১৭ বছরেই উদ্যোক্তা সায়মা।

0
8

তার ব্যাপারটা সবাইকে অবাক করতে পারে । পরিবারটা চট্টগ্রামের বিখ্যাত আবেদীন পরিবার। যে পরিবারে জন্ম দেশ খ্যাত সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার এবং জাতীয় ক্রিকেট দলের নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। যে পরিবারের নামে চট্টগ্রামের একটি এলাকা পরিচিত। সেই পরিবারের ই সদস্য সায়মা আবেদীন।
সদ্য কৈশোর পেরুনো ১৭ বছরের তরুনী সায়মা আবেদীন এই বয়সেই নিজেকে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করেছেন। তার নিজের হাতের তৈরি কেক, পেস্ট্রি, ডোনাটসহ বিভিন্ন ধরনের হোম মেইড বেকারি পণ্য নিয়ে সায়মার প্রতিষ্ঠান ‘সায়মা’স কেকারি’। আরো বিস্ময়কর ব্যাপার হলো কন্যাকে উৎসাহ যোগাতে নিজেদের গাড়ি নিয়ে ডেলিভারি ম্যানের দায়িত্ব পালন করেন সায়মার বাবা-মা। সায়মা’র মা চট্টগ্রামে সবার পরিচিত মুখ, মিডিয়া এবং বাণিজ্যিক ব্যাক্তিত্ব শাহেলা আবেদীন।
সায়মা আবেদীন। একটি সুপ্রতিষ্ঠিত পরিবারের সদস্য হিসেবে কেক বানিয়ে তার হয়তো লাখপতি হওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু সায়মা একটি উদাহারণ। সায়মা’র বাবা মা এই সমাজের জন্য বিস্মিত করে দেয়া অনুপ্রেরণার উৎস। লকডাউন পরিস্থিতিতে সবাই যখন ঘরবন্দি। সবাই যখন কিভাবে গৃহবন্দি অলস সময় কাটাবে সেই চিন্তায় ব্যাকুল ছিলো সেই সময়েই সদ্য এসএসসি পাশ করা সায়মা ভাবছিলো কিভাবে নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো যায়। কিভাবে নিজের আয়ের টাকা দিয়ে নিজের প্রয়োজন মেটানো যায়। কিভাবে এই সমাজের জন্য নিজেই একটি উদাহারণ তৈরি করতে পারেন। মায়ের কাছে, বড় বোনের কাছে আগেই শিখে নিয়েছিলেন চমৎকার সুস্বাদু কেক বানানো। সেই কেক আর বেকারি পণ্য নিয়ে সায়মা;র ফেসবুক পেইজ ‘সায়মা’স কেকারি’ শুরু করে মাত্র একমাস পূর্বে। শুরু করার মাত্র এক মাসের মধ্যেই ব্যাপক সাড়া পেতে শুরু করেছে সায়মা। ব্যাপক অর্ডারের প্রেক্ষিতে সায়মার আম্মু চট্টগ্রামের জনপ্রিয় বাণিজ্য ব্যাক্তিত্ব শাহেলা আবেদীন নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করে অর্ডার ডেলিভারির দায়িত্ব পালন করেছেন।
সায়মা আবেদীনের মা. শাহেলা আবেদীন জানান, আমার তিন মেয়ের মধ্যে সায়মা মেঝো। আমি আমার মেয়েদের সাথে সব সময়ই বন্ধুর মতো। আমি তাদেরকে ছোট বেলা থেকেই শেখাতে চেয়েছি কোন কাজই কখনো ছোট নয়। বাবা মায়ের অনেক কিছুই থাকতে পারে। পরিবারে কোন অভাব না-ও থাকতে পারে। কিন্তু আত্মনির্ভরশীল হওয়ার মধ্যে যে গৌরববোধ আছে, যে আত্মতৃপ্তি আছে তা অন্য কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না।
গোল্ডেন জিপিএ নিয়ে সদ্য এস এস সি পাশ করা সায়মা তার প্রতিটি কাজ নিজেই করেন। কেক তৈরি থেকে প্যাকেজিং সব করেন নিজের হাতে। শতভাগ হাইজেনিক মেনটেইন এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে নিজেদের গাড়িতেই ডেলিভারি করেন। গাড়িতে কখনো চালকের আসনে মা, কখনো বাবা।
সায়মা কেকারির উদ্যোক্তা সায়মা আবেদীন জানান, শুরুর পর থেকেই আমি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। এই বয়সো কেনো উদ্যোক্তা হতে চাওয়া- এমন প্রশ্নের জবাবে সায়মা জানান, কোন কাজই ছোট নয় এবং নিজের কাজ নিজেকেই করতে হবে- এই শিক্ষা আমি আমার মায়ের কাছ থেকে পেয়েছি। ছোট বেলা থেকে দেখে আসছি আমার মা একদিকে পরিবার সামলাচ্ছেন আরেক দিকে সমাজের জন্য কাজ করছেন। নারীদের স্বাবলম্বী হতে নারীদের কল্যানের জন্য সবসময়ই আমার মা নিবেদিত। এমন মায়ের কন্যা হিসেবে মায়ের কাছ থেকে পারিবারিক শিক্ষা আমাকে এতো অল্প বয়সেই একজন নারী উদ্যোক্তার ভূমিকায় আসতে সাহায্য করেছে। সায়মা আবেদীন বলেন, সায়মা’স কেকারি নিয়ে আমার মুখ্য উদ্দেশ্য অনেক অর্থ উপার্জন নয়, আমার উদ্দেশ্য সবার মধ্যেই একটা অনুপ্রেরণা ছড়িয়ে দেয়া কখনো কোন কাজ ছোট করে দেখতে নেই। আমরা চাইলেই পারি। ইচ্ছে, পরিশ্রম, মেধা আর শ্রমের সঠিক বাস্তবায়ন করতে পারলে আমরা নিজের পায়ে দাড়াতে পারবো।
ছোট বেলা থেকেই স্কুল পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত সায়মার বড় হয়ে ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছে। তবে সে স্কুলে পড়তে পড়তেই প্রথম আলোসহ বিভিন্ন বিলবোর্ডে মডেল হয়েও পরিচিতি লাভ করেছে। এখন কেক বানিয়ে ১৭ বছর বয়সে উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে সায়মা।
জন্মদিন বা যে কোন আয়োজনে কেক বা যে কোন বেকারি পণ্যের প্রয়োজনে ‘সায়মা’স কেকারির সাথে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সায়মা আবেদীন।

লেখা-রেজাউল করিম