ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষোভ প্রকাশ করে কমিটি ভেঙে দেওয়ার কথা বলার পর নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করে নিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। আর এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাইবেন বলেও জানিয়েছেন ছাত্রলীগের এই কেন্দ্রীয় নেতা।

গোলাম রাব্বানী আজ রবিবার একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন।

গতকাল শনিবার আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের যৌথ সভায় ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উপস্থিত নেতারা সমালোচনা করেন। এর একপর্যায়ে ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দিতে বলেন শেখ হাসিনা। সে সময় ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে বিরক্তিও প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

ছাত্রলীগের নেতাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বিতর্কিত ব্যক্তিদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা দেওয়া, দুপুরের আগে ঘুম থেকে না ওঠা, অনৈতিক আর্থিক লেনদেন ইত্যাদি।

শনিবার ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েও ফিরে আসেন পরিস্থিতি অনুকূলে নয় বুঝতে পেরে।

এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর আজ একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘আগের কমিটির প্যাটার্নের চেয়ে এই কমিটি একটু ভিন্ন। আপা নিজে পছন্দ করে কমিটি দিয়েছেন। তিনি আমাদের মাতৃতুল্য। সন্তান ভুল করলে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ কিংবা উষ্মা প্রকাশ করতেই পারেন। সেটা তিনি করেছেন যে ‘এরা বাঁদরামি শুরু করেছে। এদের দিয়ে হবে না’। আমরা এটাই শুনেছি।’

এ সময় রাব্বানী দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী কমিটি ভাঙা নিয়ে কোনো বক্তব্য দেননি।

তবে, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ ও হতাশার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে রাব্বানি বলেন, ‘কিছু বিষয় নিয়ে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) কমেন্ট করেছেন যেগুলো তিনি ছাত্রলীগের কাছে প্রত্যাশা করেন না। যেহেতু এই ছাত্রলীগকে তিনি নিজে পছন্দ করে তার স্নেহের ছায়াতলে নিয়েছেন, তাই এর প্রতি আপার প্রত্যাশা অনেক বেশি। যেটা আমরা সে পরিমাণ পূরণ করতে পারছি না। এটা আমাদের ব্যর্থতা। আমরা সে ব্যর্থতা স্বীকার করে নিচ্ছি।’

আর ভুলভ্রান্তি ও ব্যর্থতার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাইবেন বলেও জানান রাব্বানী। বলেন, `আপা আমাদের মায়ের তুল্য। মায়ের কাছে আমরা ভুল করলে আমরা ক্ষমা চাইব। তারা কাছে ক্ষমা চেয়ে আমরা চেষ্টা করব তিনি যে ভুলগুলোর কথা বলেছেন সেগুলো না করার জন্য। কিছু পয়েন্ট আমাদের কাছে এসেছে যেগুলো নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন। তবে মেজর বিষয়গুলো আমাদের আচরণগত। সদিচ্ছা থাকলে সেগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

রাব্বানী বলেন, `ছাত্রলীগে আমরা পজিটিভ চেঞ্জের জন্য কাজ করছি। সে চেঞ্জটা ইনশাআল্লাহ আসবে।’

‘সিনিয়ররা বলেছেন কিছু বিষয় আসছে, সেগুলো আমরা শুধরে নিয়ে আপা যেভাবে চান সেভাবেই দেশরত্নের স্বপ্নের ছাত্রলীগ, প্রত্যাশিত সেই ইতিবাচক ধারার মডেল ছাত্রলীগ গড়তে চেষ্টা করব।’