বাংলাদেশে বিরোধী দল বিএনপির কারাবন্দী নেত্রী খালেদা জিয়ার অসুস্থতা গুরুতর কিছু নয় বলে দাবি করেছেন চিকিৎসকরা।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে পরস্পরবিরোধী নানা খবরের পরিপ্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করেছিল। সেই বোর্ডের প্রধান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থপেডিক্স বিভাগের প্রধান মোঃ: শামসুজ্জামান জানান, “এক কথায় বলবো যে উনি অসুস্থ কিন্তু খুব মারাত্মক কিছু নয়।”

তিনি আরও বলেন, “অসুস্থতা উনার আগেও ছিল, এখন সেগুলো বেড়েছে। তবে গুরুতর কিছু নয়, শঙ্কারও কিছু নেই। অসুস্থতা আগে যা ছিল তার থেকে মাত্রা একুট বেড়েছে-আমরা তাই পেয়েছি।”মিছিলের গান থেকেই কি এসেছিল দাঙ্গার উস্কানি

বিএনপির নেতারা গত কয়েকদিন ধরেই অভিযোগ করছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তারা স্পষ্ট কোনও ধারণা পাচ্ছেন না। দলীয় নেত্রীর চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তারা তার মুক্তির দাবি করেছেন।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে যে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে তাদের পক্ষ থেকে অসুস্থতার বিষয়ে কি বলা হচ্ছে?

গত ৮ই ফেব্রুয়ারি কারাগারে যাওয়ার পরে বিএনপির যে প্রতিনিধি দলটি তার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন বিএনপি নেতা খন্দকার মোশারফ হোসেন। সেইসময় মিসেস জিয়া তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কোনও অভিযোগ করেননি বলে জানান মিস্টার হোসেন।

কিন্তু এরপর কারা কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি তাকে নির্ধারিত দিনে আদালতে হাজির করতে না পারায় বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, জানান বিএনপির এই নেতা।খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানাচ্ছে বিএনপি

খন্দকার মোশারফ হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন, “আমাদের নেত্রী দীর্ঘদিন ধরে মিসেস চোখের সমস্যা, আর্থ্রাইটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। সেইসাথে বয়স-জনিত অন্যান্য সমস্যা রয়েছে। আমরা তার চিকিৎসার বিষয়ে পরিস্কার কিছু জানতে পারছিনা। যেখানে অসুস্থতার কথা বলে তাকে আদালতে হাজির করেনি কারা কর্তৃপক্ষ, তাহলে সেটা তো অবশ্যই গুরুতর বলে আমরা মনে করি।”

তবে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে যে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে রোববারই তারা কারাগারে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়াকে দেখতে। সেই মেডিকেল বোর্ডের প্রধান মোঃ: শামসুজ্জামান বলেন, তার অসুস্থতা গুরুতর নয়।

কিন্তু কেন তাহলে খালেদা জিয়াকে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়নি- প্রশ্ন করা হলে, মিস্টার শামসুজ্জামান বলেন, “উনার হাতে-পায়ে, কোমরে ব্যথা বেড়েছে। উনাকে অন্য ব্যক্তিদের সাহায্য নিয়ে হাঁটতে হচ্ছে।”

কারাবন্দীদের অসুস্থতার ক্ষেত্রে সরকারি-ভাবে চিকিৎসার বন্দোবস্ত করে থাকে কারা কর্তৃপক্ষ। প্রথমে কারাগারের চিকিৎসকরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখেন, পরে প্রয়োজন হেল আলাদা মেডিক্যাল বোর্ড বসিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অসুস্থতার গুরুত্ব অনুযায়ী কারাগারের বাইরেও চিকিৎসার সিদ্ধান্ত সরকার নিতে পারে।

তবে বিএনপি নেতারা বলছেন, এতদিন পর্যন্ত মূলত দেশের বাইরে বিভিন্ন দেশেই খালেদা জিয়ার চিকিৎসা হয়েছে। ফলে তারা দেশের বাইরেই তার চিকিৎসার কথা ভাবছেন।

খন্দকার মোশারফ হোসেন বলেন, “খালেদা জিয়ার দুই হাঁটুই প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। একটি আমেরিকায় এবং অপর হাঁটু প্রতিস্থাপন করা হয় সৌদি আরবে। আর তার চোখের চিকিৎসা হয়েছে লন্ডনে। ফলে আমরা তার মুক্তি চাই। বেগম জিয়া নিজেই সিদ্ধান্ত নেবেন দেশে নাকি বিদেশে চিকিৎসা করা হবে।”

এদিকে মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা বলছেন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা কিছুটা অবনতি হয়েছে ঠিকই কিন্তু তাকে এখনই হাসপাতালে স্থানান্তর করবার প্রয়োজন আছে বলে তারা মনে করছেন না।

তবে খালেদা জিয়ার বেশকিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রয়োজন এবং সেজন্য রক্ত পরীক্ষার এবং এক্সরে করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সেসব পরীক্ষা করতে হলে খালেদা জিয়াকে কারাগারের বাইরে নিতে হবে বলে জানান চিকিৎসকদের দলটি। এখন এসমস্ত পরীক্ষা করা হবে কি-না সে সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব কারা কর্তৃপক্ষের।