এত সুন্দর চিত্রনাট্য কেউ কি কখনো লিখতে পেরেছেন? নায়ক দুহাত ভরে পেয়েছেন। পার্শ্ব নায়কের ডালিটাও পরিপূর্ণ। নায়কের আশপাশে যাঁরা আছেন তাঁদের মুখে হাসি। নায়ককে যাঁরা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তাঁরাও অতৃপ্ত নন—বলবেন, এত শর্ত মেনে এ দুর্দান্ত চিত্রনাট্য লিখেছেন কোন চিত্রনাট্যকর! ওভাল টেস্টের নায়ক অ্যালিস্টার কুককে জয় উপহার না দিতে পারলে বড় বেমানান হতো। নিয়তি সেটি হতে দেয়নি। লোকেশ রাহুল-ঋষভ পন্তের লড়াইয়ের পরও ম্যাচটা শেষমেশ ইংল্যান্ড জিতেছে ১১৮ রানে।

ওভাল টেস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ, কুক আরও একবার ভাসলেন করতালির বৃষ্টিতে। টুপি খুলে অভিনন্দনের জবাব দিলেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক। এভাবে তো আর মাঠে নামা হবে না। আবেগঘন মুহূর্তে কুক পাশে টেনে নিলেন জেমস অ্যান্ডারসনকে। খানিক আগে দুর্দান্ত এক রেকর্ড গড়েছেন জিমি। ভারতের শেষ উইকেট মোহাম্মদ শামির স্ট্যাম্প উপড়ে শুধু দলের জয়ই নিশ্চিত করেননি, গ্লেন ম্যাকগ্রাকে টপকে ৫৬৪ উইকেট নিয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি পেসারও হয়ে গেছেন।

৪৬৪ রানের লক্ষ্য, চতুর্থ দিনে রান তাড়া করতে নেমে ২ রান তুলতেই ভারত হারিয়ে ফেলেছিল ৩ উইকেট। লোকেশ রাহুল ও অজিঙ্কা রাহানে হাল ধরেছিলেন সেখান থেকেই। চতুর্থ উইকেটে ১১৮ রান যোগ করার পর মঈন আলীর বলে মিড উইকেটে কিটন জেনিংসের ক্যাচ রাহানে। ৭ বল পরে নেই অভিষিক্ত হানুমা বিহারিও, এবার শূন্য রানে। ১২১ রানে ৫ উইকেট নেই ভারতের। অ্যালিস্টার কুককে বিদায়ী উপহার দিতে ইংলিশদের হয়তো বেশি অপেক্ষা করতে হচ্ছে না, এমনটা যাঁরা ভাবছিলেন তাঁদের অপেক্ষাই বরং বাড়ল। অপেক্ষাটা বাড়ালেন লোকেশ রাহুল ও মাত্র তৃতীয় টেস্ট খেলতে নামা ঋষভ রাজেন্দ্র পন্ত। সেঞ্চুরি পেয়ে গেছেন দুজনই, টেস্টে যা রাহুলের পঞ্চম, পন্তের প্রথম। ষষ্ঠ উইকেটে ২০৪ রান যোগ করে ফেলেন দুজন। ভারত শেষ দিনের চা-বিরতিতে গেল ৫ উইকেটে ২৯৮ রান তুলে।

কুকের বিদায় আয়োজনকে ‘ভন্ডুল’ করতে শেষ সেশনে ভারতের দরকার ছিল ১৬৬ রান। আলোকস্বল্পতা বা আবহাওয়া বাগড়া না দিলে এই রানটা করতে ৩২ ওভার হাতে ছিল ভারতের। ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাটিং করা রাহুল-পন্তরা তা পারেননি। আদিল রশিদের শিকার হয়ে রাহুল থেমেছেন ১৪৯ আর পন্ত ১১৪ রানে। দুজন ফিরতেই ভারতের সব প্রতিরোধ চুরমার হয়ে গেল মুহূর্তেই। ২০ রানের মধ্যে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে ভারতীয়রা অলআউট ৩৪৫ রানে।

জয়ই হতো বিদায়ী ম্যাচে কুকের সেরা উপহার। তিনি সেটা পেয়েছেন। তৃপ্তির হাসি নিয়ে শেষ হলো তাঁর পথচলা।