মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী কে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ সম্পাদক,নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল কাদের মিয়া

    0
    12

    জেএফকে এয়ারপোর্টে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তার স্ত্রী সেলিনা মোমেনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী পরিবারের নেতা কর্মীরা।

    বাংলাদেশের উপর মার্কিন বা অন্য কোনও দেশের অবরোধের মাধ্যমে সরকার পতন ঘটানো সম্ভব বলে মনে করে কিছু লোক সবসময়ই দেশেই বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার ও লবি’ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে এ মোমেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার বিকালে নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, “আমাদের দেশের কিছু লোক আছে যারা অপপ্রচার করেন এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবরোধের জন্যে অনুরোধ করেন। তারা মনে করেন যে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করলেই বাংলাদেশের সরকার বদল হয়ে যাবে।”

    “অথচ তারা জানেন না যে, সরকার বদল বিদেশিরা করতে পারেন না। সরকার বদল করবে বাংলাদেশের জনগণ। বাংলাদেশের জনগণ খুব সুখে আছে। তাই ওসব অপপ্রচারে কোন ফায়দা আসবে না।”

    জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক এবং র‍্যাব ও এর সাবেক বর্তমান ৭ কর্মকর্তার উপর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাতদিনের সফরে ফ্রান্সের প্যারিস থেকে নিউ ইয়র্ক পৌঁছেছেন।

    জেএফকে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, “আমরা সকলেই তো জানি যে, আমেরিকা হচ্ছে স্যাঙ্কশনের দেশ। প্রত্যেক দেশকেই কিছু না কিছু স্যাঙ্কশন দিয়ে আসছে। ইন্ডিয়াকেও দিয়েছিল। মোদিকেও (ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি) যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ করেছিল। সবকিছুই সাময়িক।

    “আমি আশা করছি, বাংলাদেশের র‌্যাব সম্পর্কে যখন তারা সত্য কথা জানবে, ওই ৭ জনের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাও তারা সরিয়ে নেবে। নিজেরাই নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করবে।”

    যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, “আপনারা যারা আমেরিকার নাগরিক, তাদের বড় একটি দায়িত্ব রয়েছে মার্কিন প্রশাসনকে বাংলাদেশের ব্যাপারে প্রকৃত তথ্য অবহিত করার। এক্ষেত্রে সরকারের প্রতি তাকিয়ে থাকার প্রয়োজন নেই।”

    “আপনারা সেই নেতৃত্ব নিতে পারেন। তাহলেই তারা বিভ্রান্তিতে থাকবেন না। এছাড়া আপনারা সকলেইতো জানেন যে, আমাদের কিছুই লুকানোর নেই। সবকিছু ওপেন। তাই সরকারের দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রত্যেক প্রবাসী কাজ করবেন বলে আশা করছি।””

    জেএফকে এয়ারপোর্টে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তার স্ত্রী সেলিনা মোমেনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী পরিবারের নেতা-কর্মীরা।
    জেএফকে এয়ারপোর্টে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তার স্ত্রী সেলিনা মোমেনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী পরিবারের নেতা-কর্মীরা।

    এয়ারপোর্টে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তার স্ত্রী সেলিনা মোমেনকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা, ওয়াশিংটন থেকে আসা রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম, নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সেক্রেটারি আব্দুল কাদের মিয়া, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি মোর্শেদা জামান, আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা চিকিৎসক মাসুদুল হাসান, শরাফ সরকার, কৃষিবিদ আশরাফুজ্জামান, আবুল হাসিব মামুন, সাইকুল ইসলাম যুবলীগ নেতা ইফজাল চৌধুরী এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা দরুদ মিয়া রনেল।
    ড. মোমেন আরো জানান, দুইটি অনুষ্ঠান ছিল ইউরোপে। একটি জার্মানির মিউনিখে। সেখানে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলাপ হওয়ার কথা থাকলেও এবারের সবকিছুতেই রাশিয়া এবং ইউক্রেইন পরিস্থিতি প্রাধান্য পেয়েছে।

    তিনি বলেন, “সকলেই ভীতির মধ্যে কথা বলেছেন। মনে হচ্ছে যুদ্ধে জড়িয়ে যাচ্ছে গোটাবিশ্ব। এমন অবস্থায় আমি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করেছি জলবায়ুর ভয়ংকর ছোবলে প্রতি বছর বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। তাদের বসবাসের কোন অবলম্বন নেই।”

    রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেইনকে কেন্দ্রু করে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়ায় জলবায়ু তহবিলের ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কার কথাও এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, “আমি জলবায়ু সম্মেলনেও সে আশঙ্কা প্রকাশ করে এসেছি।

    “এর জবাবে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন রোধকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কারণ, এটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত করার উদ্যোগ না নিলে বিরাটসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়বে। বহুদেশ অস্থিরতায় নিপতিত হবে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহ এবং প্রদানের ব্যাপারে জোরালো কোনও কথা শুনিনি।”

    আসছে এপ্রিলের ৪ তারিখে ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্তনি ব্লিনকেনের সাথে পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে এ মোমেনের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

    ওই বৈঠকের মধ্য দিয়েই দুই দেশের মধ্যেকার কিছু ইস্যু নিয়ে মতভেদের পরিসমাপ্তি ঘটবে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো আশা করছে।

    জাতিসংঘের চলতি সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ শাহিদের সাথে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দ্বি-পাক্ষিক একটি বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে।

    এরপর জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেজের সাথেও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনের।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here