চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে গতকাল শিক্ষা উপমন্ত্রী হাই ফ্লো ন্যাজল ক্যানুলা দিয়ে চলে যাওয়ার পর ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘এই করোনা দুর্যোগে আমরা গাড়ি না কিনে রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইক্যুইপমেন্ট দেয়ায় অনেকের গাত্রদাহ হচ্ছে। তারা মনে করছে হাসপাতাল যদি স্বয়ংসম্পূর্ণ হয় তাহলে তাদের অনেকের ব্যবসা-বাণিজ্য চলে যাবে। এ কারণে তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উন্নতি চান না।’
তিনি বলেন-করোনাকালে হাসপাতালের রোগীরা যাতে উন্নত চিকিৎসা সেবা পায় এই জন্য আমি ও চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী দুইটি হাই ফ্লো ন্যাজল ক্যানুলা দিতে গিয়েছিলাম। কিছুদিন আগে মশার মেশিন দিয়েছিলাম। এ পর্যন্ত ২৪ লাখ টাকার ইক্যুইপমেন্ট দিয়েছি। আমরা তো ওখানে রাজনীতি করতে যায়নি।
শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল জানান, আমরা যখন হাসাপাতালে ইক্যুইপমেন্ট দিতে গিয়েছিলাম তখন কলেজের কিছু সাধারণ শিক্ষার্থী দেখতে এসেছিলেন। আমরা চলে যাওয়ার পর তাদের উপর হামলা করা হয়েছে। এই হাসপাতালকে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে আধুনিক যুগোপযোগী চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করছেন। তারই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন-এই হাসপাতালকে ঘিরে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। তারা হাসপাতালের উন্নতি-অগ্রগতি চান না। দীর্ঘদিন এই হাসপাতালকে ঘিরে তারা ব্যবসা-বাণিজ্য করে আসছেন। চিকিৎসা সেবার দিকে তাদের মনযোগ নেই। স্বাস্থ্যখাতে কোন সিন্ডিকেট থাকবে না। উন্নত সেবাদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। যারা চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ঘিরে বাণিজ্য করে আসছে তাদের ইন্ধনেই আমরা চলে আসার পর সাধারণ ছাত্রদের উপর হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে আহতদের কয়েকজন জানান- শিক্ষা উপমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর কলেজের যেসব ছাত্র উপমন্ত্রীকে রিসিভ করতে গিয়েছিলেন তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
এরআগেও শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল চমেক হাসপাতাল পরির্দশনে গেলে সেখানে ছাত্রলীগের একটি পক্ষ অপর পক্ষের উপর হামলা চালিয়েছিল।