বিয়ের জন্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আসা ৬ কিশোর-কিশোরী আটক

0
7

ডেস্ক নিউজ : বিয়ের জন্য চট্টগ্রামে পালিয়ে আসা ছয় কিশোর-কিশোরীকে আটক করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

তিন কিশোরীর দুজন ষষ্ঠ, একজন পঞ্চম শ্রেণির; আর তিন কিশোরের দুজন নবম, একজন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তারা ঢাকার ধামরাই থেকে পালিয়ে চট্টগ্রামে এসেছে। তারা জানিয়েছে বিয়ে করে নিজেদের মতো করে গুছিয়ে নিতে তাদের এ পলায়ন। তবে তাদের সে পরিকল্পনা ভন্ডুল হয়ে গেছে। পুলিশের হাতে ধরা পড়ে ফিরতে হচ্ছে অভিভাবকের কাছে।
আজ শনিবার তাদের অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর রেল স্টেশন এলাকা থেকে স্কুলপড়ুয়া ছয় এ কিশোর-কিশোরীকে উদ্ধারের পর পুলিশ জানিয়েছে, এক বান্ধবীকে বাল্য বিয়ে থেকে বাঁচাতে নিজেরাই পালিয়েছে পছন্দের ছেলেদের সাথে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালী জোন) নোবেল চাকমা বলেন, রেল স্টেশনে সন্দেহজনকভাবে চলাফেরার সময় তাদের পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। এসময় তাদের দুই জন নিজেদের ‘স্বামী-স্ত্রী’, অন্যরা ‘বন্ধু-বান্ধবী’ পরিচয় দেয়। তাদের সন্দেহজনক কথাবার্তার জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, বিয়ে করার জন্য তারা পালিয়ে চট্টগ্রাম এসেছে। থানায় এনে তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করা হয়।

ছয় জনের মধ্যে পাঁচ জনের বাড়ি ধামরাই উপজেলার বড় কুশিরিয়া কাজিয়ারকুণ্ড গ্রামে। আর এক জনের বাড়ি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায়। তবে সে কিশোর করোনাভাইরাস সংক্রমণে স্কুল ছুটি থাকায় কাজিয়ারকুণ্ডে খালার বাড়িতে থেকে টাইলস ফিটিং করার কাজ শিখছে।
তিন কিশোরীর দুই জন ধামরাইয়ে স্থানীয় দুইটি স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে অন্যজন স্থানীয় একটি মহিলা মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। তিন কিশোরের দুই জন ধামরায়ের স্থানীয় দুইটি স্কুলে অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে এবং আরেক জন কুমিল্লার লাকসামে নিজ বাড়িতে একটি স্কুলের নবম শ্রেণিতে পড়ে। সবার বাড়ি একই এলাকায় হওয়ায় তাদের মধ্যে ‘প্রেমের সম্পর্ক’ গড়ে উঠে। তাদের মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণি পড়ুয়া এক কিশোরীর বিয়ে ঠিক করা হয় পরিবারের পক্ষ থেকে। কিন্তু পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করতে তারা সবাই এক সাথে বাড়ি থেকে পালানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে সবাই একযোগে বাড়ি থেকে পালিয়ে ঢাকায় এবং সেখান থেকে ট্রেনে করে রাতে চলে আসে চট্টগ্রামে।
তারা বিয়ের জন্য শাড়ি ও বাড়ি থেকে আর কিছু কসমেটিকস কিনেছিল। শিক্ষার্থীদের ব্যাগ থেকে এসব উদ্ধার করা হয়।
এসি নোবেল বলেন, উদ্ধার কিশোর-কিশোরীরা সবাই নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান। তাদের দুই কিশোরীর মা প্রবাসী শ্রমিক। পারিবারিকভাবে অজ্ঞতা থাকায় তাদের একটি পরিবার বাল্য বিয়ে দেওয়ার আয়োজন করছিল। পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় না হওয়ায় তারা পরিবার ছেড়ে পালিয়ে এসেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here