প্রথমবারের মতো মানবদেহে করোনাভাইরাসের টিকা প্রয়োগ করবে যুক্তরাজ্য। আগামীকাল বৃহস্পতিবার এ টিকা মানবদেহে প্রয়োগ করা হবে বলেন জানান দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক।

মঙ্গলবার (২২ এ্রপ্রিল) লন্ডনে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে অংশ নেয়ার সময় তিনি এই ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, এই বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা মানবদেহে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রয়োগ করবেন। তারা দিনরাত পরিশ্রম করে দ্রুত এটা তৈরি করেছেন। যেটা তৈরি করতে সাধারণত এক বছরেরও বেশি সময় লাগে। আগামী মে মাসের মধ্যে ৫০০ স্বেচ্ছাসেবকের শরীরে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হবে। যদি এটা সফলভাবে কাজ করে তাহলে আরো হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবকের শরীরে প্রয়োগ করা হবে। এই ট্রায়ালের জন্য আমরা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দলটিকে ২০ মিলিয়ন পাউন্ড (২১০ কোটি টাকা) দিতে যাচ্ছি।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টিকাবিদ প্রফেসর সারাহ ক্যাথেরিন গিলবার্টের নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরি করেছেন। সেপ্টেম্বরের মধ্যেই তারা এই ভ্যাকসিনের ১০ লাখ ডোজ তৈরি করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

ইতিমধ্যেই তারা ৩ লিটারের ডোজ তৈরি করেছেন যা বৃহস্পতিবার থেকেই মানবদেহে প্রয়োগ করতে শুরু করবেন তারা। পরে ধাপে ধাপে ৫০ লিটার, ১০০ লিটার, ২০০ লিটার এমনকী ২০০০ লিটারের ডোজ তৈরি করবেন।

সেটা অবশ্য নির্ভর করবে মানবদেহে এই ভ্যাকসিনের সফল প্রয়োগের উপর। যদি মানবদেহে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে এই টিকা কাজ না করে তাহলে তাদের এতোদিনের পরিশ্রম ও ব্যয়িত অর্থ সবই ব্যর্থ হবে।

তবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এটার সফলতার ব্যাপারে ৮০ শতাংশ আশাবাদী।

এ নিয়ে ম্যাট হ্যানকক বলেন, তারা (বিজ্ঞানীরা) এই প্রকল্পটির ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং দ্রুত অগ্রগতি সাধন করছেন। তিনি বলেন, করোনার ভ্যাকসিনের গবেষণায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে ব্রিটেন সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করছে।

করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারে এই মুহূর্তে বিশ্বের ৮০টিরও বেশি গবেষক দল কাজ করছেন। এর মধ্যে কয়েকটি ইতোমধ্যে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালও চালিয়েছে। গত মাসে প্রথমবারের মতো মানবদেহে করোনার ভ্যাকসিনের পরীক্ষা চালান যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের বিজ্ঞানীরা।

উল্লেখ্য, সারাবিশ্বে ২৫ লাখ ৬৩ হাজার ৩৮৪ জন করোনাআক্রান্ত হয়েছেন। আর এ মহামারিতে মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ৭৭ হাজার ৪১৫ জনের। এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্তের পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬ লাখ ৮১ হাজার ৪৭৭ জন মানুষ।