আপনার জীবনে খুব খেয়াল করলে দেখবেন, কিছু মানুষ আছে যাদের চেহারা দেখলেও প্রাচীনকালের পঞ্চাশ ওয়াট বাত্তির মত লাগবে।

ধরেন, আপনি দারুণ একটা প্ল্যান নিয়ে হাজির হয়েছেন। বাস্তবায়নের দারপ্রান্তে।

•বাট ইউ নিড সাম ইনস্পিরেশন। গেলেন এমন এক আপনজনের কাছে, যার চেহারার কোনায় কোনায় সমস্যা আর বিরক্তির বহিঃপ্রকাশ

চেহারা আল্লাহ তাআলা যাই দেক না কেন ,মুখে একটু হাসি তো রাখাই যায়।

এমন মানুষের কাছে যদি স্টিভ জবস ও এপল খোলার আগে ইন্সপিরেশনের জন্য যেতো

তাহলে স্টিভ জবস এখন সান ফ্রান্সিসকোর বাজারে আপেল বেচত আর আমরা নোকিয়া ১১০০ মোবাইলে স্নেক খেলতাম।

এসব মানুষের কাছে কোনদিন ইন্সপায়ার্ড হতে যাবেন না।কারণ আপনি নিজেই উল্টা ডিপ্রেশনে পড়ে যাবেন তাদের মুখের ভঙ্গিমা আর লো লেভেল এনার্জি দেখে ।

আনপ্রোডাক্টিভ মানুষের সাথে থাকবেন আপনি নিজেও আনপ্রোডাক্টিভ হয়ে যাবেন। সরি টু সে বন্ধুত্বের খাতিরেও আনপ্রোডাক্টিভ মানুষের সাথে থাকলে আপনার ক্যারিয়ার কোন দিশা খুঁজে পাবেননা।

আর কিছু বন্ধু বান্ধব তো থাকেই আজীবন ডিপ্রেশনে। ঘরে চাল নাই জীবনে BF/GF নাই ডালে লবন নাই কি আছে জীবনে।
কিন্তু আমরা আবার বহু উদার। এসব ডিপ্রেসড মানুষকে আমরা ডিপ্রেশন থেকে উঠাতে চাই। আমরা এটাই বুঝিনা যে কিছু মানুষ সিম্প্যাথি নিতে ভালোবাসে, কিছু মানুষের কাছে তার আত্মঅহমিকা অনেক বড়,তারা আসলে জেনে শুনে পেইনে থাকতে ভালোবাসে ।

এদের আপনি যতই বলবেন আর যতই বুঝাবেন ,”এরা বলবে সব তো জানিরে ভাই, কিন্তু বের হয়ে আসতে পারিনা
আরে বাবা তুমি তো এফোর্টই দাওনি, জেনে আর কি লাভ হলো ??

-এরা বলবে,”বের হয়ে আসতে চেষ্টা করতে কি আমার কিছু করতে হবে? টাকা যাবে?
সময় দিতে হবে

একজন ব্যাক্তি সে নিজের ইম্প্রুভমেন্টের জন্য আপনাকে কন্ডিশন ছুঁড়লে সে আর কি করতে প্রস্তুত নিজে নিজে বুঝে নিন

তাহলে কি? তাহলে কি বন্ধুত্ব করাই যাবেনা? আজ্ঞে যাবে। বাট এসব টক্সিক বন্ধুদের সাথে সময় অপব্যয় করা যাবেনা।

একটা সোজা বাক্য মাথায় রাখবেন, সাহায্য তাকেই করা যায়, যে সত্যিই সাহায্যের জন্য মানসিকভাবে আকুতি জানায়, নিজের চেষ্টা দেখায় , আর যারা সাহায্য চায়না তারা সারাদিন আপনাকে গল্পই শুনাতে থাকবে আর কাজের বেলায় শূন্য । এসব মানুষ থেকে জেনে বুঝে দূরে থাকবেন ।

কারণ যেদিন আপনার পকেটে একটাও টাকা থাকবে না ,ঘরে চাল থাকবে না ,পাশে মানুষ থাকবে না লিখে রাখুন সেদিন কোন জিগার কা দোস্ত থাকবে না। ইয়েস ।

বিশ্বাস করুন আর নাই করুন , বাংলাদেশে এখন টাকা উড়ে এন্ড টাইম ইজ দা অনলি কারেন্সি।

আপনার পাশের ছেলেটা স্টাডি করা অবস্থাতেই পাঠাও রাইড দেয়। ও গ্র‍্যাজুয়েশন শে্ষ করতে করতে ওর একাউন্টে দুই লাখ টাকা থাকবে। আর আপনি? ঘন্টা।

কারণ সে আপনার বেশ আগেই জীবন যুদ্ধে নেমেছে, সময়কে গুনেছে ।
তাই সে এগিয়ে গেছে। মানুষের কাছে আজ সুযোগ অনেক, কিন্তু টাইম অনেক কম।

আপনার পাশের মেয়েটা অনলাইনে পাঁচটা পেইজে কাজ করে ১৫ হাজার টাকা কামায়। আর আপনি হয়তো পোস্ট দিচ্ছেন…

” জীবনের সব অতীত ভুলে যেতে চাই। ”
ওয়াস্টেজ অফ টাইম।

অলস বসা থাকবা ,সরকারকে গালি দিবা ,দেশকে গালি দিবা ভাগ্যকে গালি দিবা। কাজের কাজ কিচ্ছু হবেনা।

একটা তথ্য জেনে রাখ শুধুমাত্র ঢাকা শহরে রোজ ২০ হাজার ছাত্র সাইকেলে করে অনলাইনের প্রোডাক্ট কুরিয়ার সার্ভিস দিয়ে দিনে ৬০০ টাকা কামায় মাসে ১৮০০০ টাকা কামায়।

তোমাদের মতই ছেলে মেয়ে।

কেন ,কারণ হাতে সময় বেশী নাই ,কাজ অনেক। জীবনে পাওয়ার আছে ,করার আছে অনেক। বাঁচব কয়দিন?

টাইম ইজ দা কারেন্সি নাউ।ভ্যালু ইট

লেখা-হাফসা ঝুমুর