চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত করোনাকালের সবচেয়ে বড় নিলামে বিলাসবহুল একটি মার্সিডিজ বেঞ্জের সর্বোচ্চ দর উঠেছে আড়াই লাখ টাকারও কম! এত কম দাম উঠায় বিস্মিত হয়েছেন স্বয়ং নিলামে অংশগ্রহণকারীরাও। তবে নিলাম শাখার কর্মকর্তারা জানান, এবার বিলাসবহুলসহ চারটি গাড়ি নিলামে তোলা হয়। সর্বোচ্চ দরদাতার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তার মানে গাড়িগুলো বিক্রি হয়েছে তা নয়। নিলাম কমিটি যাচাই বাছাই করে অনুমোদন দিলে তখন টাকা পরিশোধ করে খালাস করে নেয়া যাবে।
নিলাম শাখার সূত্রে জানা গেছে,রাজধানীর উত্তরা ৭নং সেক্টরের মোহতাসেম মুনির চৌধুরী ২০০৬ মডেলের বিলাস বহুল মার্সিডিজ বেঞ্জের সর্বোচ্চ দর হাঁকিয়েছেন মাত্র ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৫০ টাকা! ফোর হুইলার ৬ সিলিন্ডারবিশিষ্ট মার্সিডিজ বেঞ্জ কারটির ওজন প্রায় ৫ টন। অনুষ্ঠিত নিলামের লট নম্বর ওবিপিসি ২/২০১/১০। গাড়িটি ২০১০ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি হয়। অন্যদিকে জাপানি টয়োটা ভ্যানগার্ড এবং টয়োটা হ্যারিয়ার গাড়ি এক লটে নিলামে উঠানো হয়। যার লট নম্বর ওবিপিসি-১/৭৬/২০২০। এরমধ্যে একটি জিপ ও আরেকটি মিনি ট্রাক। গাড়ি দুটির জন্য সর্বোচ্চ ৩০ লাখ ৬০ হাজার টাকা দর হাঁকান নগরীর চকবাজার জয়নগরের এসএম ইউসুফ। অপরদিকে জাপানের তৈরি ২০১৪ মডেলের চার সিলিন্ডারের অ্যাকোয়া হাইব্রিড কারের সবোচ্চ দর উঠে ১০ লাখ ২৭ হাজার টাকা। টয়োটা মোটর করপোরেশনের তৈরি গাড়িটি ২০১৯ সালে বন্দরে আসে। যার লট নম্বর ওবিপি -১/২৮৭/১৯। গাড়িটির সর্বোচ্চ দর হাঁকায় নগরীর আগ্রাবাদ শেখ মুজিব রোডের এসই এন্টারপ্রাইজ। চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম শাখার উপ-কমিশনার ফরিদ আল মামুন বলেন, করোনাকালের সর্বোচ্চ নিলাম সম্পন্ন শেষে আমরা সর্বোচ্চ দরদাতাদের তালিকা প্রকাশ করেছি। তালিকা বিশ্লেষণ করে অনুমোদন দিলেই কেবল বিডাররা পণ্য খালাস করে নিতে পারবেন।
উল্লেখ্য, গত ৩০ জুন চট্টগ্রাম কাস্টমসে করোনাকালের সর্বোচ্চ বড় নিলামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিলামের ১৭৫ লটের মাধ্যমে বিড পড়ে ১১৮টিতে। ১৭৫টি লটে ৬ লাখ কেজির বেশি আপেল, ১৭৪ টন হিমায়িত মাংস, ৯ টন মাছ, ৭২৯ টন মুরগি বা মাছের খাবার, ১৫০ টন পেঁয়াজ, ৫৪০ টন সোডিয়াম সালফেট, ১৯ কন্টেনার ক্যালশিয়াম কার্বনেট, ৮ কন্টেনার আর্ট পেপার, ক্যাপিটাল মেশিনারি ৬৮৯ টন এবং বিভিন্ন মডেলের চারটি গাড়ি নিলামে উঠানো হয়। নিলামে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মিলে মোট ৩২৮টি দরপত্র জমা পড়ে।