প্রাকৃতিক এন্টিবায়োটিক হিসেবে কাঁচা হলুদের জুড়িমেলা ভার। এতে রয়েছে এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও এন্টি-ফাঙ্গাল উপাদান। যা মানব শরীরকে সুস্থ রাখতে ভীষণ কার্যকর। হলুদ এক প্রকার মসলা। এটি রান্না ছাড়াও অন্যান্য উপকারিতার জন্য বেশ বিখ্যাত। আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রে ওষুধ হিসেবে হাজার হাজার বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে হলুদ।
প্রাকৃতিক এন্টি-সেপ্টিক হিসেবে এটি ঠান্ডা-জ্বর থেকে দূরে রাখে। রক্তের দূষিত উপাদান বের করে দেয়। ত্বক সুন্দর ও উজ্জ্বল রাখতে এর জুড়ি নেই।
হলুদের মধ্যে এমন উপাদান রয়েছে যা থেকে গ্যাসট্রিক, পেপটিক এবং আলসার রোধ করে। লিভারের সমস্যা ও পেশির সমস্যা থেকেও দূরে রাখে কাঁচা হলুদ। এতে রয়েছে ফাইবার, নায়াসিন, ভিটামিন বি-৬, সি, ই, কে, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, কপার, ম্যাগনেসিয়াম, জিংক, কারকিউমিন নামক রাসায়নিক উপাদান যা বিভিন রোগের হাত থেকে বাঁচায়। ঘুম থেকে উঠে কাঁচা হলুদ খেলে খাবার ঠিকমতো হজম হয়। এতে থাকা কারকিউমিন রক্তনালিকে উন্মুক্ত করে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করে রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল কমায়।
এছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত কাঁচা হলুদ খেলে প্রায় ৭৮.৯ শতাংশ ফ্যাটিলিভার কমে যায়। হেপাটাইটিস ভাইরাসের থেকে দেহকে রক্ষা করে। এটি লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে। ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ইনস্যুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে হলুদ ওষুধের মতো কাজ করে। এটি টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের ইনস্যুলিন প্রতিবন্ধকতা কমাতেও সাহায্য করে। টিউমার সৃষ্টিকারী রেডিয়েশনের বিরুদ্ধে কাজ করে ক্যান্সারের প্রতিরোধ করে। এটি ক্যান্সার কোষকে নষ্ট করে টি-সেল লিউকেমিয়া, কোলন ক্যান্সার, প্রোস্টেট ক্যান্সার এবং স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। হলুদ অস্টিওআর্থ্রাইটিস ও রিউমাটোয়েড আর্থ্রাইটিসের জন্য অতুলনীয়। এতে থাকা এ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হাড়ের ব্যথা দূর করে। শরীরের কোষ নষ্টকারি ফ্রি রেডিকেল ধ্বংস করে। এটি লোহিত রক্ত কণিকাকেও রক্ষা করে। এছাড়া এতে প্রচুর আয়রন ও এন্টি-অক্সিড্যান্ট গুণ থাকায় তা রক্তে আয়রনের ঘাটতি কমিয়ে এনিমিয়া থেকে রক্ষা করে।