করোনাভাইরাসের আঁতুড়ঘর উহান থেকে তাদের দেশে ফেরানোর আর্তিতে কাঁদছেন পাকিস্তানি পড়ুয়ারা। তবে তাতে ভ্রূক্ষেপ নেই দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের। বরং তারা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, ফেরানো হবে না পাক পড়ুয়াদের। এই পরিস্থিতিতে আটকে পড়া পাকিস্তানিদের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছাপ্রকাশ করেছে ভারত সরকার।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখপাত্র রবিশ কুমার বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ‘পাকিস্তানের তরফ থেকে উহানে আটকে পড়া তাদের দেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দিল্লির কাছে কোনো আবেদন করা হয়নি। তেমন পরিস্থিতি দেখা দিলে এবং প্রয়োজনীয় রসদ মজুত থাকলে ভারত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখবে।’

করোনাভাইরাস আতঙ্কে চীন থেকে নিজেদের নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নিচ্ছে ভারতসহ বিভিন্ন দেশ। ব্যতিক্রম কেবলই পাকিস্তান। এমন সিদ্ধান্তের পেছনে ইমরান খান সরকারের যুক্তি, পাকিস্তানে চীনা ভাইরাস সংক্রমণের চিকিৎ‌সার পরিকাঠামো নেই। তাই চীনেই থাকুক পাক পড়ুয়ারা।

সম্প্রতি ভারতের ছাত্র-ছাত্রীদের দেশে ফেরা দেখে নিজ দেশের কাছে সাহায্য প্রার্থনায় কাকুতি মিনতি করে দেখা যায় চীনের নানা প্রান্তে বসবাসরত পাকিস্তানি ছাত্র-ছাত্রীদের। এমনই এক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেখানে এক পাকিস্তানি ছাত্র দেখাচ্ছেন যে, ভারতের ছাত্র-ছাত্রীদের দেশে ফেরাতে উহান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশেষ বাসে করে এয়ারপোর্টের দিকে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

উহান বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই পাকিস্তানি পড়ুয়া নিজের দেশের সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলছেন, ‘বাংলাদেশি পড়ুয়াদেরও কিছুক্ষণের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। বাদ রয়ে গেলাম আমরা পাকিস্তানিরাই। আমরা মরে গেলেও আমাদের সরকার আমাদের ফেরাবে না। পাকিস্তানের সরকার আপনাদের লজ্জা হওয়া উচিত! ভারতের কাছে একটু অন্তত শিক্ষা নিন।’

তবে এত বিদ্রুপ, এত কাকুতি মিনতির পরও নিজ সিদ্ধান্তে অটুট পাকিস্তান। চীনে পাক দূত নাঘমা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশে চিকিৎ‌সার পরিকাঠামোর অভাবে পাক পড়ুয়াদের ফেরানো হচ্ছে না।

জিও নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাত্‍‌কারে তিনি বলেছেন, কয়েকজন পড়ুয়া উহানে খাবার ও অন্যান্য দ্রব্যের অভাবের কথা ভেবে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। কিন্তু দূতাবাস তাদের কথা সবসময় ভাবছে এবং প্রতিনিয়ত হুবেই প্রদেশের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।