লেখক:গোলাম মওলা রনি
ইদানীং ঘরে যাদের বিবাহযোগ্য পুত্র-কন্যা রয়েছে, তারা যে কী নিদারুণ সময় পার করছেন, তা একমাত্র ভুক্তভোগীরাই বলতে পারবেন। চার দিকের নানান আশঙ্কা, গুজব, অনাস্থা ও অবিশ্বাসের রাজ্যে নিজের কন্যার জন্য একটি উপযুক্ত পাত্র খোঁজ করা অথবা পুত্রের জন্য বধূ নির্বাচন করা যে কতটা ঝক্কিঝামেলার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আধুনিক প্রযুক্তির মোবাইল, ইন্টারনেট, সামাজিক মাধ্যম এবং সর্বোপরি অস্থির সামাজিক পরিবেশের কারণে বেশির ভাগ পরিবারে স্বাভাবিক সম্পর্কের বন্ধন অনেক আগেই শিথিল অথবা এলোমেলো হয়ে গেছে। যারা বহু কষ্টে পুরনো পারিবারিক ঐতিহ্যের ভালোবাসার বন্ধন ধরে রাখার চেষ্টা করছেন, তারাও নানামুখী বাধাবিপত্তি ও ব্যঙ্গবিদ্রূপের কবলে পড়ে ক্ষেত্রবিশেষে অসহায় অবস্থায় পড়ে যাচ্ছেন। আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক অর্থনীতি, বিশৃঙ্খল শিক্ষাব্যবস্থা এবং মানহীন জীবনযাত্রার কারণে মানুষের রুচি, চিন্তাধারা ও চালচলন-কথাবার্তা এবং পোশাক-আশাকে যে বিভেদ-বিসম্বাদ শুরু হয়েছে; সে অবস্থায় নিজের বা নিজেদের সব কিছুর সাথে তাল মিলিয়ে পাত্র-পাত্রীদের বিয়েশাদির আয়োজন রীতিমতো দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমাদের সমাজের নব্য ধনীরা কেবল তাদের মতো ধনীদের সাথেই সামাজিক সম্পর্ক গড়তে চান। যেসব পরিবার তাদের ছেলেমেয়েকে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াশোনা করান, তারা পাত্র-পাত্রী খোঁজার ক্ষেত্রে সব সময় বাংলা মিডিয়ামে পড়–য়াদের পরিহার করে চলেন। ধর্ম, বর্ণ, বংশ মর্যাদা ইত্যাদির পাশাপাশি আঞ্চলিকতাবোধ ইদানীং প্রকট হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের কিছু জেলা রয়েছে, যেখানকার অধিবাসী অন্য জেলার পাত্র-পাত্রীদের সাথে কিছুতেই বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চান না। এর বাইরে পেশা ও পোশাক ইদানীংকালের বিয়েশাদিতে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করছে। এক শ্রেণীর ছেলেমেয়ে আধুনিকতার নামে এমন সব পোশাক পরে এবং চুলে বাহারি স্টাইল করে ঘুরে বেড়ায়, তা দেখে অপর শ্রেণীটি ছি ছি করে মরে যায়। বিপরীতে ধর্মপরায়ণ পরিবারের ছেলেমেয়েদের বেশভূষা দেখে অপর শ্রেণীটি তাদের জঙ্গি, ধর্মান্ধ, সেকেলে অথবা অন্ধকার যুগের মানুষ আখ্যা দিয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখে।

বিয়েশাদির ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রীদের পছন্দ-অপছন্দের সাথে ময়মুরব্বিদের অতি উদারতা অথবা অতি বয়সশীলতা ভয়াবহ সমস্যার সৃষ্টি করেছে। কিছু পিতা-মাতা তথাকথিত আধুনিকতার নামে নিজ সন্তানদের চলাফেরা ও মেলামেশায় অবাধ স্বাধীনতা দিয়ে থাকেন। ফলে এসব পরিবারের বেশির ভাগ ছেলেমেয়ে অকালপক্ব হয়ে পড়ে। অনেকে কিশোর বয়সে বিবাহবহির্ভূত একাধিক শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। অনেকে সকাল-বিকেল প্রেমিক-প্রেমিকা বদল করতে করতে এক সময় বিপরীত লিঙ্গের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসার আকর্ষণ যেমন হারিয়ে ফেলে, তেমনি নিজের প্রতিও আস্থা হারিয়ে ফেলে। এসব ছেলেমেয়ে যখন বিয়ের উপযুক্ত হয়, তখন তারা না পারে নিজেদের পছন্দের মানুষকে বিয়ে করতে; না পারে পিতা-মাতার পছন্দের পাত্র-পাত্রীকে বরণ করে নিতে। বিয়ের বয়স অতিক্রান্ত হওয়ার পর অনেকে নানান অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। আবার কেউ কেউ মাদকাসক্ত কিংবা বহেমিয়ান জীবন বেছে নেয়।

