আটক হওয়া বিতর্কিত স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান জেকেজি’র মালিক আরিফুল ইসলাম চৌধুরী মাদকাসক্ত

0
14

সম্প্রতি করোনাভাইরাস পরীক্ষায় প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন ওভাল গ্রুপের সিইও আরিফুল চৌধুরী। এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার রিমান্ডও মঞ্জুর করেছেন আদালত। সেই রিমান্ডে পুলিশের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে যাচ্ছেন ওভাল গ্রুপের আরিফুল। সম্প্রতি করোনার নমুনা পরীক্ষার নামে প্রতারণার অভিযোগে বিতর্কিত স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান জেকেজি’র মালিক এই ওভাল গ্রুপ। শুক্রবার (২৭ জুন) পুলিশের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানান, থানার হাজতখানায় বসেও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন ওভাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠান জেকেজি হেলথকেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল হক চৌধুরী। হাজতখানায় থাকা অন্য আসামিদের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করেন। হাজতখানার লাইট ভেঙে ফেলেন, ছিড়ে ফেলেন সিসি ক্যামেরার তার। সূত্র জানায়, আটকের পর থেকেই নানাভাবে পুলিশের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন আরিফুল চৌধুরী। তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য কয়েকটি গাড়ি করে আসে তার কর্মীরা। পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকায় তারা সুবিধা করতে পারেনি। থানার সেলে থাকা আরিফুল চৌধুরী প্রায়শই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে পুলিশের সঙ্গে। সিসি ক্যামেরার তার ছিড়ে ফেলে। সেলের লাইটও ভেঙে ফেলে। এ ছাড়াও ইয়াবা খুঁজে পুলিশের কাছেই।

সূত্র আরও জানায়, খারাপ ব্যবহার করলেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই মামলা তদন্ত করছে পুলিশ। ইতোমধ্যেই ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন হুমায়ুন নামে জেকেজির এক কর্মকর্তা। নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) জাল সনদ বানানো, নমুনা সংগ্রহ করে তা ফেলে দেওয়া ও বাসায় গিয়ে অনৈতিকভাবে নমুনা সংগ্রহ করার তথ্য সে এরইমধ্যে স্বীকার করেছে।

জেকেজির আরেক কর্মকর্তা সাঈদ চৌধুরী আরিফুল হকের মাদকাসক্ত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে জানিয়ে সূত্র বলে, আমরা অভিযানে গিয়ে জেকেজি হেলথ কেয়ারের কার্যালয়ে করোনা সনদ জাল করার বিভিন্নরকম প্রামাণিক দলিল ছাড়াও ইয়াবা খাওয়ার সরঞ্জামাদি পাই। তার আচরণ এতটাই ঔদ্ধত্যপূর্ণ যে তার সঙ্গে সেলে যদি কাউকে রাখা হয় তবে তার সঙ্গেও খারাপ আচরণ করে।

সূত্র জানায়, সেলে একদিন সে অসুস্থ বোধ করার কথা বলে। আমরা সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করি। সে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করলেও আমরা মামলার তদন্তের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছি। আর তাই সে আসলে কী করছে বা কার ধমক দিচ্ছে সেটা আমাদের কাছে মুখ্য না। তেজগাঁও জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুনুর রশীদ জানান, ‘আমরা যাদের প্রথমে আটক করি তারা বাসায় গিয়ে অনৈতিকভাবে নমুনা সংগ্রহ করার বিষয়টি স্বীকার করে। এ ব্যবসা করতে গিয়ে তারা যে করোনার জাল সনদ বানাতো তাও স্বীকার করে। তারা এ বিষয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। তারা বলে আরিফুল হক চৌধুরীর অফিসে তারা গ্রাফিক্সের কাজ করত। সেখান থেকেই তারা জাল সনদ বানাতো।’

তিনি বলেন, `আটক করার পর থেকেই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করতে থাকে। প্রথমে ছয় থেকে সাতটা মাইক্রোবাস এসে তারা সিনক্রিয়েট করার চেষ্টা করে। অপরাধী তো অপরাধীই। তাই এসব বিষয় আমরা তেমন গুরত্ব দিচ্ছি না। তারা যে ধরনের প্রতারণা করেছে সেটি নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আর এজন্য তাদের আমরা রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আবেদন করি। সেই রিমান্ডে এসেও আরিফুল হক চৌধুরী হাজতখানার লাইট ভেঙে ফেলে, সিসি টিভি ভেঙে ফেলেছে। তাও আমরা ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। এখন রিমান্ড চলছে।’

তদন্তের স্বার্থে ইয়াবা চাওয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও হারুন অর রশীদ জানান, ‘যেহেতু এটা একটা তদন্তাধীন বিষয় তাই এই মুহূর্তে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে সে মাদকাসক্ত এ বিষয়টি তার এক সহকর্মী স্বীকার করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা করোনা পরীক্ষা করবে বলে অনেকের কাছ থেকে ল্যাপটপ, কম্পিউটার নিয়েছে। সেগুলো আর ফেরত দিচ্ছে না। তারাও আমাদের কাছে বিচার দিয়েছে। আমরা সেগুলো নিয়েও কাজ করছি, তদন্ত করে যাচ্ছি।’

জেকেজি হেলথকেয়ারের এই অনৈতিক কাজে যাদের যাদের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া হবে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান হারুন অর রশীদ।

উল্লেখ্য, ২৩ জুন জেকেজি হেলথ কেয়ারের সিইও আরিফুল হক চৌধুরী সহ আরও পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ। ২৪ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেঁজগাও থানার এসআই দেওয়ান মো. সবুর আসামিদের আদালতে হাজির করেন। দুই আসামি স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড এবং অপর চার আসামির ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মইনুল ইসলামের আদালতে হুমায়ুন কবির এবং তার স্ত্রী তানজীনা পাটোয়ারী জবানবন্দি প্রদান করেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আরেক মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলাম অপর চার আসামির রিমান্ডের আদেশ দেন। রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন- ওভাল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও জেকেজির সিইও আরিফুল হক চৌধুরী, সাঈদ চৌধুরী, বিপ্লব দাস ও মামুনুর রশীদ।