জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখা এবং সম্মিলিত আওয়ামী সমর্থক, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় পালিয়ে থাকা দণ্ডিত ঘাতকদের অবিলম্বে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

১৪ আগস্ট সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ১৫ আগস্ট সকাল) নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের এ কর্মসূচিতে জাতির জনকসহ তার পরিবারের সকল শহীদ সদস্যের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয় সংগঠনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হাজী মফিজুল হক.
এর আগে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, ‘সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে যারা বাংলাদেশের নাম-নিশানা মুছে ফেলতে চেয়েছিল, ৪৫ বছরও সেই ষড়যন্ত্রকারীরা এই প্রবাসেও নানা কূটচাল চালাচ্ছে।

চিহ্নিত একটি মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার অব্যাহত রেখেছে। এদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার সংকল্প গ্রহণের আহ্বান নিয়ে সমাগত এবারের জাতীয় শোক দিবস। ’
জাকারিয়া উল্লেখ করেন, ‘ঘাতক রাশেদ চৌধুরীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের দাবিতে ইতোমধ্যেই মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও মার্কিন বিচার বিভাগে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছেও দণ্ডিত ঘাতক রাশেদ চৌধুরীর যাবতীয় ডক্যুমেন্ট হস্তান্তর করেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।

মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সুব্রত তালুকদারের সঞ্চালনায় সংক্ষিপ্ত এ আলোচনায় নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরও ছিলেন সহ-সভাপতি হাজী মফিজুর রহমান, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি ও মহানগর আওয়ামী লীগের অন্যতম সহ-সভাপতি,আবদুল কাদের মিয়া ফাউন্ডেশন চেয়ারম্যান সাবেক ছাত্রনেতা আলহাজ্ব আব্দুল কাদের মিয়া এবং মোরশেদ খান বদরুল, যুগ্ম সম্পাদক আশরাব আলী খান লিটন এবং ওয়াসিউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান এবং সমিরুল ইসলাম বাবলু। আরও ছিলেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুল হাই জিয়া, মোস্তফা কামাল পাশা মানিক, মাস্টার কামালউদ্দিন, আবুল বাশার ভূঁইয়া, হাজী ইদ্রিস আলম, ফখরুদ্দিন চৌধুরী মিলন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য আমিনুল ইসলাম কলিন্স, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য মুসলিম আবরার জিলানী, এটিএম রানা , এটিএম মাসুদ প্রমুখ ছিলেন শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদর্শনের এ আয়োজনে। জাতিসংঘের সামনের এ কর্মসূচি চলাকালে ভিনদেশিরাও কৌতুহলী দৃষ্টি প্রসারিত করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

ভাষণের সেই ছবি (প্রতিকৃতি) সামনে রেখেই পুরো অনুষ্ঠান হয়।

নিউইয়র্ক আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি,বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা আলহাজ্ব আবদুল কাদের মিয়া বলেন : বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ অনেক আগেই সমৃদ্ধশালী হতো,যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন শেখ মুজিবের অবদান জাতি চিরজীবন মনে রাখবে,যতকাল রবে পদ্মা মেঘনা গৌরী যমুনা বহমান ততদিন রবে কৃত্তি তুমার শেখ মুজিবুর রহমান,যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরে নাই,
যদি রাজপথে আবার মিছিল হতো
বঙ্গবন্ধুর মুক্তি চাই,মুক্তি চাই,
তবে বিশ্ব পেত এক মহান নেতা,
আমরা পেতাম ফিরে জাতির পিতা।
বিনম্র শ্রদ্ধা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।