আদালত_khaleda

গাড়িতে পেট্রলবোমা মেরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় যাত্রীহত্যা সংক্তান্ত বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে খালেদা জিয়াসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ২৯ জানুয়ারি নির্ধারণ করেছেন আদালত।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সময় মঞ্জুর করে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রুহুল আমিন শুনানির এ দিন ধার্য করেন।

গত ৫ জুন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত এ মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে প্রেরণ করেন। এদিন পলাতক আসামিদের গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল প্রতিবেদন প্রাপ্তির জন্য ও জামিনে থাকা আসামিদের হাজিরার জন্য দিন ধার্য ছিল। এর আগে গত ২৭ এপ্রিল ও ১৮ জুলাই খালেদা জিয়া আদালতে আসেননি। তার সময়ের আবেদন আদালত মঞ্জুর করেন। এর আগে ৫ এপ্রিল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন খালেদা জিয়া।

মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, সিনিয়ার যুগ্ম-মহাসচিব রহুল কবির রিজভী, সাবেক যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমানসহ ১১ জন জামিনে রয়েছেন।

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, (বর্তমানে হাজতে), বিএনপির নেতা বরকত উল্লাহ বুলু, আজিজুল বারী হেলাল, মীর সরাফত আলী সফু, সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ ২২ জন পলাতক রয়েছেন।

গত ৩০ মার্চ খালেদাসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মামলার অভিযোগপত্র আমলে গ্রহন করে খালেদা জিয়াসহ পলাতক ২৮ আসামির বিরুদ্বে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. কাকরুল হোসেন মোল্লা অভিযোগপত্র পর্যালোচনা করে অভিযোগপত্র আমলে গ্রহণ করে উপরোক্ত আদেশ দেন। এ মামলায় খালেদা জিয়াকে পলাতক দেখানো হয়ে ছিল। বর্তমানে অভিযুক্ত ৩৮ জনের মধ্যে ৫ জন কারাগারে ১১ জন জামিনে রয়েছেন। আদালত এ মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াসহ ৪৩ জনকে অব্যাহতি দিয়েছেন ।

গত ২০১৫ সালের ৬ মে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই বশির উদ্দিন ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। এতে খালেদা জিয়াসহ ৩১ জনকে পলাতক দেখানো হয়েছে। আদালতে খালেদা জিয়াসহ পলাতক ৩১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়। মামলার অভিযোগপত্রে ৮১ জনকে সাক্ষী করা হয় ।

অভিযুক্ত অন্য আসামিরা হলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া, এম কে আনোয়ার, যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, আমানউল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু, ভাইস-চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, বিএনপি চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন, শওকত মাহমুদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ও সাবেক ছাত্রনেত্রা হাবিব-উন-নবী খান সোহেলসহ ৩৮ জন।

গত বছরের ২৩ জানুয়ারি রাতে যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় গ্লোরি পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে বাসের ২৯ যাত্রী দগ্ধ হন। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হলে ১ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নূর আলম (৬০) নামে এক যাত্রী। এ ঘটনায় ২৪ জানুয়ারি বিকেলে খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন থানার এসআই কে এম নুরুজ্জামান। দায়ের করা মামলায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫/২৫(ঘ) ধারায় পেট্রলবোমা নিক্ষেপের পরিকল্পনাকারী হিসেবে বিএনপির ১৮ নেতার নাম উল্লেখ করা হয়।এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী হিসেবে যাত্রাবাড়ী বিএনপির ৫০ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নাম এজাহরে আসামির তালিকায় উল্লেখ করা না থাকালেও এজাহারের বক্তব্যের মধ্যে হুকুমদাতা হিসেবে তার নাম উল্লেখ করা হয়েছিল।