অতি খোলামেলা বা তথাকথিত আধুনিকতার বিপরীতে অতি রক্ষণশীলেরাও তাদের ছেলেমেয়ের জীবন বিপন্ন করে তোলেন। কেউ কেউ ধর্মবিশ্বাসের বিভ্রান্তি, অপব্যাখ্যা কিংবা ভুল ব্যাখ্যার কারণে অতিমাত্রায় রক্ষণশীল হয়ে পড়েন। বাংলাদেশের হিন্দু, মুসিলম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান থেকে শুরু করে নানান উপজাতীয় ধর্মমতে বিশ্বাসীদের মধ্যে এমনতরো কিছু রক্ষণশীল সম্প্রদায় সাম্প্রতিক কালে সৃষ্টি হয়েছে, যা সুদূর অতীত অথবা নিকট অতীতে আমাদের দেশে ছিল না। অন্য দিকে ধর্মবিবর্জিত কিছু লোকও ভয়াবহ রক্ষণশীলতা ও উগ্রতার সমন্বয়ে এক জটিল জীবনব্যবস্থার অধীন নিজেকে এবং পরিবারকে পরিচালিত করতে গিয়ে নানান সমস্যার সৃষ্টি করছেন। তাদের কেউ কেউ নিজে ভয়ানক অপকর্মে জড়িত এবং হররোজ বিভিন্ন নীতিগর্হিত কাজ করে বেড়াচ্ছেন। অন্য দিকে স্ত্রী-পুত্র-কন্যাদের কঠোর অনুশাসনে মানুষ করার চেষ্টা করছেন। ফলে এসব পরিবারে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই হিতে বিপরীত হয়ে থাকে।

আমাদের পরিচিত একটি পরিবার তাদের বিয়ের উপযুক্ত পুত্রের জন্য একটি ভালো কন্যার খোঁজ করে চলেছেন বহু দিন ধরে; কিন্তু কিছুতেই যেন মেলাতে পারছেন না। ঘটক, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ও পরিচিতজনদের নিকট ধরনা দিয়েও মনের মতো পাত্রী না পেয়ে একসময় পুত্রের প্রতি বিক্ষুব্ধ হয়ে বলে ওঠেন- তোমাকে নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স করালাম। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করলে। এত মেয়েদের সাথে ওঠাবসা করেছ অথচ একটি প্রেম পর্যন্ত করতে পারলে না। নম্র-ভদ্র ছেলেটি তার অভিভাবকদের বলল- কিভাবে প্রেম করব। একটি ডিপার্টমেন্টে পছন্দসই মেয়ে থাকে বড়জোর দু-তিনটি। ক্লাসের সব ছেলে সেই মেয়ের সাথে প্রেম করার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করে, যা অতিক্রম করা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রেমিকার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য প্রেমিকমহলে মারামারি পর্যন্ত লেগে যায়। এত সব করার পরও মেয়েটি যে কাউকে পছন্দ করবে, এমন সম্ভাবনা ফিফটি ফিফটি- অর্থাৎ হতেও পারে আবার না-ও হতে পারে।

উল্লিখিত পরিবার ছাড়াও আমি আরো দু’টি পরিবারকে চিনি, যারা তাদের মেয়েকে অতি উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য আদাজল খেয়ে লেগেছিলেন। একটি পরিবার তাদের মেয়েকে দেশ-বিদেশ থেকে ডাক্তারি বিদ্যায় সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করিয়ে আনলেন। তারপর সর্বগুণে গুণান্বিত সুন্দরী কন্যাটির জন্য অনুরূপ একটি পাত্র খুঁজতে প্রায় এক যুগ পার করে দিলেন। বর্তমানে মেয়েটির বয়স চল্লিশ পার হয়েছে, কিন্তু অতিরিক্ত নাক উঁচু মনোভাবের জন্য আজ অবধি বিয়ের আসনে বসতে পারেননি। দ্বিতীয় পরিবারটির মেয়ে বুয়েটে শিক্ষিতা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। মেয়েটির অতিরিক্ত জ্ঞানগরিমা, স্পষ্টবাদিতা ও নারীবাদী কথাবার্তা শুনে তাকে দেখতে আসা পাত্রপক্ষ ভয় পেয়ে ফিরে যায়। ফলে সেই মেয়েটিও চল্লিশে পা দিয়েছেন বিয়েশাদির আশা-ভরসায় গুড়েবালি দিয়ে। এখন উভয় কন্যার পরিবার উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কী যে নিদারুণ সময় পার করছে, তা বলে-কয়ে বোঝানো যাবে না।

