নগরীর জিইসি মোড়, সেন্ট্রাল প্লাজা ও বাওয়া স্কুলসহ বিভিন্ন শপিং মলের সামনে ঘুরে বেড়াতেন। সুযোগ বুঝে নারী অভিভাবক, ছাত্রী ও অন্য তরুণীদের ভিডিও গোপনে মোবাইল ফোনে ধারণ করতেন। এরপর ধারণকৃত ভিডিওগুলো সফটওয়্যার ব্যবহার করে বিকৃত ক্যাপশন দিয়ে ফেসবুকের একটি নির্দিষ্ট পেইজে ছেড়ে দিতেন।

যার কথা বলছিলাম সে আর কেউ নই। সে গাইবান্ধার মুক্তাদির নামের ২৫ বছরের এক যুবক। পেশায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার। গত ৬ মাস আগে নগরীর জিইসি মোড়ের একটি হোটেলে সে চাকরি নেন। পরবর্তী সময়ে সেই চাকরি ছেড়ে সীতাকুণ্ড উপজেলার চলমান একটি প্রকল্পে কাজ শুরু করেন। এ কাজের ফাঁকে ফাঁকে সে নগরীর বিভিন্ন বালিকা বিদ্যালয়, সী বীচ ও শপিং মলের সামনে গিয়ে নারী ও ছাত্রীদের চলাফেরার দৃশ্য ধারণ করতেন। ভিডিও ধারণের সময় কখনো কখনো নারীদের উদ্দেশে বাজে মন্তব্যও করতেন। এরপর প্রতিদিন বিকৃত ক্যাপশন দিয়ে এসব ভিডিও সংশ্লিষ্ট পেইজটিতে শেয়ার করতেন।

এমন বিকৃত মনস্ক মুক্তাদিরকে আজ শুক্রবার (৩ জুন) সীতাকুণ্ড থানার উত্তর বাজার এলাকা থেকে বিশেষ একটি অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে নগর পুলিশ। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ৩০০ ভিডিও সম্বলিত মোবাইল ও ল্যাপটপ। যে ভিডিওগুলো মুক্তাদির ৬ মাস আগে থেকে গ্রেফতারের আগ পর্যন্ত ধারণ করেছিল।

মুক্তাদিরকে গ্রেফতারের বিষয়টি সিভয়েসকে নিশ্চিত করেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ জোন) আসিফ মহীউদ্দীন। তিনি বলেন, নানা জায়গা থেকে অভিযোগ আসার পর এই পেজের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের জন্য নগর পুলিশ কমিশনার মাহাবুবর রহমান স্যার নির্দেশ দেন। এরপর নানাভাবে তদন্ত চালিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে শেষমেষ ওই পেইজের এডমিন মুক্তাদির নামের ২৫ বছরের ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর মুঠোফোন ও ল্যাপটপ তল্লাশি করে নারীদের প্রায় ৩০০টি ভিডিও পাওয়া যায়।

আসিফ মহীউদ্দীন নলেন, নগরীতে ঘুরে ঘুরে মেয়েদের কুরুচিপূর্ণ ভিডিও বিভিন্ন সফটওয়্যারের মাধ্যমে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়ানোর অপরাধে সীতাকুণ্ড থানার উত্তর বাজার এলাকা থেকে মুক্তাদির নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মুক্তাদির তার সব অপকর্ম স্বীকার করেছেন। তার সাথে আর কে কে এসব কাজে জড়িত তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। শিগগিরই সবকিছু জানানো হবে। আপাতত সে নগর পুলিশের হেফাজতে আছেন। আগামি শনিবার (৪ জুন) তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলে তিনি জানান।