ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরে ভারতীয় সেনা বাহিনীর দফতরে হামলার পর ভারতীয় সেনাবাহিনীর উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ড বিবৃতি প্রদান করেছে। এতে বলা হয়, ওই হামলায় ১৭ সেনা সদস্য ও ৪ হামলাকারী নিহত হয়েছে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডের টুইটার অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ওই বিবৃতিটির অনুবাদ নিম্নে তুলে ধরা হলো –

“১৮ সেপ্টেম্বর (রবিবার) ভোরে ভারি অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত একদল ‘সন্ত্রাসী’ কাশ্মিরের উরিতে লাইন অব কন্ট্রোলের নিকটে সামরিক বাহিনীর একটি প্রশাসনিক স্থাপনায় হামলায় চালায়। সেনাবাহিনীর পাল্টা অভিযানে চার ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে এবং এখনও চিরুনি অভিযান অব্যাহত আছে। হামলার সময় সেখানে অনেক সেনা সদস্য প্রশাসনিক ভবনে বিভিন্ন অস্থায়ী ঘাঁটিতে অবস্থান করছিল। সেখানে অগ্নিসংযোগ করা হলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। আমরা ১৭ সেনার আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধা জানাই, যারা ওই ‘সন্ত্রাসী’ অভিযানে আত্মাহুতি দেন।”
এখনও পর্যন্ত কোনও সংগঠনের পক্ষ থেকে ওই হামলার দায় স্বীকার করা হয়নি।
এর আগে হামলায় অন্তত ২০ জওয়ান আহত হয়েছেন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। তাদের হেলিকপ্টারে করে রাজধানী শ্রীনগরে সেনা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হামলার পর উরির দোকানপাট সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুরো শহরে যান চলাচল বন্ধ আছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকর ও ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল দলবির সিং কাশ্মির সফরে যাচ্ছেন। দিল্লিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আহত সেনা সদস্যের সংখ্যা ৩৫ বলে জানিয়েছে।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের ধারণা, হামলাকারীরা ফিদায়েন বা আত্মঘাতী বন্দুকধারীরা হতে পারে। সেনা স্থাপনাটি বারামুল্লা জেলার শ্রীনগর-মুজাফফরাবাদ হাইওয়ের উরিতে অবস্থিত। এটা সেনাদের অস্ত্রাঘার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

হামলার পর ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সফর স্থগিত করেছেন। আজকেই তার রওনা দেওয়ার কথা ছিল। তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবকে ঘটনাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া জরুরি একটি বৈঠকও ডেকেছেন তিনি। উচ্চ পর্যায়ের এ বৈঠকটি স্থানীয় সময় দুপুর সোয়া ১২টায় রাজনাথ সিংয়ের বাসায় অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে চলতি বছরের প্রথমদিকে, পাঞ্জাবের পাঠানকোট বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছিল। সেখানে টানা তিনদিন বন্দুকযুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর সাত সদস্য নিহত হন।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।