৭১’ ৭৫’ ৩নভেম্বর, ২১’আগস্টের খুনিরা এক এবং অভিন্ন।জাতীয় শোক দিবেসের আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ সম্পাদক,নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামীলীগ সহ সভাপতি,সন্দ্বীপ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সদস্য,সাবেক ছাত্রনেতা আলহাজ্ব আবদুল কাদের মিয়া।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫ তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন যুক্তরাষ্ট্র শাখার পক্ষ থেকে জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন যুক্তরাষ্ট্র শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফা কামাল পাশা মানিকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাধারণ সম্পাদক,নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামীলীগ সহ সভাপতি,সন্দ্বীপ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সদস্য সাবেক ছাত্রনেতা আলহাজ্ব আবদুল কাদের মিয়া।আরো বক্তব্য রাখেন সহ সভাপতি হাজী জাফর উল্লাহ,আবুল বশর ভূইয়াঁ,মাস্টার কামাল উদ্দিন ,হাজী ইদ্রিস আলম,মোহাম্মদ ইরান,সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ আলী খান লিটন,দপ্তর সম্পাদক এটিএম মাসুদ সদস্য এটিএম রানা,মোর্শেদ খান বদরুল,মুক্তিযোদ্ধা লাভলু আনসারি,সাংবাদিক কানু দত্ত সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আবদুল কাদের মিয়া বলেন:
এদেশের রাজনীতিতে বিএনপি জামায়াতের জন্ম একটি অশনি সংকেত। জাতির জন্য একটি অভিশাপ। এ জাতির গৌরবময় ইতিহাসে তাদের কোন অর্জন বা সফলতা নেই। তারা সম্পূর্ণ সভ্যতার বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে।সভ্যতা থাকলে বিএনপি জামায়াত থাকবে না,আর বিএনপি জামায়াত থাকলে সভ্যতা থাকবে না।এদেশের মানুষ রাজনৈতিকভাবে সচেতন হলেই বিএনপি জামায়াতের সলিল সমাধি হবে সেদিন বেশি দূরে নয়।তাদের জিঘাৎসাশ্রয়ী রাজনীতি বাংলাদেশের অর্জনে সম্পূর্ণ অন্তরায়। ইতিহাস, ঐতিহ্য, মহান মুক্তিযুদ্ধ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বিকাশে তারাই হচ্ছে বড় প্রতিবন্ধক।৭১’এর গণহত্যা, বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবিদের হত্যা মিরপুরের বধ্যভূমি আজও স্বাক্ষী হয়ে আছে। জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার চকচকে তলোয়ার আর পাকিস্তানি হায়নাদের গুলির আঘাতে বুদ্ধিজীবীদের রক্তাক্ত দেহ,মাথার কুলি, কংকাল মাটি খননে পাওয়া যায়। ক্যু,হত্যা,ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে সিদ্ধহস্ত ও কুশীলব বিএনপি নেতা জিয়াউর রহমান ক্ষমতার উচ্চ বিলাস চরিতার্থ করতে গিয়ে ১২০০(বারশত) সামরিক বাহিনীর অফিসার ও জোয়ানকে হত্যা করেছে,- যার দীর্ঘ নিঃশ্বাস পড়েছে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে। কিংবদন্তি লেখক হুমায়ুন আহমদ তার মৃত্যুর পর প্রকাশিত শেষ উপন্যাস ‘দেয়াল’ বইতে তা উল্লেখ করেছেন। ৩০লক্ষ শহীদের রক্ত শুকাতে না শুকাতে স্বাধীনতার সাড়ে তিন বছরের মাথায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কে স্ব-পরিবারে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে ইতিহাসের নটরাজ বিশ্বাসঘাতকরা। ১৫ আগস্ট ভোরে তখনো বঙ্গবন্ধুর লাশ ধানমন্ডির ৩২নম্বর বাড়ীর সিঁড়িতে। বঙ্গবন্ধু হত্যার সংবাদ পেয়ে ভুট্টো সকাল ৯টায় পাকিস্তানের পার্লামেন্ট থেকে উল্লাস প্রকাশ করলেন, একই সাথে বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি সরকারের প্রতি সমর্থন জানান ( মনে হয় পাকিস্তান তৈরিই হয়েছিল…..)। বঙ্গবন্ধুর লাশ নিয়ে যাওয়া হলো টুঙ্গিপাড়ায়। বঙ্গবন্ধু কে গোসল ও জানাযা নামাজের জন্য মৌলানা আবদুল হালিম কে আধা ঘন্টা সময় দেওয়া হলো। জানাযায় টুঙ্গিপাড়ার সাধারন জনসাধারণকে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেওয়া হলো না। শুধুমাত্র ১৭জন মানুষ জানাযায় অংশ নিলো আর অদূরে দাঁড়িয়ে জানাযার দৃশ্য দেখলেন হাজার হাজার মানুষ। আমার পিতা বঙ্গবন্ধুকে ৩৭ সাবান দিয়ে গোসল পড়িয়ে মার্কিন কাপড় দিয়ে দাফন করা হলো। যতক্ষণ না পর্যন্ত কবরে শায়িত করা হলো বঙ্গবন্ধুর লাশ ততক্ষণ পর্যন্ত পবিত্র আবে জমজমের পানির মতো ঝড়তে থাকলেন রক্ত। সেই রক্তের ধারা আজও থামেনি। আমরা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের এতগুলো লাশ বহন করতে পারছি না। আর কতকাল বহন করতে হবে এই লাশ। একজন নাগরিক হিসেবে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করা আমাদের নাগরিক দায়িত্ব, একজন বাঙালী মুসলমান হিসেবে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব ছিল। ৩ নভেম্বর জেল অভ্যন্তরে চার জাতীয় নেতা হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। ৩ নভেম্বর রাত ২টা ৩০মিনিটে ক্যাপ্টেন মুসলেম ও তার বাহিনীর নেতৃত্বে চার জাতীয় নেতাকে প্রথমে গুলি করে,কিছুক্ষণ পর নায়েক এ আলীর নেতৃত্বে আরেকটি সেনা দল সবাই মারা গেছে কিনা তা নিশ্চিত হতে জেলে আসে।তারা সরাসরি সেই ওয়ার্ডে চলে যায় এবং পূনরায় তাদের মৃতদেহ বেয়নেট চার্জ করে। (তৎকালীন মহা কারা পরিদর্শক নুরুজ্জানের জেল হত্যার রিপোর্ট থেকে এ তথ্য জানা যায়)। এভাবে একটি জাতিকে নেতৃত্ব ও মেধা শুন্য করার জন্য ঘাতকরা প্রচেষ্টা চালায় এক নির্মমতা বাংলাদেশ কে ধ্বংস করে নিতে ছোবল হানে। আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম?
বঙ্গবন্ধু র আত্নার প্রতিটি নিশ্বাস বুলেট হয়ে বাধুক ঘাতকের বুকে।