রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের অভিযোগে মিয়ানমারকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আহ্বান জানিয়েছেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১৩২ জন সংসদ সদস্য।

এজন্যে তারা মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতে নিয়ে যাওয়ার জন্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এসব এমপির বেশিরভাগই মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার।

ঠিক এক বছর আগে রাখাইনে বর্মী নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান শুরু হয়েছিল যার জেরে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সরকাররা সাধারণত একে অপরের খুব একটা সমালোচনা করে না। কিন্তু এই অঞ্চলেরই রাজনীতিকদের কাছ থেকে এরকম কঠোর একটি বিবৃতি একেবারেই বিরল ঘটনা।

১৩২ জন এমপি তাদের বিবৃতিতে, রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গাদের উপর যারা ”বর্বর নির্যাতন” চালিয়েছে, তাদের বিচার না হওয়ার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সনদে সই করে নি মিয়ানমার। আর একারণে দেশটির বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনার এখতিয়ার নেই আইসিসির।

এজন্যে এমপিরা মিয়ানমারকে আদালতের কাঠগড়ায় নিয়ে যেতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাদের কর্তৃত্ব খাটানোর জন্যে।

তবে এবিষয়ে চীনের সম্মত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের একজন কৌঁসুলি বলেছেন যে আইসিসির এই কাজটা করার এখতিয়ার রয়েছে এই কারণে যে রোহিঙ্গাদের উপর হামলার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে এবং বাংলাদেশ এই রোম সনদে স্বাক্ষরকারী একটি দেশ।

রাখাইনে কী ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে সেটা খুঁজে দেখতে গঠিত জাতিসংঘের একটি তদন্তকারী দলের পক্ষ থেকে আগামী সোমবার বহু প্রতীক্ষিত একটি রিপোর্ট প্রকাশ করার কথা রয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, এই রিপোর্ট যারা মিয়ানমার সরকার ও দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন, তাদের যুক্তিকে আরো জোরালো করবে।