বিশ্বের ঘরে ঘরে ঢুকে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস।

0
181

বিশ্বের ঘরে ঘরে ঢুকে পড়েছে ‘মানুষের শত্রু’ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। লিফটের বোতাম থেকে কমোডের সিট সবখানেই। শুধু তাই নয়, মানিব্যাগ, আইডি কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, মোবাইল ফোন ও হাতঘড়ির মতো দৈনন্দিন ব্যবহৃত জিনিসেও তার নীরব উপস্থিতি। একটু স্পর্শেই হাতের নাগালে থাকা এসব জিনিস থেকে ছড়িয়ে পড়ছে শরীরে। এভাবে অজান্তেই ঘটছে সংক্রমণ আর পরিণামে মৃত্যু। বিশ্বের ১৯৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এই মহামারী। এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৮৪৮। মৃত্যু ১৬ হাজার ৫১৪ জন।

করোনা ইতোমধ্যেই ‘মানবতার শত্রু’র তকমা পেয়েছে। গত সপ্তাহে (১৯ মার্চ) বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ ছাড়ানোর দিন ভাইরাসটিকে এ তকমা দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ‘ভাইরাসটি মানুষের জন্য নজিরবিহীন হুমকি তৈরি করেছে’ ঘোষণা দেন সংস্থার প্রধান টেড্রোস আডানম গেব্রিয়াসিস। সেই সঙ্গে বিশ্ববাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অভিন্ন এই শত্রুকে পরাজিত করার আহ্বান জানান তিনি। এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে এর বিরুদ্ধে এক নতুন যুদ্ধ ঘোষণা করেন বিশ্বনেতারা। খরচ করছেন কোটি কোটি ডলার। লড়াই করছে লাখ লাখ চিকিৎসক-নার্স। দেশে দেশে নামানো হয়েছে সেনাবাহিনী। কিন্তু কোনো অস্ত্রই কাজে আসছে না। করোনা তার বিজয় নিশান উড়িয়েই চলেছে। মানুষের বিরুদ্ধে করোনার প্রধান অস্ত্র মূলত হাঁচি, কাশি আর থুথু। এসবের মাধ্যমেই বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে সে। কিন্তু এখন সে মানুষের ঘরের মধ্যেও ঢুকে গেছে। ছড়াচ্ছে দৈনন্দিন ব্যবহৃত বস্তুর স্পর্শ থেকেও। যেমনটা বলছেন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার লয়েড স্মিথ ল্যাবের গবেষক আমানদাইন গ্যাম্বল। এই গবেষকের মতে,

হাঁচি, কাশি বা থুথু দিয়ে দূষিত যে কোনো বস্তুই করোনার বাহক হতে পারে।’ গত সপ্তাহে স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণা সাময়িকী ‘নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে’ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, নতুন এই ভাইরাসটি প্লাস্টিক

এমনকি স্টেইনলেস স্টিলের ওপরেও অন্তত দুই থেকে তিনদিন লেপ্টে থাকতে পারে। এর ফলে সিঁড়ির হাতল ও লিফটের বোতাম বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব বস্তুকে মানুষের আরও বড় শত্রু বলে অভিহিত করেছেন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার খ্যাতনামা রোগতত্ত্ববিদ ব্রান্ডন ব্রাউন। ব্রাউন বলেন, ‘আমরা যেসব জিনিস ব্যবহার করি এবং বাহির থেকে ঘরে নিয়ে আসি, এগুলোই আমাদের বড় শত্রু।’ উদাহরণ হিসেবে মানিব্যাগের বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, ‘দোকান থেকে ঘর সর্বত্রই আমরা মানিব্যাগ ব্যবহার করি। হাঁচি-কাশির কারণে খুব সহজেই এটা দূষিত হতে পারে। এছাড়া এর মধ্যে থাকা নগদ টাকা, আইডি কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, পরিচয়পত্র প্রভৃতিতে করোনার জীবাণু লুকিয়ে থাকতে পারে। টয়লেটের সিটও ভয়ংকর সংক্রামক হতে পারে বলে জানান গ্যাম্বল। এক্ষেত্রে সংক্রমণ প্রতিরোধে বসার আগে টয়লেট সিটে জীবাণুনাশক ছিটিয়ে নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি।