ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দেনিস চেরিশেভের গোলটি হয়তো এখনো সবার চোখে লেগে আছে। সেটা যদি ভুলে গিয়েও থাকেন কেউ, সেটা মনে করিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে ফিফা। ২০১৮ সালের ফিফা বর্ষসেরা গোল, পুসকাসের জন্য মনোনীত ১০ গোলের একটি নির্বাচিত হয়েছে রাশিয়ান উইঙ্গারের গোলটি। কিন্তু বিশ্বকাপ শেষ হতেই যে এখন বিরাট ঝামেলায় পড়েছেন চেরিশেভ। তাঁর বিরুদ্ধে যে ডোপ পাপের অভিযোগ উঠেছে!

বাবা দিমিত্রি চেরিশেভের একটা কথা থেকেই এমন ঝামেলায় পড়ে গেলেন দেনিস চেরিশেভ! রাশিয়া বিশ্বকাপে আলো ছড়ানো রুশ উইঙ্গারের বিরুদ্ধে এখন ডোপ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে! এই মৌসুমে ধারে ভ্যালেন্সিয়ায় খেলা ভিয়ারিয়াল উইঙ্গারের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তে নেমেও পড়েছে স্প্যানিশ মাদকবিরোধী সংস্থা।

চেরিশেভের বাবা দিমিত্রি কদিন আগে একটা সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, বিশ্বকাপের আগে গ্রোথ হরমোনের চিকিৎসা নিয়েছিলেন তাঁর ২৭ বছর বয়সী ছেলে। থেরাপির জন্য এই হরমোন ব্যবহার হলে ভিন্ন কথা, না হলে এ জন্য চার বছরের নিষেধাজ্ঞাও জুটতে পারে। দিমিত্রি যদিও পরে বলেছেন, সাক্ষাৎকারে তাঁর কথা বিকৃত করা হয়েছে, তবে ততক্ষণে যা হওয়ার হয়েই গেছে। বিশ্ব মাদকবিরোধী সংস্থার (ওয়াডা) এক মুখপাত্রের বরাতে রুশ দৈনিক স্পোর্টস এক্সপ্রেস লিখেছে, ‘ব্যাপারটা এখন স্প্যানিশ মাদকবিরোধী সংস্থা তদন্ত করছে। তারা তদন্তের ফল ওয়াডাকে জানাবে।’

সেটির ফল কী আসবে কে জানে, তবে রাশিয়ার অ্যাথলেটদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ওষুধ নেওয়ার অভিযোগ যেন থামছেই না! ২০১৪ সোচি অলিম্পিকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় রুশ অ্যাথলেটদের নিষিদ্ধ ড্রাগ নেওয়ার প্রতিবেদন তো গোটা বিশ্বকেই আলোড়িত করেছে। এবার রাশিয়া বিশ্বকাপের আগেও শঙ্কা ছিল পারফরম্যান্সবর্ধক নিষিদ্ধ ওষুধের ব্যবহার নিয়ে। এরই মধ্যে এই প্রতিবেদন।

সৌদি আরবের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ২ গোল করা চেরিশেভ বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচে করেছেন ৪ গোল। এর মধ্যে কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গোলটি তো দুর্দান্ত! সেই আলো ছড়ানো পারফরম্যান্সেই এখন কালিমা লাগার জোগাড়। চেরিশেভ অবশ্য কোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, ‘আমার মনে হয়, সবকিছু চিকিৎসকদের হাতে ছেড়ে দেওয়াই ভালো, যাঁরা সবকিছু ঠিকঠাকভাবে করেছেন। আমার দিক থেকে বলব, সবকিছুই সৎভাবে করেছি।’