একটি সাধারণ পরিবারের সন্তান প্রদীপ কুমার দাশ পুলিশের চাকরিতে যোগদানের পরই বদলে যেতে থাকে তার হালচাল। অনেকটা রূপকথার আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার মতোই তিনি গড়তে থাকেন একের পর এক সম্পদ। স্ত্রী চুমকি কারণের নামেই গড়েছেন সম্পদের বেশিরভাগ। অবৈধভাবে উপার্জিত এসব সম্পদের সত্যতা পেয়ে টেকনাফের বরখাস্ত ওসি প্রদীপ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।

রবিবার বিকালে কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১-এ সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২-এর সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে প্রদীপ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে তিন কোটি ৯৫ লাখ পাঁচ হাজার ৬৩৫ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ এনে মামলাটি করেন।

জানা যায়, ১৯৯৫ সালে প্রদীপ এসআই পদে চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই তার জীবনধারা পাল্টে যেতে থাকে। পুলিশের চাকরি পেয়েই তিনি হাতে পেয়েছিলেন আলাদিনের চেরাগ। ২০০২ সাল থেকেই তার সম্পদ দৃশ্যমান হতে থাকে। যার স্রোত চলেছিল চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত।

গত ৩১ জুলাই মধ্যরাতে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যার মধ্য দিয়ে পতন ঘটে টেকনাফ থানার ওসি হিসেবে প্রদীপের সাম্রাজ্যের। সিনহা হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ওসি প্রদীপ কুমারের অবৈধ সম্পদের সন্ধান পেয়েছে দুদক। ওসি প্রদীপ ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সব সম্পদ রেখেছেন স্ত্রী চুমকী কারণের নামে।

দুদকের অনুসন্ধানে গৃহিণী চুমকীর নামে প্রায় চার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ পাওয়া গেছে। প্রদীপের নামে স্থাবর-অস্থাবর কোনো সম্পদ পাওয়া যায়নি। কমিশনের চট্টগ্রাম-২ অফিসের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিনের করা অনুসন্ধান প্রতিবেদনটি এরইমধ্যে ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, চুমকী কারণের নামে চার কোটি ৪৪ লাখ ১৮ হাজার ৮৬৯ টাকার সম্পদ থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিনি পারিবারিক ব্যয়সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে খরচ করেছেন ২১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। চুমকীর আগের সঞ্চয়, উপহার, বাড়িভাড়া থেকে বৈধ আয় হিসেবে ৪৯ লাখ ১৩ হাজার ২৩৪ টাকার সম্পদ পাওয়া যায়।

এই হিসাব অনুযায়ী, চুমকীর নামে মোট তিন কোটি ৯৫ লাখ পাঁচ হাজার ৬৩৫ টাকার অবৈধ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায়। এটা তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। চুমকী একজন গৃহিণী হয়ে এত টাকার সম্পদের মালিক কীভাবে হলেন- এই প্রশ্ন সামনে এনেছে দুদক। প্রদীপ কুমার দাশ ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত আয় স্ত্রীর নামে রেখেছেন বলে জানা গেছে দুদকের অনুসন্ধানে।

দুদকের অনুসন্ধানে চুমকীর নামে চট্টগ্রামের কোতোয়ালিতে জমিসহ ছয়তলা বাড়ি পাওয়া যায়। চুমকী দুদককে বলেছেন, বাড়িটি তার বাবার কাছ থেকে দানসূত্রে পাওয়া। তবে দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রদীপ দাশ ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থে স্ত্রীর নামে বাড়িটি তৈরি করেছেন। এ ক্ষেত্রে চুমকি দুদকে মিথ্যা তথ্য প্রদান করে আইন অনুযায়ী অপরাধ করেছেন। এছাড়া চুমকীর নামে আরও প্লট, ফ্ল্যাট, একাধিক গাড়ি ও অন্যান্য সম্পদের প্রমাণ পাওয়া যায়।