বাংলাদেশ ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বুধবার সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত ওই তালিকায় পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু ট্যাম্পল ল কলেজের আইনের ছাত্র এস এম বোরহানকে সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের ছাত্র আবু তাহেরকে সাধারণ সম্পাদক এবং হোসাইন মোহাম্মদকে সাংগাঠনিক সম্পাদক করে কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়।

এতে সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পেয়েছেন ৫০ নেতা। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ১১জন, সম্পাদক পদে ১৪ জন, সাংগঠনিক সম্পাদক ১০ জন, অর্থ সম্পাদক পদে রাশেদুল ইসলামের সঙ্গে দায়িত্ব পেয়েছেন ৪ জন। আবু বকর জীবনসহ ৪ নেতা পেয়েছেন প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব, দপ্তর সম্পাদক পদে আসিফ নেওয়াজ জিহানসহ ৪ জন, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে মাইনুল মান্নানসহ ৪ জন, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক মোঃ সেলিমসহ ৪ জন, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে সৈকত চৌধুরিসহ ৪ জন।


আইন সম্পাদক পদে আসিফ বিন রশিদের সঙ্গে ৪ জন, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক পদে মুনতাসির রুবেলের সঙ্গে ৪ জন, স্কুল ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক পদে মোঃ জয়নাল আবেদিন রুবেলের সঙ্গে ৪ জন, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পদে আরাফাতুল ইসলামের সঙ্গে ৪ জন দায়িত্ব পেয়েছেন।

ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক পদে শহিদুল ইসলাম শহিদসহ ৪ জন, গণসংযোগ ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক সাহাব উদ্দিন জয়তুনসহ ৪ জন, মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ রেজাউল করিম রুবেলসহ ৪ জন, আপ্যায়ন সম্পাদক রানা বড়ুয়াসহ ৪ জন, ছাত্র বৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ মোহাম্মদ সিদ্দিক সানিসহ ৪ জন দায়িত্ব পেয়েছেন।

সমাজসেবা সম্পাদক হয়েছেন ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদ সবুজসহ ৪ নেতা, ক্রীড়া সম্পাদক অজয় মহাজনসহ ৪ জন, পাঠাগার সম্পাদক অনুপম দত্তসহ ৪ জন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সুমি আক্তার রাইসাসহ ৪ জন, ছাত্রি বিষয়ক সম্পাদক ফারজানা আক্তারসহ ২ জনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক দেবু দাস, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ইরফান সাদেক শুভ, কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক শিমুল বড়ুয়া, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মিনহাজ উদ্দিন, নাট্য ও বিতর্ক সম্পাদক মোঃ শওকত আলী। এদের সবার সঙ্গেই ৪ জন করে সহ সম্পাদককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আবু তাসমিন ইউসুফ, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক এম তৌহিদুল ইসলাম, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক উত্তম বিশ্বাস, ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল হাসান রাকিব, সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক ফখ্রুল হাবিব মাসুম, সদস্য পদে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ১১ জনকে।

ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। আবদুল কাদের সুজনকে সভাপতি ও আ ম ম টিপু সুলতান চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত ওই কমিটি ২০০৩ সাল পর্যন্ত বহাল থাকে। ২০০৩ সালে এই কমিটি ভেঙে দিয়ে মোহাম্মদ ফারুককে আহ্বায়ক করে তিন মাসের জন্য কমিটি গঠন করা হয়। তিন মাসের এই কমিটি বহাল থাকে ২০১১ সাল পর্যন্ত, অর্থাৎ ৮ বছর। ২০১১ সালে মোহাম্মদ ফারুকের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি ভেঙে দিয়ে আবদুল মালেক জনিকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি গঠনের নিজেদের কর্মীদের হাতে খুন হন কমিটির আহ্বায়ক আবদুল মালেক জনি।

এরপর ২০১৪ সালের ৩০ আগস্ট ঢাকায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ছাত্র সমাবেশ থেকে ফেরার পথে দুই পক্ষের মারামারিরতে ট্রেন থেকে ফেলে দেয়া হয় দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ নেতা ও লোহাগাড়ার বারআউলিয়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম তকিকে। এ সময় তকি ঘটনাস্থলেই মারা যান। তকির মৃত্যুর পর সালাহ উদ্দিন সাকিবের নেতৃত্বাধীন কমিটির কার্যক্রম ২০১৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ করে দেয়া হয় কেন্দ্র থেকে। তখন থেকে নেতৃত্বশূন্য ছিল চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ।

পরে ২০১৭ সালে এসএম বোরহান উদ্দিনকে সভাপতি এবং আবু তাহেরকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। সেই কমিটিই এবার বর্ধিত আকারে ঘোষণা করা হলো।