বিয়েশাদির ক্ষেত্রে কতগুলো ভয় প্রায়ই অভিভাবকদের তাড়িত করে। প্রথমত, বিয়েবিচ্ছেদের শঙ্কা। ইদানীং বাংলাদেশে যে হারে বিয়েবিচ্ছেদ বিশেষ করে নবদম্পতিদের বিয়েবিচ্ছেদ বেড়েছে, তাতে অভিভাবকেরা চিন্তিত না হয়ে পারেন না। দেখা গেল, খুব ঘটা করে বহু অর্থব্যয়ে যে বিয়েটি সম্পন্ন হলো, তা দুই মাসের মাথায় বিচ্ছেদ হয়ে গেল। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত এবং উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে এ ধরনের বিচ্ছেদের হার এত বেশি যে, তা গণনা করে শেষ করা যাবে না।

নবদম্পতির মনমানসিকতা, চাহিদা, রুচি এবং ব্যক্তিগত পছন্দ ও অপছন্দের ব্যাপারে অতিমাত্রায় স্বার্থপরতার কারণে বেশির ভাগ বিয়েবিচ্ছেদ ঘটে থাকে। এসব পাত্র-পাত্রী যখন দ্বিতীয়বার, তৃতীয়বার কিংবা চতুর্থবার বিয়ের আসনে বসে, তখন তাদের দাম্পত্যজীবনে কতটুকু সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য থাকে তা বলাই বাহুল্য।

অবিবাহিত ছেলেমেয়েদের একাধিক পরকীয়া, অসম শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া এবং বিয়ের ব্যাপারে উদাসীনতার কারণে অনেক অভিভাবককে নিজের ছেলেমেয়েদের ব্যাপারে চরম উৎকণ্ঠা নিয়ে সময় কাটাতে হয়। কিছু কিছু ছেলেমেয়ে হোটেল, ক্লাব, পার্টি ইত্যাদি করে পিতা-মাতার মুখে চুনকালি মেখে দেয়। কেউ কেউ আরো এক ধাপ এগিয়ে খণ্ডকালীন পতিতাবৃত্তিতে পর্যন্ত জড়িয়ে যায়। কিশোর বা যুবক পুত্র তার চেয়ে ১০-১২ বছর কিংবা মা-দাদীর চেয়ে বেশি বয়সী বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত মহিলার সাথে সম্পর্ক গড়তে যেমন লজ্জা করে না; তেমনি অল্পবয়সী মেয়েরা তাদের বাবা-চাচা এমনকি দাদার বয়সী ধনাঢ্য ও ক্ষমতাশালী পুরুষদের সাথে পাল্লা দিয়ে বন্ধুত্ব করে তাদের শয্যাসঙ্গিনী হিসেবে জীবন চালানোকে লজ্জাজনক বলে মনে করে না। আমাদের সমাজের এ ধরনের অবক্ষয় সম্প্রতি যে হারে এবং নিয়ন্ত্রণহীনভাবে যেভাবে বাড়ছে, তা যেমন বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য ধ্বংস করে দিচ্ছে; তেমনি বৈবাহিক বন্ধনের পথে পাহাড়সম বাধাবিপত্তি সৃষ্টি করে চলেছে।

উপরোল্লিখিত সমস্যাগুলোর পাশাপাশি মাদকাসক্তি, পুরুষত্বহানি, মা হওয়ার ক্ষমতা হারানো, আংশিক মানসিক ভারসাম্যহীনতাসহ কিছু যৌনরোগ তরুণ ছেলেমেয়েদের মধ্যে ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে। সচ্ছল ও অবস্থাপন্ন পরিবারগুলোর ছেলেমেয়েরা বেশি সংখ্যায় এ ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে। আমার পরিচিত এক ব্যবসায়ী ভদ্রলোক তার দীর্ঘ দিনের পরিচিত বন্ধু এবং প্রতিবেশীর পুত্রের সাথে মেয়ের বিয়ে দিলেন মহাধুমধাম করে। মেয়েটির বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর এবং লেখাপড়ায় ছিল অসাধারণ মেধাবী। মেয়েটি দেখতে যেমন সুন্দরী, তেমনি আচার-আচরণে ছিল সাক্ষাৎ লক্ষ্মী। মেয়েটি যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গিয়ে আমাদের সামাজিক পাপ ও পঙ্কিলতায় পড়ে না যায়, এ জন্য তার অতি সতর্ক অভিভাবকেরা তাড়াতাড়ি বিয়ের ব্যবস্থা করেন। অন্য দিকে, ছেলেটিও ছিল দেখার মতো সুন্দর। আচার-আচরণে ভদ্র এবং একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে উঁচু বেতনে চাকরি করা ছেলেটি যে পুরুষত্বহীন হতে পারে, তা মেয়েপক্ষ স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেনি। ফলে যত ঘটা করে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে বিয়েটি হয়েছিল, তার বিপরীতে সর্বোচ্চ নীরবতা ও গোপনীয়তার মধ্যে বিয়ের কয়েক মাসের মাথায় বিচ্ছেদ ঘটে যায়।

