বাংলাদেশে একজন লেখক এবং ফেসবুক এ্যাকটিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্যের গত ৬ দিন ধরে কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না, এবং তার পিতা বলছেন, একটি গোয়েন্দা সংস্থা তাকে ধরে নিয়ে যেতে পারে এই ভয়ে তিনি হয়তো আত্মগোপন করে আছেন। পিনাকী ভট্টাচার্যের বাবা শ্যামল ভট্টাচার্য উত্তরাঞ্চলীয় বগুড়া শহরের একজন সাবেক শিক্ষক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। গত ৫ই আগস্ট তারা সবাই মিলে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে নেত্রকোণা গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পর দিন থেকেই তার সাথে কোন যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
পিনাকী সম্প্রতি নিজেই ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন যে পরদিন তিনি অফিসে থাকার সময় বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই-এর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে একজন তাকে ফোন করেন। “তাকে বলা হয়, আপনি আমাদের এখানে আসুন, আপনার সাথে কিছু কথা আছে। পিনাকী জবাব দেয়: আপনারাই বরং আমার অফিসে চলে আসুন, আমি খালি আছি” – জানান মি. ভট্টাচার্য। “এর পর তারা আসার আগেই পিনাকী অফিস থেকে নেমে বেরিয়ে যায় এবং তার পর থেকে তার কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। সে আর বাড়ি ফেরে নি।” – বলেন তিনি।
“এর পর আমি আতঙ্কিত হয়ে দৈনিক প্রথম আলোতে আমি একটি চিঠি লিখি, তার সন্ধান এবং নিরাপত্তার আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করি।” মি. ভট্টাচার্যের এ আবেদনের খবর রবিবার দৈনিক পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে। পিনাকী ভট্টাচার্যে পরিবারের অন্য সদস্যরা বলছেন, ৬ই আগস্ট বিকেলে সামরিক গোয়েন্দা বাহিনীর পরিচয় দানকারী দু’জন লোক পিনাকীর কর্মস্থল একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির অফিস ও বাসায় যান এবং তিনি কোথায় গেছেন তা জানতে চান।
নিখোঁজ হবার প্রায় ৫ দিন পর শনিবার ফেসবুকে পিনাকী ভট্টাচার্য একটি স্ট্যাটাস দেন। এতে তিনি তার পিতার বিবৃতির উল্লেখ করে বলেন, এতে তার ‘প্রকৃত অবস্থা বিধৃত হয়েছে।’ তবে তিনি ‘এখনো নিরাপদে এবং সুস্থ আছেন’ বলে জানান। ফেসবুকের ঐ পোস্টে পিনাকী ভট্টচার্য আরো লেখেন – “যারা আদালতের নির্দেশ ছাড়া, ওয়ারেন্ট ছাড়া আমাকে তাদের অন্ধকার অফিসে ঢুকিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান। ধরে নিয়ে যাবার জন্য আমার কর্মস্থলে আর বাসায় খোঁজ করতে আসেন। যারা হয়তো আমাকে গুম করে ফেলতে চান, …তারা মনে রাখবেন আমারও সন্তান আছে।”
তিনি বলেন, “আমাকে কেন ডি.জি.এফ.আই খুঁজবে? ডি.জি.এফ.আই-এর কাজ কি? যে ভদ্রলোক সেনাবাহিনীর মেজর পরিচয়ে ফোন করে তাদের অফিসে যাবার জন্য আমাকে ডেকেছেন, তার কথোপকথনের অডিও রেকর্ড আমার কাছে আছে। অভিন্ন মেজরের পরিচয়েই আমার বাসায় এবং কাজের জায়গায় আমার খোঁজে যাওয়া হয়েছিল।”
তার পিতা শ্যামল ভট্টাচার্য, এসব স্ট্যাটাস দেখে তিনি অন্তত এতটুকু নিশ্চিত হয়েছেন যে তার ছেলেকে কেউ ধরে নিয়ে যায় নি, তিনি আত্মগোপন করে আছেন। তিনি আরো বলেন, সম্ভবত কাউকে ফোন করলেই তার অবস্থান জেনে ফেলবে এ ভয়েই তিনি কোথাও ফোন করছেন না, এমন কি তার স্ত্রীকেও তিনি ফোন করেন নি।পিনাকী ভট্টাচার্য একাধিক বইয়ের লেখক, এবং ফেসবুকে একজন সক্রিয় এ্যাকটিভিস্ট – সমকালীন রাজনীতি ও সমাজ বিষয়ে যার বিভিন্ন মন্তব্য বেশ ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে।
সম্প্রতি নিরাপদ সড়কের দাবিতে বাংলাদেশের স্কুলকলেজের ছাত্রছাত্রীদের কয়েকদিনব্যাপী বিক্ষোভ নিয়েও তিনি একাধিক পোস্ট দিয়েছেন।