পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ছোট বড় মিলে মোট ১৯টি ফেরি ছিলো। এর মধ্যে দুইটি ফেরি মাওয়া ঘাটে চলে গেছে। আর একটি ফেরি বিকল হয়ে মেরামত কারখানায় রয়েছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ২১টি জেলার সাথে রাজধানীতে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুট। যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে ছোট-বড় মিলে মোট ১৭টি ফেরি রয়েছে এই নৌরুটে।

তবে যান্ত্রিক ত্রুটিজনিত কারণে বিকল হয়ে মেরামত কারখানায় পড়ে আছে বড় ফেরি আমানত শাহ। এতে করে দুর্ভোগে পড়েছে নৌরুট পারাপার হতে আসা সাধারণ যাত্রী ও যানবাহন শ্রমিককেরা।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটের উভয় ফেরিঘাট এলাকা মিলে ৮ শতাধিক পণ্যবোঝাই ট্রাক নৌরুট পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানান ফেরিঘাট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ফেরির তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে ঘাট এলাকায় আগতদের পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভোগান্তির মাত্রাও। তবে খুব সহসাই এই ভোগান্তি লাঘবের সুযোগ নেই বলে জানান কর্তৃপক্ষ।

পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকার ট্রাক টার্মিনালে আলাপ হলে মাগুড়ামুখী পণ্যবোঝাই ট্রাকের চালক আলী হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় এসেছেন তিনি। এরপর প্রায় ১৪ ঘন্টা পার হয়ে গেলেও এখনো ফেরির টিকিট হাতে পাননি বলে জানান তিনি।

ফরিদপুরমুখী আরেক ট্রাক চালক বলেন, ফেরিঘাট এলাকায় বাস এবং ছোট গাড়ির চাপ না থাকলে ট্রাক পারাপার করে নৌরুট কর্তৃপক্ষ। যে কারণে ঘাট এলাকায় ট্রাক চালকদের ভোগান্তি বেশি হয়। আধ ঘন্টার নৌরুট পারাপারের জন্য ২৫ ঘন্টা অপেক্ষা করেও নৌরুট পারের সুযোগ পাননি বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন কর্পোরেশন আরিচা কার্যালয়ের বাণিজ্য বিভাগের সহকারি ব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন রাসেল বলেন, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ছোট বড় মিলে মোট ১৯টি ফেরি ছিলো। এর মধ্যে দুইটি ফেরি মাওয়া ঘাটে চলে গেছে। আর একটি ফেরি বিকল হয়ে মেরামত কারখানায় রয়েছে।

নৌরুটে ফেরির তুলনায় যানবাহনের চাপ অতিরিক্ত বেশি থাকার কারণে ঘাট এলাকায় পণ্যবোঝাই ট্রাকের চাপ বাড়ছে। সবশেষ ফেরিঘাট এলাকায় চার শতাধিক পণ্যবোঝাই ট্রাক নৌরুট পারের জন্য অপেক্ষামাণ রয়েছে। এছাড়াও মহাসড়ক এলাকাতেও কিছু ট্রাক অপেক্ষামাণ রয়েছে বলে জানান তিনি।

শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ করিব বলেন, ফেরিঘাট এলাকায় যানবাহনের চাপ অতিরিক্ত বেশি থাকার কারণে ঘাটমুখী ট্রাকগুলোকে ফেরিঘাট এলাকার ৬ কিলোমিটার আগে মহাসড়কের উথুলী এলাকায় আটকে রাখা হচ্ছে।

ফেরিঘাট এলাকায় ট্রাকের চাপ কমে গেলে মহাসড়ক থেকে কিছু কিছু করে ট্রাক সিরিয়াল অনুযায়ী ঘাটে পাঠানো হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সবশেষ মহাসড়কের উথুলী সংযোগ সড়ক থেকে আরিচামুখী সড়কে শতাধিক পণ্যবোঝাই ঘাটমুখী ট্রাক আটকের রাখা হয়েছে বলে জানান ওসি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন কর্পোরেশন দৌলতদিয়া কার্যালয়ের বাণিজ্য বিভাগের ব্যবস্থাপক মাহবুব আলী সরদার বলেন, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ঢাকামুখী বাস ও ছোট গাড়ির চাপ কম রয়েছে। যে কারণে ঘাট এলাকায় আটকে থাকা ট্রাকগুলোকে সিরিয়াল অনুযায়ী নৌরুট পারাপার করা হচ্ছে।

সবশেষ দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় তিন শতাধিক পণ্যবোঝাই ঢাকামুখী ট্রাক নৌরুট পারাপারের জন্য অপেক্ষামাণ রয়েছে। তবে ফেরি সংকটের সমাধান না হলে খুব সহসাই ট্রাক চালকদের ভোগান্তি লাঘবের কোন সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন কর্পোরেশন আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম জিল্লুর রহমান বলেন, নৌরুটে ফেরি স্বল্পতার কারণে দুর্ভোগ বাড়ছে। ঘাট এলাকায় ক্রমেই অপেক্ষামাণ যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে চলছে।

পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকার ভাসমান মেরামত কারখানা মধুমতিতে বড় ফেরি আমানত শাহ মেরামতে রয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে ফেরিটির মেরামত সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলামান রয়েছে।

তবে বাস, ছোট গাড়ি ও জরুরী পণ্যবাহী ট্রাক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নৌরুট পারাপার করায় সাধারণ পণ্যবাহী ট্রাক চালকদের ভোগান্তি বেশি হয় বলে জানান তিনি। খুব সহসাই সাধারণ পণ্যবাহী ট্রাক চালকদের এই ভোগান্তি লাঘবের সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।