সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান খুনের ঘটনায় টেকনাফের বাহারছরা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক (প্রত্যাহার) লিয়াকত আলীসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে। মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে টেকনাফের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদনটি করেন।

বাদী পক্ষের প্রধান আইনজীবী এডভোকেট মোহাম্মদ মোস্তফা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলায় বাহারছরা তদন্ত কেন্দ্রের প্রত্যাহারকৃত পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে। তারা ছাড়াও আরো ৭ জনকে এজহারভূক্ত আসামি করা হয়েছে। বিচারক আদালতের এজলাসে বসলেই মামলাটি গ্রহনযোগ্যতার বিষয়ে শুনানি শুরু হবে।

টেকনাফ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নিয়মিত বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হেলাল উদ্দিন ছুটিতে থাকায় টেকনাফ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক তামান্না ফারাহ্ মামলাটির গ্রহনযোগ্যতা শুনানি করবেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ আগস্ট রাত্রে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ রোডে মেজর সিনহা তাঁর কক্সবাজারমুখী প্রাইভেট কারটি নিয়ে টেকনাফের বাহারছরা শামলাপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের চেকপোস্টে পৌঁছালে গাড়িটি পুলিশ থামিয়ে দেয়। তখন তিনি উপর দিকে তার হাত তুলে তার প্রাইভেট কার থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে বাহারছরা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রর ইনচার্জ লিয়াকত আলী পরপর ৩ রাউন্ড গুলি করে হত্যা করে বলে সেনা সদর থেকে গণমাধ্যমে প্রেরিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

ঘটনা তদন্তে গত ২ আগস্ট চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোঃ মিজানুর রহমানকে আহবায়ক করে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্ত্বা বিভাগ। ৪ আগষ্ট থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় টেকনাফের বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ লিয়াকত আলিসহ ২০ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।