মিয়ানমারকে ‘আইএনএস সিন্ধুবীর’ নামে সাবমেরিন দিচ্ছে ভারত। বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানান, এটিই প্রথম মিয়ানমার নৌবাহিনীর সাবমেরিন হবে।

১৯৮৮ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে এই সাবমেরিনটি সংগ্রহ করেছিল ভারত। বর্তমানে অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তমের একটি শিপইয়ার্ডে এর সংস্কার কাজ চলছে। চলতি বছর মিয়ানমার নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেয়া হবে। পাশাপাশি আর্টিলারি গান, ট্যাংক, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম দিতে সম্মত হয়েছে ভারত।

চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা ও সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নভরানে দুই দিনের সফরে মিয়ানমার গিয়েছিলেন। দ্বিপক্ষীয় বহুমুখী সহযোগিতা নিয়ে সেই সফরে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়। সফরের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে বিবৃতি প্রচার করেছিল, তাতে সাবমেরিন দেওয়ার উল্লেখ ছিল না।

বৃহস্পতিবার প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে মুখপাত্র বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির সঙ্গে সংগতি রেখে কিলো ক্লাসের ওই সাবমেরিন ‘আইএনএস সিন্ধুবীর’ মিয়ানমারের নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রতিবেশীদের ক্ষমতায়ন ও স্বনির্ভরতায় সহায়তার ক্ষেত্রে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেদিক থেকে সাবমেরিন দেওয়ার সিদ্ধান্তটি সংগতিপূর্ণ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এই ব্রিফিংয়ে আরও জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধিতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘ যে ভার্চ্যুয়াল সম্মেলনের আয়োজন করেছে, ভারত তাতে আমন্ত্রিত। ২২ অক্টোবর সেই সম্মেলন হবে। জাতিসংঘ এর আগে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ১ বিলিয়ন ডলার অর্থ সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু কোভিডসহ অন্যান্য কারণে অর্ধেক অর্থও সংগৃহীত হয়নি। ওই সম্মেলনের লক্ষ্য যত বেশি সম্ভব অর্থ সংগ্রহ করে রোহিঙ্গাদের জন্য খরচ করা।

মুখপাত্র এই প্রসঙ্গে বলেন, ভারত রাখাইন প্রদেশের গৃহচ্যুতদের দ্রুত, নিরাপদ ও স্থায়ী প্রত্যাবর্তন চায়। দুই দেশকে এই জন্য ভারত সহায়তাও দিচ্ছে।