বাণিজ্যযুদ্ধ থামার লক্ষণ তো নেই, উল্টো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ২৩ আগস্ট থেকে আরও চীনা পণ্যে তারা শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন বলেছে, ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের চীনা পণ্যে ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসানো হবে। যুক্তরাষ্ট্র মার্চে যে ৫ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে শুল্ক আরোপ করেছিল, তার অংশ হিসেবেই এই শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত মঙ্গলবার ইউনাইটেড স্টেট্স ট্রেড রিপ্রেজেনটেটিভ (ইউএসটিআর) ২৭৯টি চীনা পণ্যের তালিকা প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে আছে সেমিকন্ডাক্টর, রাসায়নিক ও যন্ত্রাংশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, অনৈতিক বাণিজ্য করার জন্য শাস্তিস্বরূপ চীনের ওপর এই শুল্ক আরোপ করা হবে। এর আগে গত জুলাইয়ে চীনের ৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করে। চীনের কিছু খাতে ব্যবসা করতে হলে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে স্থানীয় অংশীদার নিতে বাধ্য করা হয়। মূলত, এ কারণেই চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্র মহা খাপ্পা। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এই সুযোগে চীন অনেক মার্কিন কোম্পানির প্রযুক্তি চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা খুব কঠোর ভাষায় সেমিকন্ডাক্টরে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। তাঁরা বলছেন, ট্রাম্পের শুল্কের কারণে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এতে মার্কিন চাষি, উৎপাদনকারী ও ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইউএস সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন(এসআইএ) মঙ্গলবার বলেছে, তারা ‘হতাশ ও বিমূঢ়’। এই সংগঠনে কোয়ালকম ও টেক্সাস অ্যাসোসিয়েশনের মতো প্রতিষ্ঠান আছে। তারা বলছে, এতে মার্কিন চিপ নির্মাতারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে, চীনারা নয়। কারণ, চীনা সেমিকন্ডাক্টর দিয়েই এসব চিপ নির্মিত হয়। তারা আরও বলেছে, সব মিলিয়ে ৬৩০ কোটি ডলারের সেমিকন্ডাক্টর ও এর সঙ্গে সম্পর্কিত পণ্য শুল্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এসআইএর প্রধান নির্বাহী জন নেউফার বলেন, ‘আমরা ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে বিষয়টি তুলেছি। তাঁকে জানিয়েছি, চীন থেকে আমদানি করা সেমিকন্ডাক্টরে শুল্ক আরোপের কারণে মার্কিন চিপ নির্মাতারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই শুল্ক আরোপ করে চীনের সমস্যাজনক ও বৈষম্যমূলক বাণিজ্য বন্ধ করা যাবে না’। তিনি আরও বলেছেন, ‘আমরা নিজেদের আরজি জানিয়েই যাব, আমরা আশাবাদী, এ ব্যাপারে বোধগম্য সমাধানে পৌঁছানো যাবে’।

যুক্তরাষ্ট্রের ফারমার্স ফর ফ্রি ট্রেড বলেছে, মার্কিন চাষিদের বাজার ইতিমধ্যেই বিঘ্নিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের খাবার ও কৃষি খাত ইতিমধ্যেই নানা চাপে আছে, এতে এই খাত শত শত কোটি ডলার ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ব্রায়ান কুয়েহ্ শুল্ক আরোপের জবাবে এক লিখিত প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, ‘হোয়াইট হাউস একদিকে বাণিজ্যযুদ্ধের তীব্রতা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে ক্রমহ্রাসমান কৃষিপণ্যের দামের পরিপ্রেক্ষিতে চাষিদের ধৈর্য ধরতে বলছে। অথচ মার্কিন চাষিদের বাজার অন্যরা দখল করে নিচ্ছে।

তবে চাষিদের ক্ষতি পোষাতে ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।