করোনাভাইরাসের কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ঠেকাতে বিশ্ব অর্থনীতিতে পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ ঢালার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জি-২০ রাষ্ট্রগুলো।

0
12

দেশে দেশে আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের কারণে যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা দেখা যাচ্ছে, তা ঠেকাতে বিশ্ব অর্থনীতিতে পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ ঢালার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জি-২০ রাষ্ট্রগুলো। শুধু তাই নয়, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের প্রভাব ঠেকাতে ‘যা কিছু করা প্রয়োজন’, তার সবই করার অঙ্গীকারও করেছে বিশ্বের প্রায় ৮৫ শতাংশ জিডিপি ধারণকারী শীর্ষ ২০টি রাষ্ট্রের আর্থিক খাতের প্রতিনিধিদের এই জোট।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ২০০৮-০৯ সালের বৈশ্বিক মহামন্দার সময় গঠন করা হয় জি-২০। ১৯টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমন্বয়ে গঠিত এই জোটটির নেতারা এক ভিডিও কনফারেন্স সামিটের মাধ্যমে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় তহবিল গঠন থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সবকিছু করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দেওয়া হয় জোটের পক্ষ থেকে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার পাশাপাশি করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলায় যা কিছু করা প্রয়োজন, তার সবই করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জি-২০। এর অংশ হিসেবে অতি প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া, আফ্রিকার মতো ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশ এবং শরণার্থীদের মতো জনগোষ্ঠীর এ পরিস্থিতিতে বাড়তি ঝুঁকির মধ্যে থাকার বিষয়টিও তুলে ধরেছে জি-২০। বলেছে, এসব দেশ ও জনগোষ্ঠীর ‍সুরক্ষার জন্য বৈশ্বিকভাবেই আর্থিক ও স্বাস্থ্যগত জোরালো উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিশ্বের সব দেশের সামনে এখন অভিন্ন সংকট উপস্থিত। এই সংকট মোকাবিলায় আমরা ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ। এই বৈশ্বিক মহামারির অর্থনৈতিক ও সামাজিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে আমরা একসঙ্গে পথ চলব। এই মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে উঠে বিশ্ব অর্থনীতিতে আবার চাঙ্গা করে তুলতে জি-২০ সদস্য রাষ্ট্রগুলো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানানো হয়েছে।

জি-২০ দেশগুলোর এই ভিডিও সামিটের আয়োজন ছিল জোটের বর্তমান চেয়ার সৌদি আরব। সামিটের সূচনা বক্তব্যে দেশটির বাদশাহ সালমান বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে আস্থা ফেরাতে জি-২০ দেশগুলোর পণ্য ও সেবার স্বাভাবিক সরবরাহ অব্যাহত রাখা উচিত।