৭১’ ৭৫’ ৩ নভেম্বর, ২১শে আগস্টের খুনিরা এক এবং অভিন্ন: ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয়শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু তথ্যপ্রযুক্তি লীগ চট্টগ্রাম জেলা কর্তৃক আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক গৃহায়ণ মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি এবং চট্টগ্রাম জেলা উপদেষ্টা বিলকিছ আকতার চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রেহেনা ফেরদৌস, তথ্য প্রযুক্তি লীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মমতাজ বেগ, বিশেষ বক্তা কেন্দ্রীয় যুবলীগ সাবেক সদস্য ও সাবেক ছাত্র নেতা জাহেদুর রহমান সোহেল, বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য প্রযুক্তি লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ইসমাঈল নূর, মহিলা সম্পাদিকা ফরজানা ইয়াসমিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. বরাতুল হাসান বাবু। বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু তথ্যপ্রযুক্তি লীগ চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি জাহেদুল হাসান জনির সভাপতিত্বে, কৃষ্ণ পাল ও সায়েম উদ্দিন শাহ’র যৌথ সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন নাদিরা সুলতানা হেলেন, ফাতেমা ডলি, নূর হোসেন পাটোয়ারী, মহসিন উদ্দিন, সাইদুল ইসলাম, লিটন সেন, সাগর বৈদ্য প্রমুখ।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি বলেন, এদেশের রাজনীতিতে বিএনপি জামায়াতের জন্ম একটি অশনি সংকেত। জাতির জন্য একটি অভিশাপ। এ জাতির গৌরবময় ইতিহাসে তাদের কোন অর্জন বা সফলতা নেই। তারা সম্পূর্ণ সভ্যতার বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। সভ্যতা থাকলে বিএনপি জামায়াত থাকবে না, আর বিএনপি জামায়াত থাকলে সভ্যতা থাকবে না। এদেশের মানুষ রাজনৈতিকভাবে সচেতন হলেই বিএনপি জামায়াতের সলিল সমাধি হবে সেদিন বেশি দূরে নয়। তাদের জিঘাৎসাশ্রয়ী রাজনীতি বাংলাদেশের অর্জনে সম্পূর্ণ অন্তরায়। ইতিহাস, ঐতিহ্য, মহান মুক্তিযুদ্ধ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বিকাশে তারাই হচ্ছে বড় প্রতিবন্ধক। ৭১’এর গণহত্যা, বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবিদের হত্যা মিরপুরের বধ্যভূমি আজও স্বাক্ষী হয়ে আছে। জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার চকচকে তলোয়ার আর পাকিস্তানি হায়নাদের গুলির আঘাতে বুদ্ধিজীবীদের রক্তাক্ত দেহ, মাথার কুলি, কংকাল মাটি খননে পাওয়া যায়। ক্যু, হত্যা, ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে সিদ্ধহস্ত ও কুশীলব বিএনপি নেতা জিয়াউর রহমান ক্ষমতার উচ্চ বিলাস চরিতার্থ করতে গিয়ে ১২০০ সামরিক বাহিনীর অফিসার ও জোয়ানকে হত্যা করেছে,- যার দীর্ঘ নিঃশ্বাস পড়েছে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে। কিংবদন্তি লেখক হুমায়ুন আহমদ তার মৃত্যুর পর প্রকাশিত শেষ উপন্যাস ‘দেয়াল’ বইতে তা উল্লেখ করেছেন। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত শুকাতে না শুকাতে স্বাধীনতার সাড়ে তিন বছরের মাথায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কে স্ব-পরিবারে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে ইতিহাসের নটরাজ বিশ্বাসঘাতকরা। ১৫ আগস্ট ভোরে তখনো বঙ্গবন্ধুর লাশ ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ীর সিঁড়িতে। বঙ্গবন্ধু হত্যার সংবাদ পেয়ে ভুট্টো সকাল ৯ টায় পাকিস্তানের পার্লামেন্ট থেকে উল্লাস প্রকাশ করলেন, একই সাথে বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি সরকারের প্রতি সমর্থন জানান (মনে হয় পাকিস্তান তৈরিই হয়েছিল…..)