আলোচনার এই পর্যায়ে বিয়েশাদির খরচাপাতি নিয়ে কিছু বলা দরকার। আমাদের সমাজে প্রত্যক্ষ যৌতুকের সংখ্যা কমে গেছে, কিন্তু বিয়ের আচার-অনুষ্ঠানে নতুন নতুন মাত্রা এবং অতিরিক্ত খরচের খাত যুক্ত হয়েছে। ভারতীয় সংস্কৃতির আদলে আমাদের বিয়েশাদির অনুষ্ঠান চার-পাঁচ পর্বে অনুষ্ঠিত হয়। বিয়ের পোশাক, গয়না ও আনুষ্ঠানিকতাতেও বিজাতীয় সংস্কৃতির ব্যাপক প্রভাব লক্ষ করা যায়। ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর অবাধ সম্প্রচারের কারণে সে দেশের বিয়ের বাহারি আয়োজন দেখে আমাদের কিশোর-কিশোরীরা আবহমান বাংলার হাজার বছরের লাজলজ্জা, সম্মান-শ্রদ্ধা ইত্যাদি জলাঞ্জলি দিয়ে পিতা-মাতার কাছে বিয়ের অনেক বছর আগে থেকেই আবদার করে থাকে যে, তাদের বিয়ে যেন এমনভাবে হয়। আমাদের সমাজের অনেক সচ্ছল ও তথাকথিত আধুনিক পিতা-মাতা ১৪-১৫ বছর বয়সের মেয়েকে নিয়ে মার্কেটে গিয়ে তার পছন্দের বিয়ের গয়না অগ্রিম ক্রয় করে রাখেন মেয়ের আবদার রক্ষার জন্য।

বাংলাদেশের শহর-বন্দর-গ্রামের সর্বত্রই এখন একজন অন্যজনের সাথে পাল্লা দিয়ে জাঁকজমকের সাথে মহাধুমধাম করে বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। ফলে দেশের নামকরা কমিউনিটি সেন্টার, পাঁচতারা হোটেলের হলরুম ইত্যাদির বুকিং পাওয়ার জন্য বছরখানেক আগে যোগাযোগ করতে হয়। যাদের অবৈধ অর্থ, ক্ষমতা ও দাপট রয়েছে, তাদের জন্য চার-পাঁচ পর্বের বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য হলরুম ভাড়া করে শত কোটি টাকা খরচ করা কোনো ব্যাপারই নয়। কিন্তু সৎ, সচ্ছল ও শিক্ষিত ভদ্রলোকেরা নিজেদের ছেলেমেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানের ব্যয় নিয়ে যে কতটা চিন্তায় থাকেন, তা কেবল ভুক্তভোগীরাই ভালো বলতে পারবেন।

আমরা আজকের আলোচনার একদম শেষ প্রান্তে চলে এসেছি। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষের যে সম্পর্কটি সৃষ্টির আদিতে নিজ তত্ত্বাবধানে জান্নাতে আয়োজন করেছিলেন, তার নাম বিয়েবন্ধন। আদি পিতা হজরত আদম আ: এবং মা হাওয়ার সেই জান্নাতি বিয়ের ঐশী সুফল পৃথিবীর মানুষ তখনই উপভোগ করতে পারবে, যখন সে বিয়ের ব্যাপারে স্রষ্টার বিধিবিধান এবং আদেশ-নিষেধ মেনে চলবে। আমাদের দেশের সমাজব্যবস্থায় আমরা হয়তো তথাকথিত আধুনিকতা ও প্রগতির পথে অনেকটা এগিয়েছি; কিন্তু বিধাতার বিধিবিধান থেকে বহু দূর পেছনে চলে গিয়েছি। ফলে বিয়েবন্ধনের মতো একটি ঐশী সম্পর্ক আমাদের অনেকের জীবনে আশীর্বাদ না হয়ে অভিশাপের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে মাফ করুন এবং হেফাজত করুন।

Advertisements