বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহানের ‘সুইসাইড নোট’পাওয়া গেছে। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘সোয়াদকে যেনো ওর বাবা কোনওভাবেই নিজের হেফাজতে নিতে না পারে।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। শারীরিক, মানসিক চাপের কারণে আত্মহত্যা করলাম।’

শুক্রবার বিকাল পৌনে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরি ভবনের ৩০৩ নম্বর কক্ষ থেকে আকতার জাহানের লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর ল্যাপটপের নিচে তার নিজ হাতে লেখা সুইসাইড নোটটিতে লেখা হচ্ছে।
‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। শারীরিক, মানসিক চাপের কারণে আত্মহত্যা করলাম। সোয়াদকে যেনো ওর বাবা কোনওভাবেই নিজের হেফাজতে নিতে না পারে। যে বাবা নিজের সন্তানের গলায় ছুরি ধরতে পারে, সে কোনও সময় সন্তানকে মেরেও ফেলতে পারে বা মরতে বাধ্য করতে পারে। আমার মৃতদেহ ঢাকায় না নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেওয়ার অনুরোধ করছি।’

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা একটা সুইসাইড নোট পেয়েছি। সেটি তার সহকর্মী শিক্ষকদের দেখিয়েছি। তারাও বলেছেন, নোটটি আকতার জাহানের লেখা।’

এই ঘটনায় নিহতের পরিবার কোনও মামলা করবে কিনা, এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, ‘এখনও কেউ অভিযোগ করেনি। তবে অভিযোগ পেলে তা অবশ্যই মামলা গ্রহণ করা হবে।’
কেউ আটক আছে কিনা, এর জবাবে কমিশনার বলেন, ‘কেউ আটক নেই। আমরা নিহতের লাশের ময়নাতদন্তের জন্য বলেছি। তারপর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।’
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের শিক্ষক তানভির আহমদের সঙ্গে দীর্ঘদিন সংসার করেন আকতার জাহান। ২০১২ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দকৃত ওই আবাসিক ভবনে (জুবেরি) একাই থাকতেন আকতার জাহান। তাদের সংসারে একটি ছেলে (সোয়াদ) রয়েছে। সে ঢাকায় নানির বাড়ি থেকে পড়াশোনা করে।