। বঙ্গবন্ধুর লাশ নিয়ে যাওয়া হলো টুঙ্গিপাড়ায়। বঙ্গবন্ধুকে গোসল ও জানাযা নামাজের জন্য মৌলানা আবদুল হালিম কে আধা ঘন্টা সময় দেওয়া হলো। জানা যায় টুঙ্গিপাড়ার সাধারণ জনসাধারণকে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেওয়া হলো না। শুধুমাত্র ১৭ জন মানুষ জানাযায় অংশ নিলো আর অদূরে দাঁড়িয়ে জানাযার দৃশ্য দেখলেন হাজার হাজার মানুষ। আমার পিতা বঙ্গবন্ধুকে ৩৭ সাবান দিয়ে গোসল পড়িয়ে মার্কিন কাপড় দিয়ে দাফন করা হলো। যতক্ষণ না পর্যন্ত কবরে শায়িত করা হলো বঙ্গবন্ধুর লাশ ততক্ষণ পর্যন্ত পবিত্র আবে জমজমের পানির মতো ঝড়তে থাকলেন রক্ত। সেই রক্তের ধারা আজও থামেনি। আমরা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের এতগুলো লাশ বহন করতে পারছি না। আর কতকাল বহন করতে হবে এই লাশ। একজন নাগরিক হিসেবে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করা আমাদের নাগরিক দায়িত্ব, একজন বাঙালী মুসলমান হিসেবে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব ছিল। ৩ নভেম্বর জেল অভ্যন্তরে চার জাতীয়নেতা হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। ৩ নভেম্বর রাত ২টা ৩০ মিনিটে ক্যাপ্টেন মুসলেম ও তার বাহিনীর নেতৃত্বে চার জাতীয়নেতাকে প্রথমে গুলি করে, কিছুক্ষণ পর নায়ক এ আলীর নেতৃত্বে আরেকটি সেনা দল সবাই মারা গেছে কিনা তা নিশ্চিত হতে জেলে আসে।তারা সরাসরি সেই ওয়ার্ডে চলে যায় এবং পূনরায়তাদের মৃতদেহ বেয়নেট চার্জ করে। (তৎকালীন মহা কারা পরিদর্শক নুরুজ্জানের জেল হত্যার রিপোর্ট থেকে এ তথ্য জানা যায়)। এভাবে একটি জাতিকে নেতৃত্ব ও মেধা শুন্য করার জন্য ঘাতকরা প্রচেষ্টা চালায়এক নির্মমতা বাংলাদেশ কে ধ্বংস করে নিতে ছোবল হানে। আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম?
বঙ্গবন্ধু র আত্মার প্রতিটি নিশ্বাস বুলেট হয়ে বাধুক ঘাতকের বুকে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগষ্ট ও ২০০৪ সালের ২১ আগষ্টের হামলাকারীরা এক ও অভিন্ন শক্তি। তাদের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ধারায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া। এদের মূল লক্ষ্য দেশের স্বাধীনতা হত্যা, গণতন্ত্র হত্যা করা। ১৬ বছর অতিবাহিত হলেও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ভয়াবহ স্মৃতি জাতি আজও ভুলতে পারেনি। ভয়াল সেই হামলায় আওয়ামী লীগের ২৪ নেতাকর্মী নিহত হন, আহত হন পাঁচ শতাধিকেরও বেশি লোকজন। আহতদের অনেকেই এখনো তাদের শরীরে গ্রেনেডের স্প্লিন্টার আর দুঃসহ স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালিয়ে সেদিন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টাসহ আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল। এই হামলার পেছনে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক জিয়ার প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে।তার হাওয়া ভবন থেকেই এই হামলার পরিকল্পনা করা হয়। সৌভাগ্যবশতঃ সেদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেঁচে যান। আমরা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জড়িত সব খুনিদের অবিলম্বে ফাঁসি কার্যকর করার দাবি করছি।