কাল থেকে শুরু হবে এশিয়া কাপ। প্রথম দিনেই শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ মুখোমুখি। ম্যাচ দিয়ে মাঠে গড়াবে এশিয়া কাপ। ৩৪ বছরের পুরোনো এই টুর্নামেন্ট উপহার দিয়েছে কত সুখ-দুঃখের স্মৃতি আর রাশি রাশি রেকর্ড। কিছু রেকর্ড তো যথেষ্ট বিস্ময়কর! সে সব থেকে পাঁচটির ওপর দৃষ্টি ফেলা যাক…

ফাইনালহীন টুর্নামেন্ট
এশিয়া কাপে ফাইনাল ছাড়াই শিরোপা জয়ের ঘটনাও আছে। সেটি ১৯৮৪ সালে টুর্নামেন্টটির প্রথম সংস্করণে। ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার অংশ গ্রহণে সেবার রাউন্ড রবিন লিগ ভিত্তিতে একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল তিনটি দল। পাকিস্তান দুটি ম্যাচ হেরে তৃতীয় হয়েছিল। শ্রীলঙ্কা এক ম্যাচ জিতে দ্বিতীয় আর ভারত দুটি ম্যাচ জিতেই চ্যাম্পিয়ন হয়।

‘ডাক’হীন ভারত
ওয়ানডে সংস্করণে এবার অনুষ্ঠিত হবে এশিয়া কাপ। টুর্নামেন্টটির আগের ১৩টি সংস্করণের মধ্যে শুধু গতবারই টি-টোয়েন্টি সংস্করণ ছিল। এ ছাড়া বাকি ১২বারই ওয়ানডে সংস্করণে খেলা হয়েছে এশিয়া কাপে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, এশিয়া কাপের ওয়ানডে সংস্করণে ভারতের কোনো খেলোয়াড় আজ পর্যন্ত ‘ডাক’ মারেননি! তবে টি-টোয়েন্টির যে এক সংস্করণ মাঠে গড়িয়েছে সেখানে তিনটি ‘ডাক’ (শূন্য রানে আউট) আছে ভারতের—অজিঙ্কা রাহানে, হার্দিক পাণ্ডিয়া ও রোহিত শর্মা সেই তিন খেলোয়াড়।

এশিয়া কাপের ওয়ানডে সংস্করণে সবচেয়ে বেশিসংখ্যকবার ‘ডাক’ মারার রেকর্ড শ্রীলঙ্কার। ১৭টি ‘ডাক’ রয়েছে শ্রীলঙ্কা। ১১টি ‘ডাক’ নিয়ে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ও ৯টি ‘ডাক’ নিয়ে তৃতীয় পাকিস্তান। এই সংস্করণে খেলোয়াড়দের মধ্যে এশিয়া কাপে সবচেয়ে বেশি ‘ডাক’ (৩) মারার রেকর্ডটি তিনজনের—মাহেলা জয়াবর্ধনে, আমিনুল ইসলাম ও সালমান বাট।

ভারতের মাত্র একজন
এশিয়া কাপে সর্বোচ্চ ৬বার শিরোপা জিতেছে ভারত। এই টুর্নামেন্টে তাঁদের বোলিং-ব্যাটিং সব সময়ই দারুণ। কিন্তু অবিশ্বাস্য ব্যাপার, এশিয়া কাপের এই ৩৪ বছরের পথচলায় মাত্র একবারই ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি রয়েছে কোনো ভারতীয় বোলারের। আরও অবিশ্বাস্য ব্যাপার হলো, সেই বোলারটি অনিল কুম্বলে, জাভাগাল শ্রীনাথ, জহির খান, ইরফান পাঠানদের মতো তারকাখ্যাতি পাওয়া কেউ নন। তিনি আরশাদ আইয়ূব। ১৯৮৮ সালের সেই টুর্নামেন্টের আয়োজক দেশ ছিল বাংলাদেশ। ঢাকায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ২১ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন সাবেক এই অফ স্পিনার। কাকতালীয় ব্যাপার, আইয়ুবের সেই কীর্তি এশিয়া কাপে যেমন ভারতের কোনো বোলারের ইনিংসে প্রথম ৫ উইকেট তেমনি এশিয়া কাপেও!

সেরা স্ট্রাইক রেট শেবাগের
নিশ্চয়ই ভাবছেন এখানে বিস্ময়ের কী আছে? বীরেন্দর শেবাগের মতো ব্যাটসম্যানের স্ট্রাইক রেট ওপরের দিতে থাকাই তো স্বাভাবিক। একটু ভুল হচ্ছে। ব্যাটসম্যান শেবাগ নন বোলার শেবাগ। হ্যাঁ, এশিয়া কাপের ওয়ানডে সংস্করণে ইনিংসে সেরা বোলিং স্ট্রাইক রেট ভারতের সাবেক এই বিস্ফোরক ওপেনারের। ২০১০ সালে ডাম্বুলায় বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচটা মনে আছে? শেবাগের স্পিন ঘূর্ণিতে (২.৫-০-৬-৪) মাত্র ১৬৭ রানেই গুটিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে প্রতি ৪.২ বল পর একটি করে উইকেট নিয়েছিলেন শেবাগ।

বোলার শচীন
ব্যাটসম্যান শচীন টেন্ডুলকারে ভুলে বোলার টেন্ডুলকারকে কেউ মনে রাখেনি। তাই বলে টেন্ডুলকারের স্পিন বোলিংয়ের ধারকে অস্বীকার করার পথ নেই। এশিয়া কাপের কথাই ধরুন, এই টুর্নামেন্টে ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ইরফান পাঠান (২২) আর তারপরই টেন্ডুলকার! বিস্ময়ে চোখ রগড়ানোর কিছু নেই। পরিসংখ্যান তাই বলছে। ২৩ ম্যাচে শচীনের উইকেটসংখ্যা ১৭। এশিয়া কাপে উইকেটশিকারে তিনি ওয়াসিম আকরাম-কপিল দেবদের চেয়েও এগিয়ে!