চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিমকে নিয়ে একান্তে বৈঠক করেছেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টার পর নগরীর কে সি দে রোডে সিটি নির্বাচনে দলের মেয়র প্রার্থী রেজাউলের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়।

এর একদিন আগে বুধবার বিকেলে নির্বাচনী কার্যালয়টি উদ্বোধন করা হয়।

প্রয়াত নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মালিকানাধীন কে সি দে রোডের জমিটি গত সংসদ নির্বাচনে নওফেলের নির্বাচনী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, রাত ৯টার দিকে ওই কার্যালয়ে আসেন শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল এবং নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বিদায়ী সিটি মেয়র নাছির।

এসময় কার্যালয়ের একটি কক্ষে তারা একান্ত বৈঠকে বসেন। তখন দলের নেতাকর্মীরা কক্ষের বাইরে ছিলেন।

এরপর রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেখানে যান মেয়র প্রার্থী নগর কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক এম রেজাউল করিম চৌধুরী। তারপর তিন নেতা একান্তে আলাপ করেন। রাত ১০টার দিকে ওই বৈঠক শেষ হয়।

বৈঠকের বিষয়ে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, “সিটি নির্বাচন বিষয়ে দলীয় সাংগঠনিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সেখানে দলের মেয়র প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন।”

বৈঠক বিষয়ে মেয়র আ জ ম নাছির সাংবাদিকদের বলেন, “নির্বাচন ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমাদের মধ্যে প্রায় সময় কথা হয়, এটা তারই ধারাবাহিকতা।”
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রয়াত মহিউদ্দিন চৌধুরী ও বিদায়ী মেয়র আ জ ম নাছিরের অনুসারীদের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের।

২০১৫ সালের নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চেয়েও পাননি তিনবারের সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন। সেবার দলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাছির।

এরপর মেয়র নির্বাচিত হলে মহিউদ্দিন চৌধুরীর সাথে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ইস্যুতে নাছিরের বিরোধ ছিল প্রকাশ্য।

মহিউদ্দিনের মৃত্যুর পর চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগে তার অনুসারীরা নওফেলকে ঘিরে সক্রিয় আছেন।

এবার দ্বিতীয় দফায় দলের মনোনয়ন চেয়েও পাননি নাছির। এবার মনোনয়ন পাওয়া রেজাউল দলে মহিউদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর রেজাউল মেয়র নির্বাচিত হলে মহিউদ্দিন চৌধুরীর পথ অনুসরণ করে ও নাছিরের উন্নয়ন কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে সিসিসি পরিচালনা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।