সমুদ্রের নিরাপত্তায় মহেশখালীর ২শ নৌযান চালককে প্রশিক্ষণ আইওএমের

0
6

ডেস্ক নিউজ : মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন ও সরকারের অন্যান্য সংস্থার সমন্বয়ে কক্সবাজার-মহেশখালী নৌ-রুটের ২০০ নৌযান চালককে ‘সমুদ্রে নিরাপত্তা’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম-জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা)।

দাতা সংস্থা ব্যুরো অব হিউম্যানিট্যারিয়ান অ্যাসিস্টেন্স (বিএইচএ)-এর সহযোগীতায় আজ শুক্রবার মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় এই প্রশিক্ষণ।

মহেশখালী সংসদীয় আসনের সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন মহেশখালীর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহফুজুর রহমান ও আইওএম কক্সবাজার কার্যালয়ের ট্রানজিশন এন্ড রিকভারি ডিভিশনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর প্যাট্রিক শেরিগনন।

উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং উপকূলরক্ষীরাও প্রশিক্ষণে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে।

প্রশিক্ষণটিতে দুইটি ব্যাচে প্রতিদিন ১০০ জন অংশগ্রহণকারী উপস্থিত থাকছে। পাশাপাশি মহেশখালীর উপজেলা ও ইউনিয়ন ডিএমসির সদস্যরাও প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। প্রশিক্ষণ মডিউলটি শেষ করার পরে, আইওএম নৌ-চালকদের সমুদ্র সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করে।

অতিথিরা বলেন, কক্সবাজার-মহেশখালী এই অঞ্চলের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট। স্থানীয়েদের পাশাপাশি পর্যটক ও উন্নয়ন সংস্থার কর্মীরা প্রতিনিয়ত এই রুট ব্যবহার করে মহেশখালী ভ্রমণ করেন।

অন্যদিকে কক্সবাজারের মূল ভূখণ্ডের মতই মহেশখালী দ্বীপটি ঘূর্ণিঝড়সহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। উপজেলা প্রশাসনের হিসেবমতে এই দ্বীপের প্রায় তিন লাখ বাসিন্দাদের মধ্যে এক লাখ বাসিন্দাই এই ঝুঁকিতে বসবাস করছে।

আইওএম মহেশখালীর নানামুখী উন্নয়নে ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহযোগীতায় কাজ করছে জানিয়ে সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক আশা করেন এই প্রত্যন্ত দ্বীপের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও নানা জরুরী ক্ষেত্রে এই সহযোগীতা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, “কক্সবাজার-মহেশখালী সমুদ্রপথটি ঘূর্ণিঝড়সহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সমুদ্র সুরক্ষায় আমাদের নৌ-চালকদের সংবেদনশীল করার এই উদ্যোগের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।

জানা যায়, ২০১৯ সাল থেকে আইওএম মহেশখালী উপজেলা এবং এর পাঁচটি ইউনিয়নে উপজেলা ও ইউনিয়ন দুর্যোগ পরিচালনা কমিটির (ডিএমসি) সদস্যদের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে।

এ পর্যন্ত ১,৫০০ ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি)-এর স্বেচ্ছাসেবীদের দুর্যোগকালীন ঝুঁকি হ্রাসে মৌলিক দক্ষতা এবং অগ্নিনির্বাপনে মৌলিক প্রশিক্ষণ দিয়েছে। পাশাপাশি ১৫০ জন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবককে উদ্ধারকাজ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

প্রশিক্ষণের অংশ হিসাবে, নৌ-চালকরা সমুদ্রে সুরক্ষা সরঞ্জামের সঠিক ব্যবহার; দুর্যোগকালীন ঝুঁকি হ্রাস, মৌলিক অগ্নিনির্বাপন প্রশিক্ষণ, প্রাথমিক উদ্ধারকাজ, প্রাথমিক উদ্ধার ব্যবস্থা, ঘূর্ণিঝড় শুরুর সতর্কতা ব্যবস্থা এবং আচরণের পরিবর্তন যোগাযোগেসহ বিভিন্ন ধরণের বিষয়ে নতুন ধারণা শিখেছে।

এছাড়া সমুদ্র সুরক্ষার সরঞ্জাম (লাইফ জ্যাকেট, লাইফ বয়া, রেডিয়াম স্টিকার, পাওয়ার ব্যাংক এবং টর্চ লাইট) কিভাবে চালনা করতে হয় তা-ও জানতে পেরেছে।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নৌ-চালক রাজন বলেনঃ “আজ আমি বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ পেয়েছি যা আমার প্রতিদিনের কাজে খুব সহায়ক হবে। এখন থেকে আমি আরো অনেক আত্মবিশ্বাসী যে সমুদ্রে ভ্রমণের সময় আমি নিজকে এবং আমার যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here