। আমরা তার হিসাব চাইলে বিভিন্ন ধরণের অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করেন। আমরা চাই মসজিদটির দ্রুত সম্প্রসারণ কাজ শুরু হয়ে ছাদটি যাতে দ্রুত করে দিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর দুঃখ লাগবে কাজ করে।

সাহাব উদ্দিন চৌধুরী বাছা মিয়া বলেন, সরফরাজ আলম নেওয়াজ একজন দূর্নীতি পরায়ন লোক। দীর্ঘবছর কোটি কোটি আত্মসাত করলেও পুরানো মসজিদটি সংস্কার করেনি। আমরা চাই এটি দ্রুত সংস্কার করে সমস্ত হিসাব ওয়ারিশগণের মাঝে বিলি করুক।

এ সময় সরফরাজ আল নেওয়াজ চৌধুরী বলেন, বিষয়টি পরিদর্শক কাগজপত্র বিশ্লেষন করে ব্যবস্থা নিবেন। তার চেয়ে বেশি কিছু বলা যাবেনা।

পরিদর্শক ডি.এম খালেদ হোসেন বলেন, দুই পক্ষের অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করেছি। আরো অধিকতর তদন্ত করে সঠিক রিপোর্টটি পেশ করবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here