২০৩৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাকে একটি ‘স্মার্ট শহরে’ পরিণত করতে করণীয় কী, তা নিয়ে আলোচনার জন্য বুধবার ঢাকায় বিশ্ব ব্যাংকের উদ্যোগে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হল।
বিশ্ব ব্যাংক বলছে বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে বাস করা মানুষের ৩৬ ভাগই বাস করে ঢাকায়। আর বর্তমান প্রবণতা চলতে থাকলে ২০৩৫ সাল নাগাদ ঢাকার জনসংখ্যা হবে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি।
কিন্তু যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়াই শহরটি গড়ে উঠার ফল হিসেবে ঢাকা পরিণত হয়েছে বসবাসের ক্ষেত্রে নিম্ন মানের শহরে আর বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ভয়াবহ যানজটে।
বিশ্ব ব্যাংকের হিসেব মতে গত ১০ বছরে সড়কে যান চলাচলের গতি ঘন্টায় গড়ে ২১ কিলোমিটার থেকে কমে এখন এসে দাঁড়িয়েছে ৭ কিলোমিটারে, মানুষের গড় হাঁটার গতির চেয়ে একটু বেশি।
বেসরকারি চাকুরিজীবী রিয়াজ আহমেদ বলছেন ধানমন্ডি সাত নম্বর থেকে ফার্মগেটে অফিসে আসতে তার সময় লেগে যায় এক ঘন্টারও বেশি। হেঁটে আসলে ৩৫ মিনিটের মতো লাগে, কিন্তু এই শহরে হাঁটার সুযোগটাও তেমন নেই!
যানজট, জলাবদ্ধতার মতো সঙ্কটের পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণেও ঢাকায় বেড়েছে ভূমিকম্প ও বন্যার ঝুঁকি। ৩৫ লাখ বস্তিবাসী প্রায়শই বঞ্চিত হচ্ছে ন্যূনতম সুবিধা থেকেও।
১৯৯৫ সাল থেকে পরবর্তী দশ বছরে এই শহরে জনসংখ্যা বেড়েছে ৫০ ভাগ আর যান চলাচল বেড়েছে ১৩৪ শতাংশ, অথচ শহরে সড়ক বেড়েছে মাত্র ৫ শতাংশ।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষক আখতার মাহমুদ বলছেন সঙ্কট থেকে আপাতত মুক্তির সম্ভাবনা তিনি দেখেন না।
“এখানে ঘনত্ব বেশি। এটা সহজ হবে অবকাঠমো, যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা যখন ঠিক হবে। এ অসহনীয় অবস্থা থেকে কেবল তখনই মুক্তি পাওয়া যাবে”, বলছেন মি মাহমুদ।
সম্মেলনে অংশ নিয়ে দেশের স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন দুটি সিটি কর্পোরেশন ও সেবা সংস্থা গুলোর কাজে সমন্বয় জরুরি।
তার দেওয়া তথ্য মতে শহরের মাত্র ২০ ভাগ এলাকায় পয়োনিষ্কাশন সিস্টেম কার্যকর রয়েছে, আর বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা এখনো বড় একটি চ্যালেঞ্জ।
উপায় খোঁজা হচ্ছে প্রতি দিনের প্রায় ছহাজার টন গৃহস্থালি বর্জ্যের ব্যবস্থাপনা কীভাবে করা যায় তা নিয়েও।
ঢাকা দক্ষিণের সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন অবশ্য বলছেন কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসছে।
তার কথায়, “ঢাকার পরিবর্তন দৃশ্যমান হচ্ছে। জলাবদ্ধতার মূল সমস্যা কমেছে। মেট্রো রেল ও ফ্লাইওভার চালু হলে সঙ্কট কমবে। পরিবহন খাত এখন অবশ্য খুবই বিশৃঙ্খল”।
সম্মেলনের বিভিন্ন পর্বে অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞ ও জনপ্রতিনিধিরা স্পষ্ট করে বলেছেন একটি স্মার্ট ঢাকার স্বপ্ন বাস্তবায়নে দ্রুতই সম্প্রসারিত ও নিকটবর্তী এলাকাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে দ্রুত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সিটি কর্পোরেশনকে আরও সমন্বিত কর্তৃত্ব দেওয়ার কোন বিকল্প নেই।
ভূমিকম্প প্রবণ জায়গায় গভীর এক গর্ত খুঁড়ছে কেন ভারতীয়রা?
কর্নাটক কি নিজেদের আলাদা পতাকা পেতে পারে?
ভারতে এক আদালত যে কারণে ধর্ষিতা একটি বালিকার গর্ভপাতের বিপক্ষে রায় দিল